পুজোর আগেই ঘোষণা হবে বাংলার নয়া শিল্পনীতি, ৩৩ শিল্প সংস্থাকে জমি দিল রাজ্য
৩৬৫ দিন। আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই ঘোষণা হবে পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতি। আজ মিলন মেলা প্রাঙ্গণে ৩৩ শিল্প সংস্থার হাতে নয়া শিল্প স্থাপনের জন্য জমি তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে এমন ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে শিল্পপতিদের বাংলায় বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, ১৫৫-৩৩৫ টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে। যদি কোথাও কেউ হুমকি দেয় বা তোলাবাজি করতে আসে, তাহলে এই নম্বরে জানালেই সরকার পদক্ষেপ করবে।
আজকের অনুষ্ঠানে মোট ৩৩ শিল্প সংস্থাকে জমি বিতরণ করা হয় যেখানে মোট প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং প্রায় ৬২ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেমিকন্ডাক্টর, ডিফেন্স ও অ্যামুনেশন, সোলার, ইলেক্ট্রিক্যাল ভেহিক্যালস, ফার্মা, স্টিল, ফুড প্রসেসিং, এমএসএমই, বস্ত্রশিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং – শিল্পের জন্য জমি দেওয়া হয়। তবে শুধুমাত্র জমি নিয়ে ফেলে রাখলে চলবে না বলে আজকের অনুষ্ঠান থেকে হুঁশিয়ারি দেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেন, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৯-এর মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এমনটা যেন না হয় যে, ২০২৯-এর ডিসেম্বরের পর শিল্পপতিদের কাছ থেকে জমি ফেরত নিতে হয়। বরং ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে যাতে মুখ্যমন্ত্রী প্রকল্পের উদ্বোধন করতে পারেন তার ব্যবস্থা করতে হবে।
রাজ্যে বিনিয়োগ করবে আদানি ও আম্বানিরা
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই একান্ত বৈঠক করেছেন আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানি এবং আম্বানি গোষ্ঠীর কর্ণধার মুকেশ আম্বানির সঙ্গে। এক দুই বৈঠকের ফলশ্রুতি হিসেবে রাজ্যের এই দুই শিল্প সংস্থা বড় আকারের বিনিয়োগ করতে আসছে বলে আজ জানান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আম্বানিরা পাঁচ থেকে ছটি সেক্টরে কাজ করতে চান রাজ্যে। খুব তাড়াতাড়ি তাঁদের একটি দলও আসবে বাংলায়। পাশাপাশি, আগামীকাল গৌতম আদানির হাসপাতালের ভূমিপুজো হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের উড়ান স্কিমেও সই করা হবে সামনের সপ্তাহে। কলাইকুন্ডা, বালুরঘাট, পুরুলিয়া সহ মোট পাঁচটি বিমানবন্দর করা হবে পশ্চিমবঙ্গে।
শিল্প নিয়ে আক্রমণ সিপিএম ও তৃণমূলকে
পশ্চিমবঙ্গে শিল্প স্থাপনে অনীহা দেখানোর অভিযোগ তুলে আজ বিগত সিপিএম সরকার ও তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, সিপিএম সব কিছু ধ্বংস করেছে। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে বলে দিলেন তিনি জমি দেবেন না, খুঁজে নিতে হবে। এটা কোনও জমি নীতি হতে পারে না। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাঁর দল খুব নেতিবাচক ছিল শিল্পায়নের বিষয়ে। আর মমতার নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই সিঙ্গুর থেকে টাটারা চলে গিয়েছিলেন। আগের সরকারে আমি কিছুদিন ছিলাম। সবকিছুই ছিল নেগেটিভ। শুধু ৫০০ টাকা করে ভাতা। সারা দেশ বলছিল আমরা আত্মনির্ভর ভারত হব, আর পশ্চিমবঙ্গ বলছিল আমরা ভাতা নির্ভর হব। আগের সরকার শিল্প স্থাপনে ইনসেন্টিভ শব্দটিকেই মুছে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ৫ হাজার কোটি টাকার একটা ছোট তহবিল করেছে ইনসেন্টিভের জন্য।
রোডরোলার চালিয়ে মাদকদ্রব্য ধ্বংস
২০১৯ সালের মধ্যে নেশা মুক্ত ভারত গড়ার যে লক্ষ্যমাত্রা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ধার্য করে দিয়েছেন তা পূরণ করার জন্য আজ ইকো পার্কে ৩১ কোটি টাকার বাজেয়াপ্ত হওয়ার নেশার সামগ্রী রোলার চালিয়ে ধ্বংস করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইকো পার্কে বুলডোজার চালিয়ে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপের বোতল গুঁড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ৩ লক্ষ ১০ হাজার নিষিদ্ধ কাফ সিরাপের বোতল। কলকাতার আগে বালুরঘাটে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১১ রাজ্যে নেওয়া হয়েছে এই কর্মসূচি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নেশার বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার অভিযান চালানো হল। বালুরঘাটের পর ইকোপার্কে এই অভিযান হল। বুলডোজার দিয়ে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপের বোতল ভাঙা হল। কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজকে বার্তা দেওয়া হল। নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। আমরা বার্তা দিলাম যুব সমাজকে নেশামুক্ত করার। নিষিদ্ধ ড্রাগ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তি হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় বছরের পর বছর জেলে কাটাতে হবে।
পুজোর আগে ঢেলে সাজানো হলো অগ্নিনিরাপত্তা
দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পরিষেবায় যুক্ত হল ২২৬ আধুনিক ফায়ার ফাইটিং ভেহিকেল ও সরঞ্জাম। আজ রেড রোডে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন যানগুলির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দমকল ও জরুরি পরিষেবা দফতরের প্রতিমন্ত্রী, ডিরেক্টর জেনারেল, অতিরিক্ত মুখ্যসচিব-সহ পদস্থ আধিকারিকরা। ২.৫ কিলোলিটার জলধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ১৯৮টি মিড সাইজ ওয়াটার টেন্ডার, ২৫টি ৬ কিলোলিটার ক্ষমতার ওয়াটার টেন্ডার এবং ৩টি ৩৬ মিটার উচ্চতার আর্টিকুলেটিং ওয়াটার টাওয়ারের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই নতুন সরঞ্জামগুলি কিনতে খরচ হয়েছে প্রায় ৯৪ কোটি টাকা। দমকল দফতরে কর্মীসঙ্কট দূর করতে একগুচ্ছ নতুন নিয়োগের ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে দমকলে ১৪০০ শূন্যপদ পূরণ করা হবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে আরও ২৫০০ নতুন পদ তৈরি করা হবে।





