৩৬৫ দিন।অনন্ত রায়। রবীন্দ্র সরোবরের পদ্মপুকুরের জল যাতে স্বচ্ছ ও নির্মল থাকে, তার জন্য অভিযানে নেমেছে কে এম ডি এ। পুর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই রবীন্দ্র সরোবর পরিদর্শন করার পর এই কাজ শুরু হয়েছে বলে মর্নিং ওয়ার্কার দের একাংশের দাবি।তাঁদের মতে, রবীন্দ্র সরোবরের পদ্মপুকুরের,সৌন্দর্যায়নের কাজ করা হোক,কিন্তু এই সময়ে নয়। কারণ এটি পাখিদের ব্রিডিং সিজন।এই সময়ে সরোবরের ঝোপঝাড় ও গাছ গাছালি উপড়ে ফেলা হলে পাখিদের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাস্তুতন্ত্র বাঁচাতে অন্য সময়ে সংস্কারের আবেদন সকলের।
মর্নিং ওয়ার্কার দের নজরে আসতেই সরব বার্ড ওয়াচার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সহ অন্যান্য পক্ষীবিদরা-
গত ১৩ সেপ্টেম্বর মর্নিংওয়াকে এসে বিষয়টি নজরে পড়ে কসবার বাসিন্দা নন্দিতা সরকারের। তিনি, রবীন্দ্র সরোবরের পদ্মপুকুর সংস্কারের ছবি ক্যামেরা বন্দি করেন। তিনি দেখান অসময়ে পুকুরে বাসা বাঁধা পাখিদের ক্ষতি হচ্ছে। বর্ষাকালে যেসব পাখি, বাচ্চাদের জন্ম দিয়েছে তারা সমূহ সমস্যার মুখে। তিনি ফেলো মর্নিং ওয়ার্কার দের কাছে ও বার্ড লাভার দের কাছে এই ব্রিডিং সিজনে পদ্মপুকুরের সংস্কার নিয়ে আপত্তি তোলেন। তার মতে, প্লাস্টিক বা বর্জ্য এখন তুলে ফেলে স্বচ্ছ ও নির্মল রাখা হোক জলাশয়। কিন্তু যে পদ্মপুকুর এইসব পাখিদের বেড়ে ওঠার জায়গা তাতে যেন হাত না পড়ে। কিভাবে জাকানা,ম্যুর হেন সহ পক্ষীদের বাস্তুতন্ত্রে আঘাত লাগছে? বিষয়টি নজরে পড়তেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন বার্ড ওয়াচার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। সংগঠনের সম্পাদক সুজন চট্টোপাধ্যায় বলেন, নিশ্চয়ই পুকুরের আর্বজনা পরিষ্কার করার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা চাই পাখিদের বাসস্থান বাঁচিয়ে এই প্রজননের সময় যেন পদ্মপুকুরে কিছু না করা হয়। শীতকালে করা হলে ভালো হয়।
কেন সেপ্টেম্বর মাসে রবীন্দ্র সরোবরের পদ্মপুকুরের ক্লিননিনেস ড্রাইভ নিয়ে আশঙ্কিত পরিবেশবিদ ও পক্ষীবিদরা ?
১৯১ একর জুড়ে রয়েছে এই রবীন্দ্র সরোবর। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী এই সরোবরে ১০০ – র কাছে পাখি আনাগোনা করে। শীতকালে বহু পরিযায়ী পাখি আসে। হোয়াইট ব্রেস্টেড ওয়াটার হেন, ব্রোঞ্জ উইং জাকানা সহ হরেক পাখি এই আগস্ট- সেপ্টেম্বরে প্রজনন করে। বাচ্চা দেয়,পাখিদের শাবকেরা পদ্ম পাতার আড়ালে খেলা করে। শীতল জলে আরামে থেকে তিল তিল করে বড় হয়ে ওঠে, মায়েদের স্নেহ-মমতায়। এখন সেই শাবকদের থাকার জায়গায় যদি হাত পড়ে, গাছ গাছালি বা জলজ উদ্ভিদ যদি না থাকে তাহলে কী আঁকড়ে ধরে তারা থাকবে, এই প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশ বিদ সৌমেন্দ্রনাথ ঘোষ, ও পক্ষী প্রেমী সুদীপ ঘোষ। সুদীপ ঘোষ বাস্তুতন্ত্র বাঁচিয়ে রাখার আবেদন করেন।
গত কয়েক দিনের মতোই রবিবার ও পদ্মপুকুরের জলজ উদ্ভিদ সরানোর কাজ চলে,সিদ্ধান্ত আরও একবার ভেবে দেখার আর্জি
জলাশয় থেকে পদ্মগাছ ও কচুরিপানা সরিয়ে নেওয়ার ফলে ক্ষতির মুখে পাখিরা। পাখিপ্রেমীদের সতর্কবার্তা, জলাশয় থেকে নানা গাছপালা পরিষ্কার করার মাশুল দিতে হচ্ছে পাখিদের, প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে তাদের। জল পিতি, ম্যূর হেন, ডাক পাখি বর্তমানে বড় একটা দেখা মেলে না। তারা যদি অস্তিত্বের সংকটের মুখে পড়ে তাহলে কি হবে? রবীন্দ্র সরোবরের মর্নিং ওয়া কে যারা আসেন, তাদের মনে এই প্রশ্ন উঠেছে।প্রশাসনের কাছে পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানান তারা।কে এম ডি এ ও নগরোন্নয়ন দফতরের নজরে আনার জন্য চেষ্টা চলছে
এই সময়ে শীতের পরিযায়ী পাখিরাও আসতে শুরু করে। ব্রাউন-ব্রেস্টেড ফ্লাইক্যাচার, ইন্ডিয়ান ব্লু রবিন এবং লার্জ-বি এই জলাশয় পাখি, মাছ, জলজ উদ্ভিদ, পোকামাকড়, উভচর, সরীসৃপ এবং অসংখ্য জীবের থাকার এই বাস্তুতন্ত্র কলকাতার ফুসফুস বলে পরিবেশ বিদরা মনে করেন। তাঁদের মতে, মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীদের জন্য সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখা দরকার। রাবীন্দ্র সরোবরকে প্লাস্টিক, আবর্জনা ও মানুষের তৈরি বর্জ্য থেকে মুক্ত রাখা উচিত। তবে পরিষ্কার করার নামে এমন কোনো কাজ করা উচিত নয় এই জলজ জীবেরা জীবেরা বাস্তুচ্যুত হয়।
কচুরিপানা, পদ্মপাতা তুলে নিলে পাখি বাঁচবে না
রবীন্দ্র সরোবর নিয়ে পুরমন্ত্রীর কাছে আবেদন বার্ড ওয়াচারদের




