এবার রেজিনগরে নির্দল প্রার্থী গ্রেফতার, হুমায়ুনকে নোটিশ

৩৬৫ দিন। নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে এই মুহূর্তে তিনি জেল হেফাজতে। নন্দীগ্রামের মিলন প্রধানের পর রেজিনগরেও এবার গ্রেপ্তার নির্দল প্রার্থী সফিউল ইসলাম। বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে যেভাবে একের পর এক বিরোধী প্রার্থীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে তার প্রতিবাদ করেছে রাজনৈতিক মহল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত প্রার্থীর নাম সফিউল ইসলাম। গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। শনিবার বিকালে একটি পুরনো মামলায় ডোমকল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করল নওদা থানার পুলিশ। আগামী কাল, রবিবার ধৃতকে আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বাড়ি নওদা থানার বটুকনাথপুর গ্রামে। পুলিশের দাবি, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে নওদার পাটিকাবাড়ি এলাকায় আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাতেই সফিউল ইসলাম অভিযুক্ত ছিলেন। এই গ্রেপ্তারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই দাবি করছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি সহ বিরোধীরা। গ্রেপ্তারির পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রেজিনগরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ। তিনি বলেন, “এইভাবে ভোটে লড়াই করা যায় না। ভোট ঘোষণা হতেই দলের একের পর এক কর্মীকে পুরনো মিথ্যে মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাহলে কী ভরসায় মানুষ আমাদের ভোট দিতে আসবে? এটা বিরোধীদের ভয় দেখানোর কৌশল। সফিউল এর গ্রেপ্তারি প্রমাণ করে শাসকদল ভয় পেয়েছে।”
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে সমর্থন করার পরেই শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানকার কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে চারটি পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় একটি খুনের মামলায় নাম জড়িয়েছিল তাঁর। নন্দীগ্রাম ও খেজুরিতে খুন ও অস্ত্র আইনে চারটি মামলা রয়েছে মিলনের নামে। প্রায় ১৯ বছর পুরনো মামলায় শুক্রবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার তাঁকে হলদিয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ১৪ দিন জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। উপনির্বাচনের মুখে বিরোধী প্রার্থীদের টার্গেট করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধী শিবির।
হুমায়ুনকে পুলিশি তলব
বিতর্কিত অডিও টেপ মামলায় রেজিনগরে উপনির্বাচনের আগে এবার তলব করা হল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীরকে। শনিবার বিকেলে হুমায়নের বাড়িতে পৌঁছে যায় বহরমপুর থানার পুলিশ। দরজায় নক করতে হুমায়ুনের ছেলে রেজিনগরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গোলাম নবি আজাদ দরজা খোলেন। পুলিশকে তিনি জানান, হুমায়ুন বাড়িতে নেই। তার হাতেই নোটিশ তুলে দেয় পুলিশ। সোমবার হুমায়ুনকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন ও এক ব্যক্তির অডিও টেপ সামনে আসে। পুলিশ সূত্রে খবর, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ২৯৯,১৪৮, ১৫২, ১৯২, ১৯৬ (২), ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। নোটিসে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ১১টার সময় বহরমপুর থানায় হাজিরা দিতে হবে হুমায়ুনকে। পুলিশি সমন নিয়ে হুমায়ুন বলেন, ‘‘আমি বাড়িতে নেই। শুনলাম বাড়িতে পুলিশ এসে নোটিস দিয়েছে। এর আগেও এ সব করেছে। তবে ভোটের আগে ভয় দেখানোর চেষ্টা ছাড়া এ সব কিছুই না।’’ অন্যদিকে ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বি টিমের বিধায়ক পরেশরাম দাসকে ফের তলব করেছে সিআইডি। সোমবার ভবানীভবনে দুপুর ১২ টায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিধায়ককে। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীদের উপর হামলা ও অস্ত্র আইনেও মামলা রুজু হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। আগেও তিনবার বিধায়ককে এই মামলায় তলব করে সিআইডি। কিন্তু একবারও তিনি সে পথ মাড়াননি। শনিবার পরেশরাম দাসকে চতুর্থ সমন পাঠানো হয়েছে।

Scroll to Top