তৃণমূলের নতুন নামে এক শব্দ জুড়ল
মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস

৩৬৫ দিন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৈরি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ঘাসের উপর জোড়া ফুল প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ করার কথা আগেই জানিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এবারে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে অস্থায়ীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল বি শিবিরের জন্য নতুন নাম এবং প্রতীক বরাদ্দ করলো জাতীয় নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল লড়াই করবে মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নামে, যাদের নির্বাচনী প্রতীক করা হয়েছে ফুটবল খেলোয়াড়। অন্যদিকে তৃণমূল বি শিবিরের জন্য কমিশন বরাদ্দ করেছে ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস নাম এবং তাদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে খাম প্রতীক। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও ত্রিপুরা— এই তিন রাজ্যেই উভয় দলকে আপাতত স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে গণ্য করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসারদের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩৬ ধারা মেনে অন্যান্য নিয়মাবলি পূরণ সাপেক্ষে প্রার্থীদের এই নতুন নাম ও প্রতীকের অধীনেই মনোনয়নপত্র পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন তাদের খাম প্রতীক দেওয়ার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সিম্বলটা আমরা ফার্স্ট প্রেফারেন্সের সিম্বলই পেয়েছি। কিন্তু, নামটা থার্ড প্রেফারেন্সের নাম। এখন আর বলতে কোনও অসুবিধা নেই। আমরা প্রথম প্রেফারেন্সে চেয়েছিলাম- ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস। সেকেন্ড প্রেফারেন্সে চেয়েছিলাম- ওয়েস্ট বেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস। আর থার্ড প্রেফারেন্সে চেয়েছিলাম- ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশন এখন জানিয়েছে যে, প্রথম দু’টো নাম কী কারণে গ্রহণ দেওয়া সম্ভব নয়। তৃতীয় নামটা তারা অ্যালট করেছে। ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস। সিম্বলের ক্ষেত্রে আমরা চেয়েছিলাম, ফার্স্ট চয়েস ছিল এনভেলপ। খাম। সেই ফার্স্ট চয়েসই নির্বাচন কমিশন দিয়েছে। এই চিঠি এসেছে।
প্রতীক ফ্রিজের ঘটনা ঘটেছে আগেও
সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ঘাসের উপর জোড়া ফুল প্রতীক জাতীয় নির্বাচন কমিশন সাময়িকভাবে ফ্রিজ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেমন ঘটনা ভারতীয় রাজনীতিতে রয়েছে আগেও। ২০২২ সালে উদ্ধব ঠাকরে এবং একনাথ শিন্ডের মধ্যে যখন শিবসেনার নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়াই চলছে, ঠিক তখনই আন্ধেরি ইস্ট বিধানসভায় উপনির্বাচন ঘোষণা হয়। তখন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে ভারতের নির্বাচন কমিশন শিবসেনা পার্টির নাম এবং তীর-ধনুক প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ করে দেয়। পরবর্তীতে, একনাথ শিবিরকে দেওয়া হয় দুই তরবারি এবং ঢাল প্রতীক এবং উদ্ধব শিবির পায় জ্বলন্ত মশাল।
আবার বিহারের লোক জনশক্তি পার্টির প্রেসিডেন্ট রাম বিলাস পাসওয়ানের মৃত্যুর পর, তাঁর ছেলে চিরাগ ও ভাই পশুপতি পারসের মধ্যে দলের মালিকানা নিয়ে লড়াই শুরু হয়। তখন নির্বাচন কমিশন দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে দলের নাম বরাদ্দ করে রাম বিলাসের ভাইকে। তবে লোক জনশক্তি পার্টির মূল প্রতীক বাংলো কোনও পক্ষকেই দেয়নি নির্বাচন কমিশন।

Scroll to Top