৩৬৫ দিন। আমরা অসমে কংগ্রেসকে সমর্থন দিচ্ছি। ঠিক একই ভাবে নন্দীগ্রামেও আমরা কংগ্রেসকে সমর্থন করছি। দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী দিনে ভারতবর্ষ থেকে বিজেপিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য ইন্ডিয়া জোটের স্বার্থে আমরা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করলাম। এভাবেই আজ কালীঘাটে নিজের বাসভবন থেকে নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি রেজিনগরের উপনির্বাচন নিয়ে তিনি জানান, সেখানে কী করা হবে তা উপযুক্ত সময়ে ঠিক করা হবে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে যেভাবে গোটা দেশ থেকে বিজেপিকে হারানোর জন্য বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ইন্ডিয়া জোট গঠন করেছিল সেই জোটকে আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে শক্তিশালী করার জন্য মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হল বলে জানিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, আমি চাই বিজেপি দেশ থেকে সরে যাক। আমরা শক্তভাবে ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গেই রয়েছি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী গতকালই আমাকে ফোন করেছিলেন। এই উপনির্বাচনে আমরা আমাদের সিস্টার পার্টি এবং স্বাভাবিক বন্ধুদের সমর্থন করতেই পারি।
নতুন প্রতীকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ইন্দিরা
ইতিহাস বলে ১৯৬৯ সালে তৎকালীন কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসে জোড়া বলদ প্রতীকে নতুন কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। পরবর্তীকালে ১৯৭৭ সালে আবার গাইবাছুর প্রতীকে কংগ্রেস গড়েন। এরপরে তৃতীয়বার দেশের মানুষকে ভরা ভয় দেওয়ার চিহ্ন হাত-প্রতীকে গঠন করেন কংগ্রেস (ইন্ডিয়া:ইন্দিরা)। সেই প্রতীকেই প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত হন। ঘটনাচক্রে ইন্দিরার তৈরি সেই কংগ্রেসেই মিশে যায় ভারতের জাতীয় কংগ্রেস।
তীব্র আক্রমণ নির্বাচন কমিশনকে আজ গণতন্ত্রের কালো অধ্যায়। অগণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মধ্যরাতে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে। যদিও এটা অন্তর্বর্তী নির্দেশ, তবুও আমরা মাথানত করব না। ২৮ বছরের দলের প্রতীক এভাবে কীভাবে ছিনিয়ে নেওয়া যেতে পারে? দলের অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করে দিয়েছে। অনেক তো বেনামি রাজনৈতিক দল আছে, তাদের প্রতীক তো নিচ্ছে না।
প্রতি পাঁচ বছর অন্তর আমরা একদম তৃণমূল স্তর থেকেই দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন করি। আমাদের সব সাংগঠনিক নির্বাচন আমরা করেছি। তার রেকর্ড আছে, কমিশনকেও সব রেকর্ড দেওয়া আছে। তাও এই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এটা ঠিক নয়। উপনির্বাচন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চলছে বলে আমরা সাময়িকভাবে বিকল্প কিছু নাম ও প্রতীকের তালিকা জমা দিয়েছি। এর অর্থ এই নয় যে আমরা যা হয়েছে, তা মেনে নিয়েছি। আমরা আমাদের পুরনো প্রতীকে ফিরে যাব। আমি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যেতে পারি না। এই দল আমি প্রতিষ্ঠা করেছি এবং ২৯ বছরের লড়াই, ত্যাগ ও রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে তুলেছি। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, এই দল আমার অংশ হয়ে থাকবে এবং আমাদের কর্মীদের সঙ্গেই থাকবে। এত কিছুর পরেও আমরা কখনও ভাবিনি যে কেউ আমাদের দলের নাম ও প্রতীক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। এটি ২৯ বছরের পুরনো দল। আমি এই দলের প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারপার্সন। আমাদের সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলর, কর্মী ও সমর্থকরা দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এই সংগঠন তৈরি করেছেন। তীব্র আক্রমণ তৃণমূল-বি শিবিরকে কারা আসল তৃণমূল আর কারা ভেকধারী সেটা প্রমাণ হয়ে গেছে। যদি ওরা তৃণমূলকে সত্যিই ভালবাসতো, তাহলে তৃণমূলের প্রতীক কেড়ে নিত না। যে গদ্দাররা এটা করল ওরা তৃণমূলকে ভালবাসে না। নিজেদের ভালবাসে, পরিবারকে ভালবাসে। প্রত্যেকটা চোর-ডাকাত, ওরা এখন বিজেপির দুই নম্বর।
নন্দীগ্রামে সঞ্চিতার মনোনয়ন প্রত্যাহার
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতার মনোনীত প্রার্থীর সঞ্চিতা প্রধান দে যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরে হঠাৎ করে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তার পিছনে বিজেপির ভয় দেখানোর রাজনীতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। তিনি দাবি করেছেন, সঞ্চিতার মাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁকে নানাভাবে ভয় দেখানো হয়েছিল। এমনকি ওই প্রার্থীর বাচ্চাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। আর এই চরম মানসিক চাপের ফলেই সঞ্চিতা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়ে তাঁর প্রতি কোনও ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। তবে যেভাবে তার নিজের হাতে গড়া দলের নাম এবং প্রতীক কেড়ে নেওয়া হলো, আগামী দিনে তার প্রত্যুত্তর দেওয়ার জন্য কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের লাইন তুলে ধরে মমতা বলেন, আদিম হিংস্র মানবিকতার যদি আমি কেউ হই, স্বজন হারানো শ্মশানে তোদের চিতা আমি তুলবই।
মমতার ভোটজোট শুরু
নন্দীগ্রাম ছাড়লেন কংগ্রেসকে




