জোড়াফুল চিহ্ন ‘ফ্রিজ’ করে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন

৩৬৫ দিন।গৌতম লাহিড়ী।  তৃণমূল এ বনাম তৃণমূল বি-র মধ্যে প্রতীক যুদ্ধে আপাতত মমতার হাতে আঁকা জোড়াফুল চিহ্ন ‘ফ্রিজ’ করে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।‌ অর্থাৎ আপাতত তৃণমূল এ বা বি কোনও পক্ষ-ই জোড়া ফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না বা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবী করে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম ব্যবহার করতে পারবে না। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপ নির্বাচনে তৃণমূল এ এবং বি দুপক্ষ-ই জোড়া ফুল প্রতীকে প্রার্থী দাঁড় করায় এবং দুপক্ষ-ই সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম ব্যবহার করে প্রার্থী দিয়েছে এখন নির্বাচন কমিশন প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়ায় আর কোনও পক্ষ-ই জোড়াফুল চিহ্ন বা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম ব্যবহার করতে পারবে না। দুপক্ষকেই এখন নির্দল প্রার্থী হিসাবে ভোটে লড়তে হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, তৃণমূল এ এবং বি দুপক্ষের থেকেই তাদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবির সমর্থনে বেশ‌ কিছু নথি চাওয়া হয়েছিল সেই সব নথি তারা দিয়েছে তবে তা খতিয়ে দেখে কে আসল আর কে তা নয় তা এখনও যাচাই করে উঠতে পারেনি কমিশন তাই এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সেফেস্ট উপায় যা ছিল তারা তাই করেছে। অনেকে বলছেন, কমিশন যে পক্ষের দাবি নাকচ করতো সেই আদালতে যেত তাই আইনত যাতে কমিশনকে আদালতে প্রশ্নের মুখে না পড়তে হয় তার জন্য কমিশন চাইছে ধীরে চলো নীতি নিতে। আর প্রতীক নাম ফ্রিজ করার দৃষ্টান্ত অতীতে আছে। বিহারে রামবিলাস পাসোয়ানের দলের কর্তৃত্ব নিয়ে যখন কোন্দল হয় তখন কমিশন এনজেপি-র নাম প্রতীক আটকে দিয়েছিল। এবার তৃণমূলের ক্ষেত্রেও তাই করল কমিশন। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল এ -এর তরফে কেউ আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে কুণাল ঘোষ দলের এই গুরুতর বিষয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি। তৃণমূল এ সূত্রে খবর, এ বিষয়ে যা বলার, শুক্রবার দলনেত্রী বলবেন। অন্য দিকে, তৃণমূল বি শিবিরের নেতা আখরুজ্জামান বলেন, ‘‘আমরা আশা করেছিলাম প্রতীক আমরা পাব। যেহেতু উপনির্বাচনের তাড়া রয়েছে, স্ক্রুটিনি চলছে, ১৯ তারিখের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে, সে ক্ষেত্রে কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে। তাকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা আশাবাদী, যেহেতু দলের জেলা সভাপতি থেকে জেলা নেতৃত্ব আমাদের সঙ্গে আছেন, ভবিষ্যতে পাকাপাকি ভাবে এই প্রতীক আমরাই পাব।’’

Scroll to Top