৩৬৫ দিন। বুধবার রাজ্য হাইকোর্টে রিপোর্ট পেশ করে জানাল মমতার মন্তব্যের ফলে কোনও আদালতগ্রাহ্য অপরাধ সংঘটিত হয়নি। আর তারপরেই রাজ্যের রিপোর্টের ভিত্তিতেই জনস্বার্থ মামলা খারিজ করল প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্য সরকারের পেশ করা এই স্টেটাস রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি খারিজের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানায় পেশ করা তথ্য ও রাজ্যের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে এই মামলাটি আর টেনে নিয়ে যাওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। দীর্ঘ আলোচনার অবসান ঘটিয়ে মামলাটি পুরোপুরি খারিজ করে দিল উচ্চ আদালত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মন্তব্য নিয়ে হওয়া মামলার যৌক্তিকতা নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বাংলাদেশের হাদিকে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় যে মন্তব্য করেছিলেন, কেন এটি জনস্বার্থ মামলা হিসেবে গ্রাহ্য হবে তা নিয়ে বর্তমান বিচারপতি ঘুঘের আগেই প্রশ্ন তুলেছিল হাইকোর্টের তৎকালীন ভারপ্রপাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ।চাওয়া হয়েছিল রাজ্যের রিপোর্ট।
হাই কোর্টের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন, যে যা কিছু বলবেন, তা-ই (আদালতকে) শুনতে হবে? এটি কেন জনস্বার্থ মামলা হিসেবে গ্রাহ্য হবে? তিনি আদালতে শুনানির সময় তার পর্বেক্ষনে আরও বলেন আজকাল জনস্বার্থ মামলাকে একটি বিশেষ হাতিয়ার (টুল) হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুন, ধর্মতলা চত্বরে আয়োজিত এক সভা থেকে। সেখান থেকে বক্তব্য রাখার সময় জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশের আন্দোলনকারী যুবক হাদীকে নিয়ে একটি মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলাকারীর বক্তব্য ছিল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য সাধারণ কোনও ‘হেট স্পিচ’বা বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই মন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি দেশের সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। সেই মন্তব্য নিয়েই জনস্বার্থ মামলা হয় হাইকোর্টে। ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসে মমতা বলেছিলেন বাংলাদেশের একটা বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল। তিনি বলেন,কিন্তু আমি যেটা বলছি, সেই পয়েন্টটা হল, তার পরে তারা মেঘালয় হয়ে বাংলায় চলে আসে। বাংলায় যখন চলে আসে তখন আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে।এটা তাদের (এসটিএফ) ক্রেডিট। তার পরে হোম মিনিস্টার নিজে আমাকে ফোন করে বলছেন। এত দিন তো বলিনি। মুখ খুলিনি।বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে। আমি সেটা চাই না। আমি দেশকে ভালবাসি ।অর্থ্যাৎ এই কথার ভিত্তিতে যে কোনো কগনিজেবেল অফেন্স ( আদালত গ্রাহ্য ) হয়নি তা বা এই নিয়ে কোনো অভিযোগও হয়নি বলে রাজ্য জানালে আদালতে এই সিদ্ধান্ত হয়।
মমতার ‘হাদি হত্যা’মন্তব্য কোনও অপরাধ নয়
জানাল হাইকোর্ট



