ইন্টারনেট ব্যবহার দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার
দিল্লির আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রায় সুপ্রিম কোর্টের

৩৬৫ দিন। নয়াদিল্লি। ইন্টারনেট ব্যবহার ও তার তথ্য জানা সকলের মৌলিক অধিকার। দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির টাকা আন্দোলন ঠেকানোর জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং দিল্লী পুলিশের তরফে দিল্লি জুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ নিয়ে যখন রাজধানীর রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে, সেই সময় পৃথক একটি মামলায় এমন তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। শুধুমাত্র দেশের সাধারণ মানুষের কাছে ইন্টারনেট ব্যবহার মৌলিক অধিকার বলেই ক্ষান্ত হয়নি সুপ্রিম কোর্ট, বয়স কম বলে শিশুদের সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে দূরে রাখা যায় না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম-সহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে শিশুদের যৌন শোষণ ও নির্যাতন সংক্রান্ত ছবি, ভিডিয়ো এবং অন্যান্য কনটেন্ট শনাক্ত করা ও সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা নিয়ে একটি মামলার শুনানি চলছিল আজ সুপ্রিম কোর্টে। সেই সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পাদরিওয়ালা ও বিচারপতি বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে বলে যে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইন্টারনেটের ব্যবহার করার অধিকার প্রত্যেক ব্যক্তির মৌলিক অধিকার। শিশুদের ক্ষেত্রেও এই অধিকার সমানভাবে প্রযোজ্য। তাদের এই অধিকার থেকে বিচ্যুত করা অযৌক্তিক।
বর্তমান ইন্টারনেটের পৃথিবীতে দেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের পাশাপাশি শিশুদের যে সমানভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে সুপ্রিমকোর্ট আজ নিজের নির্দেশে জানিয়েছে, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ মিলিয়ে পড়লে, ইন্টারনেটে প্রবেশ করা এবং তা ব্যবহার করার অধিকার যে প্রত্যেক ব্যক্তির একটি মৌলিক অধিকার, তা বলতে আমাদের কোনও দ্বিধা নেই। বয়স যা-ই হোক না কেন, শিশুরাও একই অধিকার ভোগ করে। এই অধিকার সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা ততটাই অযৌক্তিক, যতটা বলা যে, নির্দিষ্ট বয়সের নীচে থাকা শিশুদের বিবেক রক্ষা করার মতো কিছু নেই, কিংবা তাদের প্রকাশ করার মতো কোনও বাক্‌স্বাধীনতা নেই। শিশুদের নিরাপত্তা এবং তাদের স্বাধীনতা পরস্পরের বিরোধী নয়। শিশুরা এই দু’টি অধিকারই পাওয়ার যোগ্য। সুপ্রিম কোর্টের মতে, শিশুদের সুরক্ষার অজুহাতে তাদের সমস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। ইন্টারনেট এখন শিক্ষা, তথ্য এবং মত প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মৌলিক অধিকারও রক্ষা করতে হবে।

Scroll to Top