পশ্চিমবঙ্গে আবার এসআইআর হওয়া প্রয়োজন দাবি বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের

৩৬৫ দিন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক এখনো চলছে গোটা দেশ জুড়ে। ইতিমধ্যেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের সমস্ত রাজ্যের হওয়া এসআইআর বাতিলের দাবি তুলেছে। তার মধ্যেই এবারে তাৎপর্যপূর্ণভাবে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গে আবার ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন হওয়া প্রয়োজন অবিলম্বে। কারণ হিসেবে তিনি দাবি করেছেন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে যখন এসআইআর প্রক্রিয়া চলেছিল সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় যেহেতু তৃণমূল ছিল তাই গোটা প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

এসআইআর প্রসঙ্গে শমীকের বক্তব্য
আজ দুর্গা পুজোর মহাসপ্তমীর দিন অর্থাৎ শনিবার শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, আগের এসআইআর প্রক্রিয়ায় তৎকালীন তৃণমূল সরকার বাধা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি কেড়ে নেওয়া ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনকর্মীদের উপর হামলা চালানো হয় এবং কয়েকটি দফতরে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং বিজেপির বুথ লেভেল এজেন্টদেরও আক্রান্ত হতে হয়েছিল বলে দাবি রাজ্য বিজেপি সভাপতির। এর পাশাপাশি তৃণমূল থেকে শুরু করে দেশের বিজেপি বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দল যেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পথ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের অবসারণ দাবি করেছে সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে শমীকের বক্তব্য, ভোট চুরির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর পরিবর্তে স্বচ্ছভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য তাঁকে পুরস্কৃত করা উচিত।

ককরোচ আন্দোলনের বিরোধিতা

গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান জানিয়ে দিয়ে বলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির কোন জায়গা নেই। এবারে বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও কার্যত একই সুরে সিজেপি আন্দোলনের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, মবোক্রেসি কখনও গণতন্ত্রের বিকল্প হতে পারে না। আন্দোলনের সঙ্গে এমন কিছু রাজনৈতিক শক্তি যুক্ত রয়েছে, যাদের ভোটাররা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং যাদের জনসমর্থন নেই। প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা উচিত নয়।
সিপিএমের বইয়ের স্টলে হামলায় বিজেপি নেই
এবারে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি গিয়েছিলেন দূর্গা পূজার সময় পূজোমণ্ডপের পাশে কমিউনিস্টরা দুর্গাপূজা না লিখে শারদীয় লিখলে তাদেরকে যেন বইয়ের স্টল না দেওয়া হয়। এরপর থেকেই পুজো শুরুর দিন থেকে রাতের বিভিন্ন জায়গায় সিপিএমের বইয়ের স্টল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তবে সিপিএমের বইয়ের টল ভাঙ্গার জন্য বিজেপির বিরুদ্ধে সিপিএম যে অভিযোগ তুলেছে তার সর্বৈব মিথ্যে বলে দাবি করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, দুর্গাপুজোর মণ্ডপের কাছে সিপিএমের বইয়ের স্টলে হামলার ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। এটা আমাদের পথ নয়। এই বাংলার বহুত্ববাদের ঐতিহ্য রয়েছে। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের যত মত, তত পথ বাণীর কথাও উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য, বাংলার ঐতিহ্য বিভিন্ন মত ও পথকে সম্মান করার শিক্ষা দেয়।

Scroll to Top