দিল্লি – ১
মোহনবাগান – ২
৩৬৫ দিন।রোহন রায় চৌধুরী। গত বছর ইন্ডিয়ান সুপার লিগে মোহনবাগান শেষ ম্যাচটা খেলেছিল এই দিল্লি দলের বিরুদ্ধে। সেদিন ছিল যুবভারতীর মাঠে ম্যাচ। প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও শেষ ১০ মিনিটে মনবীর এবং ম্যকার গোলে ম্যাচটা জিতেছিল মোহনবাগান। আর আজকে এবছরের আইএসএলে দ্বিতীয় ম্যাচে সেই দিল্লির বিরুদ্ধে আবার পিছিয়ে পড়েছিল মোহনবাগান। এবার যুবভারতী নয়, মাঠ ছিল দিল্লির। গোল করেছিলেন মোহনবাগানে খেলে যাওয়া পাহাড়ি ফুটবলার নামতে। প্রথম ৪৫ মিনিট আজকের খেলায় মোহনবাগানের বল দখল বেশি থাকলেও ওপেনিং তৈরির ব্যাপারে এগিয়েছিল দিল্লি। মোহনবাগানের খেলাটা দেখে সঠিক কি গেম প্ল্যান সেটাই বোঝা যাচ্ছিল না। জড়া মুড়ি হয়ে যাচ্ছিল বেশিরভাগ আক্রমণ। তাছাড়া প্রথম ম্যাচে মোহনবাগান হেরেছিল নর্থ ইস্ট দলের কাছে। তাই আজ যে করেই হোক দিল্লি থেকে জিতে ফেরার অঙ্গীকার নিয়ে গিয়েছিল সবুজ মেরুন। যে মোহনবাগানকে দেখে অতি বড় সমর্থকরাও হতাশায় ডুবে গিয়েছিলেন প্রথমার্ধে, সেই মোহনবাগান ঘুরে দাঁড়াল সেকেন্ড হাফে। ডান দিক থেকে অনিরুদ্ধর একটা ক্রস রাহুল গোল করার চেষ্টা করেছিলেন। তার পায়ে লেগে বলটা এল লি আরউইনের সামনে। ঠান্ডা মাথায় জালে পাঠাতে ভুল করেনি স্কটিশ ফরওয়ার্ড। এই গোলটা হওয়ার পরেই যেন আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল মোহনবাগান। আপুইয়া একটা ছোট্ট দৌড় লাগালেন। বক্সের ভেতর মাখনের মত পাস বাড়ালেন মিগুয়েলকে লক্ষ্য করে। ব্রাজিলিয়ান বা পায়ের অনবদ্য প্লেসমেন্ট রাখলেন দ্বিতীয় পোস্টে। দাঁড়িয়ে দেখলেন বিপক্ষ গোলরক্ষক। ইস্টবেঙ্গল থেকে মোহনবাগানে সই করার পর নিজের স্বাভাবিক আক্রমনাত্মক ছন্দটা দেখা যাচ্ছিল না তার মধ্যে। সমালোচনা শুরু হয়েছিল। আজ কিন্তু শুধু গোল করার জন্য নয়, মিগুয়েল যতক্ষণ ছিলেন মোহনবাগানের আক্রমণের বেশিরভাগটাই তার পা থেকে আসছিল। এরপর মোহনবাগান কোচ পরিবর্ত হিসেবে নামালেন সামির, সাহাল, মনবীর, লিস্টনকে। মোহনবাগান আরও দু’চারটে সুযোগ তৈরি করল। মনবীর একটা দুর্দান্ত শট নিয়েছিলেন। ক্রস পিসে লেগে ফিরে এল। এছাড়া ভাগ্য ভালো থাকলে লি আরও একটা গোল পেতে পারতেন। এই বিদেশি ফরওয়ার্ড সম্পূর্ণ ফিট নন সেটা তার মুভমেন্ট দেখেই পরিষ্কার। তবে তার খেলায় দায়বদ্ধতা আছে। জেমি দিল্লি গেলেও তাকে দলে রাখেনি কোচ। তবে ম্যাচের দ্বিতীয় আর্ধ পুরোটাই কন্ট্রোল করল মোহনবাগান। পুরো দলটাকে দেখে মনে হল প্রথমবারের জন্য তিনটে পয়েন্ট নিয়ে কলকাতায় ফিরতে কতটা মরিয়া তারা। এটাই একটা বড় দলের সিগনেচার স্টাইল। বড় দল তারাই যারা নিজেদের সেরা সময় না থেকেও একটা ম্যাচ জিততে পারে ছোট্ট স্পেলে। যারা এই মোহনবাগান দলটাকে প্রথম থেকে দেখছেন, তারা জানেন এখনও পর্যন্ত এই দলটা ষাট ভাগ ফুটবল খেলতে পারছে। বোঝাপড়া এখনও কুড়ি থেকে ৩০ শতাংশ বাড়াতে হবে। শেষ দিকে ডিফেন্স শক্ত করার জন্য এবং দু’নম্বর গোলটা ধরে রাখার জন্য বাগান কোচ নামিয়ে দিলেন অভিজ্ঞ শুভাশিসকে। দিল্লির ব্রাজিলিয়ান রড্রিগো এবং কলম্বিয়ার পেনা শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেন বটে, কিন্তু আজ আর ভুল করেনি মোহনবাগান ডিফেন্স। আলবার্তো প্রত্যেক দিনের মতো আজকেও ছিলেন অনবদ্য। মেহতাব খুব ভালো করেছেন। রাহুল এবং অভিষেক লড়াই করেছেন। মাঝখানে আপুইয়া এবং থাপা বেশি বল ধরতে দেননি দিল্লির ফুটবলারদের। সব মিলিয়ে ম্যাচটা দাপটের সঙ্গে জিতেই মহাষষ্ঠীর রাতে জয় পেল মোহনবাগান। ম্যাচ শেষে মোহনবাগানের কোচ জানিয়েছেন পাহাড়ে হেরে যাওয়ার পর দিল্লি থেকে জিতে ফেরার অঙ্গীকার করেছিলেন সকলে। তিনি জানেন কলকাতায় এখন দুর্গোৎসব। তাই এই জয়টা সমর্থকদের উপহার দলের পক্ষ থেকে।






