নেহা বোরা, প্রকাশ রাজকে পাশে নিয়ে দীপকের চ্যালেঞ্জ প্রধানমন্ত্রীকে

৩৬৫ দিন। শুক্রবার কনট প্লেসে তেরঙ্গা ওড়াও কর্মসূচী ককরোচ জনতা পার্টির। তার ২৪ ঘন্টা আগে সাংবাদিক বৈঠক করে আরো একবার কেন্দ্রে মোদি সরকারকে কড়া আক্রমণ করলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকে। ভোটচুরি প্রসঙ্গ থেকে এক দেশ এক ভোট – নানা প্রসঙ্গ উঠে এলো দিপকের বক্তব্যে। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দমন পীড়নের অভিযোগ তুলে দিপকের চ্যালেঞ্জ, সাহস থাকলে দেশে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে দিক মোদি সরকার।
‘দফা হো যাও’ এর পাল্টা জাস্ট ইগনোর
বৃহস্পতিবার দুপুরে একদিকে আইসা নেত্রী নেহা বোরা ও অন্য পাশে অভিনেতা প্রকাশ রাজকে বসিয়ে সাংবাদিক সন্মেলনে দিপকে বক্তব্য শুরু করতেই তাল কাটে। সাংবাদিকদের পেছনের ভিড় থেকে ভেসে আসে ‘ককরোচ দূর হটো’, ‘দফা হো যাও’ স্লোগান। বিরক্ত নেহা পাল্টা কিছু বলতে গেলে তাকে থামিয়ে দিপকে বলেন, যারা এ সব বলে গন্ডোগোল পাকাতে চাইছে তাদের পাত্তা দিতে হবে না। ওরা যা বলছে বলুক। ওদের জাস্ট ইগনোর করো। এরপর নেহা উদ্যোক্তাদের বলেন কিছু লোক উস্কানি দিচ্ছে ওদের বের করে দিতে বলুন। তারপর অবশ্য আর বিশেষ বিশৃঙ্খলা হয়নি।
একটা লোকের জন্য যুদ্ধ করছেন!
প্রাথমিক বাধা‌ বিপত্তি কাটার পর দিপকে বলেন, ১০ অক্টোবর আমরা জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে যন্তরমন্তর ২.০ কর্মসূচি নিয়েছিলাম। আমরা দেখলাম এর তিন দিন আগে থেকে দিল্লিকে কার্যত দুর্গ করে ফেলা হল। জম্মু-কাশ্মীর থেকে প্যারা মিলিটারি এনে দিল্লি ঘিরে ফেরা হল। বাস, ট্রেন, মেট্রো সব‌ বন্ধ করে দেওয়া হল। আমাদের বিমানের ভেতর থেকে তুলে আনা হল। আজকের দিন পর্যন্ত-ও যারা আন্দোলন করতে রাস্তায় নামছে তাদের দাগী অপরাধীদের মত তুলে আনা হচ্ছে। মারধর করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের পর্যন্ত মার খেতে হয়েছে। এরপরেই দিপকের প্রশ্ন, কেন এই বাড়াবাড়ি? মোদি-শাহরা একটা জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাতে গিয়ে গোটা দেশের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন। মমতা সহ বিরোধীদের ধন্যবাদ জানিয়ে দিপকে বলেন, আমাদের আন্দোলনে মমতা দিদি, কেজরিওয়াল, বিজয়ন, মানিক সরকার, বেবি, বৃন্দা কারাটরা যোগ দিয়ে আটক হয়েছেন। তাদের ওপরেও নানা রকম অত্যাচার হচ্ছে। এটা ভয়ঙ্কর ঘটনা। দেশে বিরোধী পরিসরকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।দিপকের কথায়, “এ দেশের যুবসমাজ নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাজপথে নেমে লড়াই করছে। কিন্তু তাদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে, রাস্তায় টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নেহা, আয়েশা, কিংবা ইশার মতো তরুণ কর্মীদের সঙ্গে নির্মম আচরণ করা হল। কার স্বার্থে এসব করা হচ্ছে? কেবল ওই একটি মাত্র মানুষ জ্ঞানেশ কুমারকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য?” কেন্দ্রের এই দমনপীড়ন নীতিকে নিজের দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে এক প্রকার ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ বলে আখ্যা দেন তিনি।
এক দেশ এক ভোট হবে না
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দিপকে এদিন এক দেশ এক ভোট প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, মোদি সরকার বলছে একটা দেশ মানে একটাই ভোট। গোটা দেশে এক সঙ্গে ভোট হবে। ইতিমধ্যে অনেক বিরোধী দল এতে আপত্তি জানিয়েছে। আমরাও এর তীব্র বিরোধী। ভারতের মত এত বড় দেশে এই ব্যবস্থা চলতে পারে না। দিপকের অভিযোগ, আসলে এই ব্যবস্থার পেছনে কেন্দ্রের চক্রান্ত আছে। বিজেপি একদলীয় শাসন চালাতে চাইছে। গোটা দেশে একটাই দল থাকবে। এটা হতে দেওয়া যায় না। এক দেশ এক ভোট চালু করতে গেলে প্রতিবাদ প্রতিরোধ হবে।

Scroll to Top