৩৬৫ দিন। রাজ্য সরকারের আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে বনগাঁয় পুজো মণ্ডপের ১০০ মিটারের মধ্যে বুক স্টল করার জন্য সিপিএমকে অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সম্প্রতি বনগাঁ এবং নৈহাটিতে দুর্গাপুজোয় ২ বুকস্টল করতে চেয়ে আবেদন জানায় সিপিএম। কিন্তু অভিযোগ, তাতে পুলিশ অনুমতি দেয়নি। যা ঘিরে শুরু হয় আইনি সংঘাত। রাজ্য প্রশাসনের কাছে অনুমতি না পেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্ত হয়েছিল সিপিএম। গতকাল এই মামলায় রাজ্য সরকারের কাছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানতে চেয়েছিলেন সিপিএমকে বুক স্টল করার জন্য অনুমতি দিলে সমস্যা কোথায়? পুজো মণ্ডপের সামনে বেলুন ফাটানোর জন্য বন্দুকের দোকান থাকে, লটারির টিকিট বিক্রি হয়। তাহলে বই বিক্রির জন্য স্টল দিলে ক্ষতি কোথায়? রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কোন সদুত্তর না পেয়ে আজ সিপিএমকে বইয়ের স্টল বানানোর অনুমতি দেয় হাইকোর্ট। আজকের শুনানিতে বনগাঁ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ও থানার আইসি-কে অনুমতি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
আজ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, বনগাঁয় যশোর রোডে সিপিএমের পার্টি অফিসের সামনে বুকস্টল তৈরি করা যাবে। পূজো মণ্ডপের ১০০ মিটারের মধ্যে স্টল তৈরি করতে দিতে হবে। তবে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হবে। আগামী ২৩ নভেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিতে হবে জেলার পুলিশ সুপারকে। তবে আজ বিচারপতি চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়ার আগেও তীব্র বিরোধিতা করে রাজ্য সরকার। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, জাতীয় সড়কের উপর কোনও নির্মাণ করা যায় না। এ ধরনের নির্মাণের জন্য জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। সেই যুক্তিতে বুকস্টল তৈরির অনুমতির বিরোধিতা করে রাজ্য। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য দাবি করেন, সিপিএমের তরফে পূর্ত দফতরের কাছে কোনও অনুমতি চাওয়া হয়নি। যে বাড়িতে সিপিএমের পার্টি অফিস রয়েছে, সেই বাড়ির মালিক হিন্দু জাগরণ মঞ্চকে স্টল তৈরির অনুমতি দিয়েছেন বলেও আদালতে জানান তিনি। এর জবাবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, অন্যেরা কোনও অনুমতি ছাড়াই স্টল তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ, অথচ সিপিএমকে কেন আলাদা করে অনুমতি নিতে হবে? তাঁর বক্তব্য, সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। কাউকে অনুমতি দেওয়া হবে, আর কাউকে দেওয়া হবে না, এমন হলে ভুল বার্তা যাবে। কেউ স্টল তৈরি করতে চাইলে অন্য কেউ বাধা দিলে এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন, আমি যদি আজ এসে বলি, ওঁদের বিল্ডিংএর ওপর নিজের নির্মাণ তৈরি করব, পুলিশি সুরক্ষা চাই। তখন কী পদক্ষেপ করা হবে? ওঁরা জানে অনুমোদন প্রয়োজনীয়। পাল্টা বিচারপতি বলেন, তাহলে বুলডোজার বা জেসিবি চালিয়ে দিতে বলছি। ওখানে কিছু থাকবে না। আপনি কি নিশ্চিত করতে পারবেন ওখানে আর কোনও অস্থায়ী নির্মাণ থাকবে না বা নেই? ওখানে সব ডেমোলিশ করুন।
শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী জানান, কোনও নির্মাণের ক্ষেত্রে পুলিশ নিরাপত্তা দিতে বা সহায়তা করতে পারে না। সেই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, কোনও পক্ষ অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করার সময় পুলিশ বাধা দেবে, অথচ অন্য কোনও শক্তিশালী পক্ষ একই ধরনের কাঠামো তৈরি করলে পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে থাকবে, তা কীভাবে সম্ভব? বিচারপতি আরও বলেন, রাজ্যকে নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে হবে এবং এ ধরনের অস্থায়ী কাঠামো তৈরির বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট নীতি তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে বেআইনি নির্মাণের বিষয়ে পদক্ষেপ করার কথাও বলেন বিচারপতি।
পুজো মণ্ডপের ১০০ মিটারের মধ্যে বুকস্টল করার জন্য সিপিএমকে অনুমতি হাইকোর্টের
- khabar365din
- October 15, 2026
- 7:04 pm
- No Comments





