৩৬৫ দিন দৃশ্য ১
স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথম বার এমন ঘটনা সম্ভবত ঘটল! দিল্লি এয়ারপোর্টে সবে ল্যান্ড করেছে একটি বিমান। যাত্রী তালিকায় ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, দুই মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস। সেই বিমানে আচমকা উঠে পড়ল দিল্লি পুলিশের মহিলা বাহিনী। তিন ককরোচ নেতাকে তাদের নির্দেশ, চলুন স্যার! দীপকে, রাঙ্কা, সৌরভরা বার বার জানতে চাইলেন, অপরাধটা কি ? কেন যাব? মহিলা অফিসাররা জানালেন অর্ডার আছে। আপনাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিমান থেকেই লাইভ করে দীপকে গ্রেফতারির খবর দিলেন। ভিডিওতে দীপকে-কে বার বার বলতে শোনা গেল আমাদের আন্দোলন নিয়ে আপত্তি থাকলে বলুন। এয়ারপোর্টে নামলে গ্রেফতার করুন। আমরা তো গ্রেফতার হব বলেই এসেছি। তবু অনড় পুলিশ। বিমান থেকেই গ্রেফতার করতে হবে। দীপকে -কে বলতে শোনা গেল, এমন অত্যাচার তো ইন্দিরাও করেননি। তারপরেই তার বক্রোক্তি, ‘মোদিজি ডর গ্যায়ি, ইয়ে ডর আচ্ছা হ্যায়’!
দৃশ্য ২
নিজামুদ্দিন রেলস্টেশন। কয়েকজন অল্পবয়সী ছেলেকে কলার ধরে টানতে টানতে নিয়ে আসছে বেশ কয়েকজন পুলিশ। হিড় হিড় করে টেনে তাদের তুলে দেওয়া হল পুলিশের গাড়িতে। ওই ছেলের দল গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলছে, আমরা ককরোচ নই! কে শোনে কার কথা। জানা গেল তাদের স্টেশনের টয়লেট থেকে তুলে এনেছে পুলিশ।
দৃশ্য ৩
দিল্লি হাটের কাছে রাস্তায় আবর্জনার স্তুপ। এখান থেকে যন্তরমন্তর খুব দূর নয়। শুধু দিল্লি হাট নয় জানা গেল যন্তরমন্তর কানেক্ট করে এমন একাধিক রাস্তায় আবর্জনা ফেলে রেখে গিয়েছে কেউ বা কাহারা। কেন? পথচলতি কয়েকজন জানালেন আজ ককরোচরা আসছে তাই বোধহয়…পুরোটা বললেন না, হয়তো ভয় পেলেন।
দৃশ্য ৪
শনিবার সকাল ৮ টা। দিল্লির কর্তব্যপথ। নীল কালো পোশাকে রাজপথ ধরে হাঁটছে দিল্লি পুলিশের অ্যান্টি রায়ট ফোর্স। হাতে তাদের লাঠি-কাঁদানে গ্যাসের সেল। শনিবার ছুটির দিনে ওত সকালে দিল্লির কর্তব্যপথে খুব একটা লোকজন থাকে না। এদিন ওদিক কিছু গাড়ি আর কয়েকজন পথচলতি মানুষ। তাদের দিকে লাঠি উঁচিয়ে দিল্লির দাঙ্গা দমন বাহিনীর প্রশ্ন, ‘ঘর সে নিকলা কিঁউ’?
দৃশ্য ৫
আইসা নেত্রী নেহা বোরা শতাধিক আন্দোলনকারীদের নিয়ে এগোচ্ছেন। যন্তরমন্তরের ৪ কিলোমিটার ঘিরে অসংখ্য ব্যারিকেড। একের পর এক ব্যারিকেড ভেঙে তিনি এগোচ্ছেন। ছাত্র আন্দোলনে হাত পাকানো নেহা জানেন পুলিশ তাকে আটকাবে গ্রেফতার-ও করবে। মুহূর্তে রণকৌশল বদলে ফেললেন আইসা নেত্রী। পুলিশকে ক্লু না দিয়ে তিনি দলবল নিয়ে চলে গেলেন দিল্লি হাটে। প্রাথমিক ভ্যাবাচাকা ভাব কাটিয়ে পুলিশ-ও ছুটলো তার পিছু পিছু। এক প্রস্থ প্রবল ধ্বস্তাধ্বস্তি চললো পুলিশ বনাম আন্দোলনকারী। তারপর টেনে হিঁচড়ে নেহা সহ শতাধিক আন্দোলনকারীকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হল।
চুম্বকে, শনিবার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে এভাবেই দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিল্লি। রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরী হল। ককরোচদের সমর্থনে পথে নামায় গ্রেফতার করা হল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা, কেজরিওয়াল,মানিক সরকার, বিজয়নদের। ককরোচদের আন্দোলনে যাওয়ার পথে গ্রেফতার করা হয় যোগেন্দ্র যাদব, মণীশ সিসোদিয়া, প্রশান্ত ভূষণদের। ককরোচদের দাবি, সবমিলিয়ে ২ হাজার জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। এর বাইরে আরো কয়েকশো সাধারণ মানুষকে লাঠি পেটা করে অজ্ঞাত জায়গায় ধরে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। সকলকে অবিলম্বে মুক্তি না দিলে সোমবার দিল্লি জুড়ে আরও বড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বিরোধী শিবির। সম্ভবনা রয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল সহ ইন্ডিয়া জোটের সব বিরোধী দল ও ককরোচদের একযোগে পথে নামার।
দিল্লি যেন যুদ্ধক্ষেত্র
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বাতিলের দাবিতে সিজেপি শনিবার যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। শুক্রবার রাত থেকেই দিল্লি পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ। রাস্তায় রাস্তায় রয়েছে ব্যারিকেড। মুম্বই থেকে সকালে দীপকে-রা দিল্লি বিমানবন্দরে নামতেই তাঁদের আটক করা হয়। পুলিশকর্মীরা বিমানে উঠে তাঁদের ধরে নিয়ে যান। দিকে দিকে সিজেপি নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের আটক করা হয়েছে। বৃন্দা কারাট, পিনারাই বিজয়নের মতো বাম নেতৃত্বকেও আটক করেছে পুলিশ। যন্তর মন্তর পর্যন্ত পৌঁছোনোর কোনও রাস্তাই খালি রাখা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে যখন মনে করা হচ্ছিল, শনিবারের কর্মসূচি থমকে যাবে, তখনই নেহা ময়দানে নামেন। সমাজমাধ্যমে ঘোষণা করেন, ‘‘দিল্লি হাটই আজকের যন্তর মন্তর। আমরা আসছি।’’ শনিবারের কর্মসূচির কথা দীপকে-রা যখন প্রথম ঘোষণা করেছিলেন, তখনই জানিয়েছিলেন, যেখানে তাঁদের আটকানো হবে, সেই স্থানই যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে। নেহা যেন সেই বার্তাই অনুসরণ করলেন। মিছিল নিয়ে বেরিয়ে নিজের ইনস্টাগ্রাম থেকে ‘লাইভ’ করেন নেহা। সেখানে দেখা যায়, স্লোগান দিতে দিতে তাঁরা এগোচ্ছেন। রাস্তায় একটি ব্যারিকেড এলে তা সরিয়ে এগিয়ে যান সকলে। অন্য দিকে, দীপকে-রা আটক হওয়ার পর সিজেপির তরফে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়োবার্তা প্রকাশ করা হয়। দীপকে আগেই তা রেকর্ড করে গিয়েছিলেন। সেখানে বলেছেন, যদি তাঁকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়, প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন অজিঙ্ক শিন্দে। ধরপাকড় দেখে বিক্ষোভকারীরা যেন ফিরে না যান, অনুরোধ করেছিলেন দীপকে। নেহা মিছিল নিয়ে বেরোনোর পর দিল্লি হাট এলাকাতেও পুলিশ ধরপাকড় শুরু করেছে। সিজেপি-র কর্মসূচিতে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছিলেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। সকালে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকেও আটক করে পুলিশ।
ফ্লাইট থেকে গ্রেফতার ককরোচদের তিন মূর্তি, দায়িত্বে আজিঙ্কে
প্ল্যান বি ঠিক করেই রেখেছিল সিজেপি। এত বড় আন্দোলন যেখানে দিল্লি পুলিশ সমর সজ্জায় সজ্জিত হয়ে ঝাঁপানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সেখানে ককরোচদের তিন শীর্ষ নেতা দীপকে, রাঙ্কা ও সৌরভ যে যে কোনো মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন তা জানতো সিজেপি। এমন পরিস্থিতি হলে কী করা হবে তাও আগে থেকে ছকা ছিল।সেই মত দিল্লি বিমানবন্দরে বিমান থেকেই দীপকেরা গ্রেফতার হতেই দ্রুত প্ল্যান বি এক্সিকিউট করে দেয় সিজেপি। গ্রেফতারের মুহূর্তে ভিডিও বার্তায় দীপকে ঘোষণা করে দেন ককরোচদের দায়িত্ব এখন আজিঙ্কে শিন্ডের। আজিঙ্কেকে বাছার পেছনে কারণ হল সে রাজনীতিতে অভিজ্ঞ। রাজনৈতিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। মহারাষ্ট্রের আলিবৌগের বাসিন্দা অজিঙ্ক। কম্পিউটার সায়েন্সে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। তার পরে পুণের একটি আইটি সংস্থায় যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। বেশ কয়েক বছর ওই সংস্থায় কাজ করেছেন। পরে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে পা দেন অজিঙ্কে। অরবিন্দ কেজরীবালের আম আদমি পার্টির (আপ) সঙ্গে যুক্ত হন। একজন কর্মী হিসেবে কয়েক বছর ওই দলে ছিলেন। ২০১৬ সালের গোয়ার বিধানসভা নির্বাচনে আপের হয়ে প্রচারও করেছিলেন অজিঙ্কে। পরে মহারাষ্ট্রে আপের হয়ে কাজ করেন। তবে সিজেপির জন্মলগ্ন থেকেই দীপকে-দের সঙ্গে রয়েছেন তিনি। জুন-জুলাই মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লিতে হওয়া ককরোচ আন্দোলনে ছিলেন। পরে সিজেপির কোর কমিটিতে যুক্ত হন অজিঙ্কে।
চেম্বারে গ্রেফতার আইনজীবীরা, ছাড়াতে হস্তক্ষেপ প্রধান বিচারপতির
ককরোচদের আক্রমণ দমনে অতিসক্রিয় দিল্লি পুলিশের রোষ থেকে শনিবার ছাড় পেলেন না আইনজীবীরাও। বেলা বাড়তে জানা যায় আইনজীবীদের একাংশকে বাড়ি থেকে চেম্বার থেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। দিল্লি পুলিশের আশঙ্কা তারা ককরোচদের জ্ঞানেশ হঠাও আন্দোলনে যোগ দেবেন তাই তাদের তুলে নিতে হবে! ঘন্টা খানেকের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া আইনজীবীর সংখ্যা ১০০ ছাড়াতেই সক্রিয় হয় বার অ্যাসোসিয়েশন। বিষয়টি তারা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে জানান। প্রধান বিচারপতি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন বলে খবর। প্রবল চাপের মুখে যমুনা কমপ্লেক্স থেকে শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘন্টা পর ছাড়া হয় শতাধিক আইনজীবীকে। মুক্ত হয়ে অনেক আইনজীবীই বলছেন, দিল্লিতে এই ঘটনা নজিরবিহীন। একটা আন্দোলনে যোগ দিতে পারি সেই ভয়ে দিল্লি পুলিশ এত আইনজীবীকে আটক করে নিয়ে চলে গেল! এ তো স্বৈরাচার।
অনশনে বসার হুঁশিয়ারী সোনমের
ককরোচদের আন্দোলনে গিয়ে গ্রেফতার হওয়া আন্দোলন কারীদের রবিবারের মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে সোমবার থেকে আমরণ অনশনে বসার হুঁশিয়ারী দিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “আজ দিল্লিতে বহু ছাত্রনেতা, যুবনেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক, এমনকি সাংসদদেরও আটক করা হয়েছে। গতকাল আমি অনুরোধ করেছিলাম, আজকের কর্মসূচিতে শান্তি বজায় রাখার জন্য। আমি ভেবেছিলাম, বিশ্বের সবেচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অনুমতি তো নিশ্চয়ই দেওয়া হবে। কিন্তু এখন দেখছি যেন একটা অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে গোটা দেশে।”
আদালত অবমাননার মামলা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল আন্দোলনে যাতে অশান্তি না হয় তার জন্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে কিন্তু তার মানে এই নয় যে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে অথচ প্রশাসন হাত গুটিয়ে থাকবে। প্রশাসনকে জনজীবন সচল রাখতে হবে। কিন্তু শনিবার ককরোচদের আন্দোলনকে বোতল বন্দি করতে যে ভাবে প্রশাসন কার্যত গোটা দিল্লিকে অচল করে দেয় তাতে আদালতের রায় মানা হয়নি, আদালত অবমাননা করা হয়েছে, এই অভিযোগে ফের সুপ্রিম কোর্টে মামলা হল। আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণির আবেদন, ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ চলাকালীন মেট্রো, রেল পরিষেবা যেন পুরোপুরি বন্ধ না-থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল। তবে সেই নির্দেশ সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গণপরিবহণের উপর বিধিনিষেধ অব্যাহত রেখেছিলেন। ওই আইনজীবীর আরও অভিযোগ, মেট্রো স্টেশনগুলি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা এবং ট্রেন বাতিল হওয়ার কারণে যাত্রীরা ব্যাপক ভাবে সমস্যার সম্মুখীন হন। রাজধানীর জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। ইচ্ছাকৃত ভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগও তুলেছেন মামলাকারী। অভিযোগকারী তাঁর আবেদনপত্রে জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্য করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লর পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং দিল্লি মেট্রোরেল কর্পোরেশনের চেয়ারপার্সন ডি থারার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হোক! সূত্রের খবর, সোমবার এই মামলা শুনতে পারেন সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ।
দেশবিরোধীদের আন্দোলন, বিজেপি
ককরোচদের আন্দোলন দমাতে দিল্লি পুলিশের প্রায় গোটা দিল্লি জুড়ে জরুরী অবস্থার মত পরিস্থিতি তৈরী করা নিয়ে বিরোধীরা সমালোচনায় সরব হল পুলিশের পাশে দাঁড়াচ্ছে বিজেপি। দলের দুই মুখপাত্র সম্বিত পাত্র ও রবিশঙ্কর প্রসাদের দাবি, পুলিশ যা করেছে ঠিক করেছে। আন্দোলনের নামে অশান্তি পাকানোর ছক ছিল ককরোচ জনতা পার্টির। তাদের পেছনে দেশবিরোধী শক্তির মদতপুষ্ট বিরোধীরা রয়েছে। দেশ বিরোধী আন্দোলন তো পুলিশ কড়া হাতে মোকাবিলা করবেই। বিজেপির দাবি, নিট বিরোধী আন্দোলনের সময় ককরোচদের যন্তরমন্তরে আন্দোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তারপর কী অরাজকতা তৈরী হয়েছিল তা গোটা দেখেছে। সঙ্গত কারণেই তাই ককরোচদের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি।




