৩৬৫ দিন। রোহণ রায় চৌধুরী। একটা কলকাতা ডার্বির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ যখন একটা দল বিপক্ষ দলকে উড়িয়ে দেয় তখন সাধারণত দ্বিতীয় সাক্ষাৎকার হওয়ার আগে সেই দলটাই মানসিকভাবে এগিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আইএফএ শিল্ড ফাইনাল খেলতে নামার আগে সেটাই হওয়া উচিত ছিল ইস্টবেঙ্গলের। অন্য কোনও ম্যানেজার হলে হয়তো দলের মধ্যে একটা আত্মতুষ্টি আসতে পারত। কিন্তু এই মুহূর্তে লাল হলুদের রিমোট কন্ট্রোল যার হাতে তার নাম লোপেজ হাবাস। ভারতীয় ফুটবলে শেষ কয়েকটা বছর বিদেশি, স্বদেশী যত কোচ এসেছেন সবার উপরে তিনি। শুধু টেকনিক্যাল দিক থেকে নয়, একটা দলের ফুটবলাররা কোন সময় কি ভাবতে পারেন, পরবর্তী পদক্ষেপ কি নিতে পারেন সেটা চোখ বন্ধ করে যেন দেখতে পান তিনি। এই কারণে তার সাফল্য বাকিদের থেকে বেশি। হাবাস জানেন কয়েকদিন পর এই যুবভারতীতেই এএফসির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইরাকের ক্লাবের বিরুদ্ধে খেলতে হবে তাদের। সেদিক থেকে দেখতে গেলে তুলনায় অনেক পিছিয়ে আইএফএ শিল্ড ফাইনাল। তবে তিনি এটাও জানেন বিপক্ষ দল যখন মোহনবাগান তখন এই ম্যাচটাকে ছোট করে দেখার জায়গা নেই। যতই ৪৫ দিন আগে ডুরান্ড ফাইনালে তার ছেলেরা সবুজ মেরুনকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে থাকুক, এবার লড়াইটা কিন্তু বেশি কঠিন। সেটা তিনি বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন ফুটবলারদের। সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন আমরা প্রতিপক্ষ দলকে সম্মান করি। কিন্তু আমরা ম্যাচটা জিততে চাই অতিরিক্ত সময় না গিয়ে। ৯০ মিনিটে শেষ করতে চাই। পঞ্জাবের বিরুদ্ধে বিশাল ব্যবধানে জয়ের পর ড্রেসিংরুমের ভেতর যেন অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস না আসে সেটা নিয়ে সাবধান ইস্টবেঙ্গলের নতুন বস।
আবার পাশাপাশি মোহনবাগানের দুর্বলতা কোথায় এটা ছবির মত ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন তার ছেলেদের। কোথায় আঘাত করে কত তাড়াতাড়ি দুটো বা তিনটে গোল তুলে নেওয়া যায় সেই ছক রেডি হয়ে গেছে তার। শেষ বড় ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে ইস্টবেঙ্গলের নায়ক হয়েছিলেন মিজোরামের এডমন্ড। এবারও তার দিকে নজর থাকবে বলে দেওয়া যায়। পাশাপাশি বিপিন, রহিত, রশিদ, দিয়েগো, জয় গুপ্তদের নিয়ে যে ট্রানজিশন দেখা যাচ্ছে লাল হলুদের খেলায় তাতে এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবলে ইস্টবেঙ্গলের কাউন্টার আক্রমণ সামলানোর জবাব বিপক্ষ দলের কাছে নেই বলেই মনে হয়। কিন্তু ফুটবল দিনের শেষে মহান অনিশ্চয়তার খেলা। খেলাটা খাতায় হয় না, হয় মাঠে। মশাল বাহিনীর প্লাস পয়েন্ট তাদের দুই নতুন বিদেশি লোবা এবং লুকাস গোল পেয়ে গিয়েছেন। তাই আত্মবিশ্বাস থাকবে তাদের। প্রথম এগারো কাদের নিয়ে ঠিক করবেন এই প্রশ্ন করলে লাল হলুদ কোচ বলেন, জাতীয় দল থেকে যারা ফিরে এসেছে তাদের সামনে কথা বলব। কারণ মানসিকভাবে তারা এখনও ব্রাজিল অথবা উরুগুয়ে ম্যাচ নিয়ে পড়ে আছে কিনা আমায় বুঝতে হবে। এটা হতেই পারে। তারপর চূড়ান্ত দল ঠিক করব। এমনি ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের দেখে মনে হল ডুরান্ড কাপ ফাইনালের ডার্বি জয়ের হ্যাংওভার নেই তাদের। তারা জানে বৃহস্পতিবার একটা নতুন ম্যাচ, নতুন লড়াই। নতুন ট্রফি জয়ের হাতছানি। ঐতিহাসিক ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবার ঐতিহ্যপূর্ণ আইএফএ শিল্ডও লাল হলুদ তাঁবুতে ঢোকে কিনা সময়ের অপেক্ষা।
আজ যুবভারতীতে আইএফএ শিল্ড ফাইনাল ৯০ মিনিটে জিততে চান হাবাস
- khabar365din
- October 7, 2026
- 4:29 pm
- No Comments




