৩৬৫ দিন। রোহণ রায় চৌধুরী। ২৩শে আগস্ট। সঠিকভাবে বললে মোটামুটি দেড় মাসের ব্যবধান। ডুরান্ড কাপ ফাইনালে সেদিন যুবভারতীতে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ৪-১ জয় পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই লজ্জাজনক হারের পর আবার আজ ৮ অক্টোবর আর একটা ডার্বি। এবার টুর্নামেন্ট আইএফএ শিল্ড ফাইনাল। দুই দলের এই মুহূর্তে যা ছন্দ তাতে চোখ বন্ধ করে ইস্টবেঙ্গল ফেভারিট হিসেবে শুরু করবে বলে দেওয়া যায়। শেষ ম্যাচে পাঞ্জাবকে ৭-২ হারিয়েছে তারা। দাপটের সঙ্গে ফুটবল খেলছে গোটা দলটা। দুরন্ত বোঝাপড়া তৈরি করেছেন কোচ লোপেজ হাবাস। প্রত্যেক ফুটবলার নিজেদের সেরাটা দিচ্ছেন। এমন একটা দলের বিরুদ্ধে খেলা বিপক্ষ দলের কাছে এই মুহূর্তে সত্যি কঠিন। তার ওপর মোহনবাগান একেবারেই স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারছে না। ফিটনেস একটু বেড়েছে, কিন্তু বোঝাপড়া উন্নতি চোখে পড়ছে না। যদিও শিল্ড ফাইনাল ডার্বির আগে মোহনবাগানের গ্রিক কোচের গলায় রীতিমতো আত্মবিশ্বাস শোনা গেল। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বললেন, ইস্টবেঙ্গল ভালো দল, ভালো খেলছে। কিন্তু আমার সব ভাবনা আমার দলকে নিয়ে। আমার দলেও সাহাল, মনবীর, চাঙ্গতে আছে। সমীর, লি, ড্রেজানদের মতো বিদেশি আছে। আলবার্ত দায়িত্ব নিয়ে খেলছে ডিফেন্সে। জাতীয় দলের পাঁচজন থাকবে আমাদের। ইস্টবেঙ্গলেরও জাতীয় দলের ফুটবলাররা থাকবে। সব মিলিয়ে আর একটা জমজমাট ম্যাচের অপেক্ষায় আছি। বাগান কোচের কাছে প্রশ্ন আসে, সবাই এই ম্যাচে আপনার দলকে আন্ডারডগ মনে করছে। জয়ের ব্যাপারে এগিয়ে রাখছে আপনার প্রতিপক্ষ দলকে। পানোস একটু
হাসলেন। তারপর বললেন, যে কেউ যা ইচ্ছে মনে করতে পারে সেটা তাদের ব্যাপার। আমি অতীত মনে রাখি না। অনেকেই আমায় ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ডুরান্ড ফাইনালের কথা মনে করাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি আমরা কি করতে পারি সেটা কাল প্রমাণ করব। এর বেশি কিছু বলব না। চোয়ালটা শক্ত হয়ে আসে গ্রিক কোচের। মোহনবাগান এই ম্যাচে পাবে না তাদের অন্যতম সেরা বিদেশি স্ট্রাইকার জেমিকে। তার কুচকির চোট থেকে রিকভার করতে কয়েকটা দিন লাগবে। তবে সেটা নিয়ে অজুহাত দিতে রাজি নন বাগান হেড স্যার। নিজের দলের ওপর আস্থা রয়েছে তার। অনুশীলনে দেখা গেল ডিফেন্স এবং মাঝমাঠ শক্ত করতে ফুটবলারদের আলাদা করে ডেকে বোঝাচ্ছেন। নিজেদের মধ্যে যাতে দূরত্ব ১০-১৫ গজের বেশি না থাকে সেটা নিয়েও কথা বললেন মিগুয়েল, অনিরুদ্ধদের সঙ্গে। শুভাশিস বসু আগের মত ছন্দে নেই। গতি কমেছে। অনেকেই বলছেন এটাই নাকি তার শেষ বছর সবুজ মেরুন জার্সিতে। তবে মোহনবাগানের ক্যাপ্টেন জানেন সব সমালোচনা থামিয়ে দিতে পারেন যদি এই ম্যাচটা জিতে যায় তার দল। অন্যদিকে জাতীয় দলের হয়ে পানামা এবং উরুগুয়ের বিপক্ষে মনিপুরের অভিষেক সিং দারুণ খেলেছেন। তার দায়িত্ব থাকবে ইস্টবেঙ্গলের বাঁদিক থেকে আসা আক্রমণ সামলানোর। পাশাপাশি মাঝখানে আপুইয়া কতটা পারফর্ম করতে পারেন তার ওপর নির্ভর করছে মোহনবাগানের ভাগ্য। ডার্বি নিয়ে ভবিষ্যৎ বাণী চলে না একথা সবাই বলেন। এটা বলার জন্য ফুটবল পন্ডিত হওয়ার দরকার নেই। কিন্তু এবার সত্যিই বর্তমান ছন্দের বিচারে অনেকটাই এগিয়ে লাল হলুদ ব্রিগেড। কিন্তু মোহনবাগান ফুটবলারদের কাছেও এই ফাইনালটা জবাব দেওয়ার মঞ্চ। ডুরান্ড ফাইনালে দেড় মাস আগে যে লজ্জার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তার বদলা নেওয়ার প্লাটফর্ম। বৃহস্পতিবারের যুবভারতী মোহনবাগানের কাছে বদলাপুর হবে কিনা উত্তর দেবে সময়।
সাহাল, মনবীরদের ওপর ভরসা পানোসের
ডুরান্ড হারের জবাব দিতে মরিয়া মোহনবাগান
- khabar365din
- October 7, 2026
- 4:52 pm
- No Comments




