পথকুকুরদের টিকাদান, নির্বীজকরণের হার কম

উন্মত্ত পথ কুকুরদের কামড়ানোর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, তূলনায় শহরে
স্ট্রে ডগদের জলাতঙ্ক রোধের টিকা দেওয়ার ব্যবধান অনেক বেশি

৩৬৫ দিন। রাজ্যজুড়ে পথ কুকুরদের কামড়ানোর ঘটনা বেড়ে চলেছে।পথে ঘাটে বেরোলেই কামড় খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রাজ্যের বিভিন্ন অংশের মতো কলকাতাতে এই পথ কুকুরদের কামড়ানোর ঘটনা ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে।এই পথ কুকুরদের যদি আগেভাগেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়, তাহলে আক্রান্তদের বাঁচানো যায়। কলকাতা পুরসভার ক্লিনিকে আক্রান্তদের ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।যে পরিমাণ কুকুর কামড়ায় তার তুলনায় এই জলাতঙ্ক রোধের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে অল্প, ব্যবধান অনেক বেশি।গত বছর ৩০,৬৬৮ জনকে কুকুরে কামড়ায়, এই সব রোগীদের মধ্যে ৩,১০০ জনের কাছে ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে টিকা। বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসের মাঝে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা যাচ্ছে। এমনকি রাজ্যের হাসপাতাল গুলোতে মিলছে না পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন, কোথাও কোথাও আবার রোগীদের কিনে নিয়ে যেতে হচ্ছে সিরিঞ্জ।
জলাতঙ্ক রোধে পথ কুকুরদের জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিননেশনে আরও গতি আনা দরকার 
বাড়ির কুকুরদের সাধারণত ভ্যাকসিন দেওয়া হয়, যার জন্য তাতে মানুষের রক্ষাকবচ মেলে। কিন্তু রাস্তার কুকুর কামড়ালে আশঙ্কা রয়েছে। এইসব এখান ওখান ঘুরে বেড়ানো কুকুরদের ভ্যাকসিন দেওয়া থাকে না বলে বিপদ হতে পারে। একথা বুঝেই প্রশাসনিক স্তরে পথ কুকুর কামড়ালেই ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রয়োজন দেখা যায়। আক্রান্ত মানুষদের জলাতঙ্ক রোধের টিকা কে এম সি ক্লিনিকে সেভাবে মিলছে না বলে অভিযোগ। পুরসভার তথ্য বলছে,২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে ৩০,৬৮৮ জন টিকা পেয়েছে, প্রতি মাসে এই সংখ্যাটা ৩,১০০ জন।পথ কুকুরদের নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের সূত্র বলছে,৫,৮০৬ জনের ভাইরাস প্রতিরোধের টিকা দেওয়া দরকার ছিল, কিন্তু দেওয়া গেছে অল্প জন মানুষ কে।৫ জনের মধ্যে ১ জন এই টিকা পেয়েছে।
কে এম সির পথ কুকুরদের টিকা দেওয়ার সংখ্যা যথেষ্ট কম
পথ কুকুরদের বিষ যাতে মানুষের ক্ষতি না করে, সেজন্য তাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রেও কলকাতা পুরসভার পুরনো বোর্ড সেভাবে সাফল্য দেখাতে পারে নি। যেখানে পথ কুকুরদের আক্রমণ হাজার হাজার বেড়েছে, সেখানে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে নামমাত্র।কারণ, পুরসভার ক্লিনিকে ৩,০৮৭ টি পথ কুকুরদের টিকা দেওয়া হয়েছে। এদিকে,২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ১৫,২৯৬ টি কুকুরকে এই বিষ মারার জন্য টিকা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে,২০২৩ সালে ৩৪,০০০ এর‌ও বেশি মানুষ কুকুরদের কামড়ের মুখে পড়ে।২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে আরও ৩৪,৪৩০ জনের চিকিৎসা করা হয়েছে।
অপর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও লোকবলের কারণে
রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে 
২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক প্রতিরোধী দিবসে এই রোগ দূরীকরণে নানা প্রচার করা হয়েছে, কিন্তু এই কুকুরদের টিকা দান ও আক্রান্ত মানুষদের জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধের ভ্যাকসিন দেওয়ার যে বিপুল ঘাটতি রয়েছে,তা জনস্বার্থে অবিলম্বে দূর করতে হবে।পুর প্রশাসনের তথ্য বলছে, পর্যাপ্ত লোকবল ও পরিকাঠামো না থাকায় পর্যাপ্ত টিকাকরণ ব্যাহত হচ্ছে। সূত্রের খবর, ,৮৪,০০০ পথ কুকুরদের বন্ধ্যাকরণের চেষ্টা সম্পূর্ণ হয়নি শুধু এই জোড়া কারণে। কলকাতা পুরসভার রয়েছে একটি কুকুরদের আশ্রয় কেন্দ্র,ধাপায় থাকা এই আশ্রয় কেন্দ্রে ২৫০ টি প্রাণী রাখা যায়। বিপুল সংখ্যক স্ট্রে ডগদের জন্য এটা ভীষণ কম।
জেলা, মহকুমা হাসপাতালে মেলা ভার হয়ে উঠেছে ভ্যাকসিন 
শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় জলাতঙ্ক রোধের টিকা সব সময় মিলছে না বলে অভিযোগ রোগীদের। ভ্যাকসিন যথেষ্ট স্টক না থাকায় এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে। সাধারণ রোগীদের মতো এক্ষেত্রে অন্য হাসপাতালে রেফার করে দায় সারছে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল। এমনকি এমনই দৈন্য দশা, যে ভ্যাকসিন মেলা ভার হচ্ছে। কখনো কখনো আবার সিরিঞ্জ কিনে আনতে বলা হচ্ছে অসহায় রোগীদের। কেএম সির ক্লিনিকের মতোই রাজ্যের হাসপাতাল গুলোতে জলাতঙ্ক রোধের ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত না মেলায়
রোগীদের হয়রানি যে বাড়ছে তা বলাই যায়,যা বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালনের মাঝে বেশ ইঙ্গিতবাহী।

Scroll to Top