ফের পুলিশের জালে গ্রেফতার ভুয়ো চিকিৎসক

৩৬৫ দিন। পর পর শিশু মৃত্যু থেকে ভুয়ো ডাক্তারদের দিয়ে চিকিৎসা করানো – ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠেছিল বর্ধমানের নবাবহাট মোড়ের লাইফ কেয়ার বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত নার্সিংহোমের দুই মালিক শেখ সুরজ আহমেদ ও আনিসুর মন্ডলকে গ্রেফতার করল পুলিশ। চিনারপার্কের কাছে অভিযান চালিয়ে এই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।‌ বর্ধমান আদালত তোলা হলে ধৃত দু’জনের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজত হয়। ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের ২ তারিখ।
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা রামজীবনপুরের বাসিন্দা জয়ন্ত রায় তাঁর শিশুপুত্র অরণ্য রায়কে ভর্তি করান লাইভ কেয়ার নার্সিংহোমে। সেখানকার চিকিৎসকরা তাদের জানান ফিমোসিসের অস্ত্রোপচারকরছ করে ঘন্টাখানেকের মধ্যে শিশুটিকে ছেড়ে দেওয়া হবে। অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পর তারা জানতে পারেন অস্ত্রোপচারের পর শিশুর জ্ঞান ফেরেনি। কেন তাদের না জানিয়ে শিশুটিকে অ্যানেস্তেশিয়া দেওয়া হল সেই প্রশ্ন করতে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তাদের জোর করে কিছু কাগজে সই করানো হয়। পরে শিশুটির মৃত্যু হয়। এরপর ওই নার্সিংহোম এবং অপারেশনের দায়িত্বে থাকা ডা. শহিদুল হক, ডা. বনোজকুমার দে, ডা. সরণ মুকুল সাহা, ডা. সাবির আহমেদ ও ডা. অভিজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে অভিযোগ জানান মৃত শিশুর পরিবারের সদস্যরা। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয়। একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। সেই তদন্ত রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। ওই রিপোর্টে বলা হয়, এটিই প্রথম নয় এর আগেও একাধিক শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ওই নার্সিংহোমে। প্রতি ক্ষেত্রেই গাফিলতির অভিযোগ ছিল পরে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়। তদন্তে উঠে আসে নার্সিংহোমের দুই মালিক ভুয়ো ডাক্তারদের সঙ্গে সড় করে কার্যত মানুষ মারার কারবার ফেঁদে বসেছিল। চিকিৎসার নামে টাকা নেওয়া হলেও কোনও পরিষেবা দেওয়া হত না। হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে অস্ত্রোপচার করা হত। এছাড়াও স্বাস্থ্য দফতরের গাইডলাইন না মানার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। স্বাস্থ্য দফতর নার্সিংহোম বন্ধ করতেই বর্ধমান ছেড়ে পালায় ওই নার্সিংহোমের দুই মালিক। শেষ পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করল পুলিশ।

Scroll to Top