৩৬৫ দিন। শিলিগুড়ি। কার্শিয়াঙে বার্বিকিউর ক্যাম্পফায়ার অগ্নিকাণ্ডে ঘটনার পর হোমস্টে নিয়ে কড়া প্রশাসন! দার্জিলিঙ এসডিও-কে মাথায় রেখে পাহাড়ে হোমস্টেগুলি পরিকাঠামো যাচাইয়ে বিশেষ অডিট কমিটি গঠন। দার্জিলিঙ এসডিও নেতৃত্বে এই কমিটিতে থাকছে পুলিশ দমকল আধিকারিকরা। পাহাড়ের সমস্ত সরকারি অনুমোদন যুক্ত ও অনুমোদনের বাইরে থাকা হোমস্টেগুলির পরিকাঠামো থেকে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা সহ যাবতীয় খুঁটিনাটি যাচাই করবে এই বিশেষ টিম। পরিকাঠামোহীন ভাবে চলা হোমস্টেগুলির বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হবে। পরিকাঠামো থেকে পর্যটকদের প্রাথমিক সুরক্ষা বিষয়ে খামতি নজরে এলে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে বনফায়ারে বার্বিকিউ মিটের স্বাদ নেওয়ার মাঝে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হন দম্পত্তি।
নববধূ মহিলার দেহের ৫৫শতাংশ অগ্নিদগ্ধ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের পূর্ন সহযোগিতায় উন্নতর চিকিৎসা জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরই গুরুত্বপূর্ণ পরিসেবা প্রদানের কাজে হোমস্টেগুলোতে অদক্ষ কর্মীদের নিযুক্তি ও সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে পরিকাঠামো নিয়েও গুচ্ছের প্রশ্ন উঠে আসে। এই ঘটনার পরই পুজোয় পর্যটকদের শঙ্কা কাটাতে পাহাড়ের হোটেলগুলিতে বার্বিকিউ থেকে বনফায়ার ঘিরে বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলাশাসক হরিশংকর পান্নিকর জানান- সরকারি অনুমোদন যুক্ত ও সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে চলা হোমস্টেগুলিতে পরিকাঠামোসহ যাবতীয় ব্যবস্থাপনার সঠিক রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে। দার্জিলিং এসডিওকে মাথায় রেখে এই অডিট কমিটি ধারাবাহিক পাহাড়ের হোমস্টেগুলিতে অভিযান চালাবে। অডিটে কোথাও কোন খামতি নজরে এলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে পর্যটক ব্যাবসায়িদের একাংশের তরফে ঘটনার পর পাহাড়ে রেজিস্ট্রেশন বিহীন ভাবে চলা হোমস্টগুলি চিহ্নিতকরনের দাবি তোলা হয়। পাহাড়ি এলাকায় নিত্যদিন গড়ে উঠছে নতুন নতুন হোমস্টে। সরকারি খাতায় কলমে উত্তরের পার্বত্য জেলা দার্জিলিং কালিম্পঙ মিলিয়ে ২৫০০ হোম স্টে রয়েছে। তবে এই সংখ্যা শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদনযুক্ত হোমস্টের।
বড় সংখ্যক অনুমোদনহীন হোমস্টে পাহাড়ি অফবিট ডেস্টিনেশনগুলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। পর্যটন ও ব্যবসায়িক সংগঠন সিআইআই-এর অন্যতম সদস্য সম্রাট সান্যাল জানান- এই হোম স্টে গুলি সরকারি নির্দেশিকা ও অডিটের বাইরে। ফলে অনুমোদনহীন হোম স্টে নিয়ে ঝুঁকি থেকেই যায়। জেলা প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের তরফে রাজ্য জুড়ে হোমস্টেগুলিকে নিয়ে নতুন নীতি প্রণয়নের কাজ চলছে। ফলে নতুন নীতি প্রণয়ন হলে বিষয়গুলি পরিষ্কার হবে এবং যে সমস্যাগুলি রয়েছে সেগুলিতে আলোকপাত করা হচ্ছে। তবে সরকারি ভর্তুকি ছাড়া নিজস্ব বলে কেউ হোমস্টে চালাতে চাইলে তা পরিচালনা করা যেতে পারে। অপরদিকে দীর্ঘ দিনের অভিযোগ বাইরে থেকে ব্যবসায়ীদের বড় অংশ পাহাড়বাসীকে সামনে রেখে হোমস্টে পরিচালনার নেপথ্যে কাজ করছে।সেখানে আপৎকালীন কোন পরিস্থিতি তৈরি হলে তাঁর আচঁ পর্যন্ত পড়ছে না মালিকপক্ষের ওপর। সমস্তরকম দায়ভার ও আইনি জটিলতা থেকে নিজ দায় ঝেড়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজিয়ে রাখছে আসল মালিকপক্ষ। জেলাশাসক জানান-হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে হোমস্টে সর্বত্রই যথাযথ অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা থাকা দরকার।
পুজোর আগে হোমস্টে পরিদর্শনে অডিট কমিটি




