রাস্তার বাজারে নেই ট্রেড লাইসেন্স, হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হয়ে গেল গ্যালিফ স্ট্রিটের শতাব্দী প্রাচীন পশুপাখির বাজার

৩৬৫ দিন। বন্ধ হয়ে গেল গ্যালিফ স্ট্রিটের শতাব্দী প্রাচীন পশুপাখির বাজার। রাস্তার বাজারে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া নিয়ে সমস্যা এবং বেআইনি পশুপাখি বিক্রির রমরমা বেড়ে যাওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আজ রবিবার থেকে বন্ধ হয়ে গেল এশিয়ার বৃহত্তম পশু পাখির বাজার। বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির প্রাণী পাচার এবং বেআইনি কেনাবেচা বন্ধ করতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছিল হাইকোর্ট। সেই মামলার শুনানিতেই উঠে আসে গালিফ স্ট্রিটের বাজারের প্রসঙ্গ। ব্রিটিশ আমলে হাতিবাগান এলাকায় শুরু হয়েছিল এই পোষ্য বাজার। পরে যানজট-সহ নানা কারণে সেটি গালিফ স্ট্রিটে স্থানান্তরিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে শখের হাট নামে পরিচিত এই বাজারে পোষ্য কেনাবেচা চলে আসছে।
গত সপ্তাহেই কলকাতা হাইকোর্টের নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, কুকুরছানা থেকে পাখি, মাছ—কোনও ধরনের বেআইনি পোষ্য বিক্রি করা যাবে না। শুধু বেআইনি বিক্রি বন্ধ করাই নয়, বাজারে কারা ব্যবসা করতে পারবেন, তা নিয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কলকাতা পুরসভার বৈধ লাইসেন্স রয়েছে, এমন বিক্রেতারাই কেবল সেখানে পোষ্য বিক্রি করতে পারবেন। তবে লাইসেন্স থাকলেই যে কোনও প্রাণী বিক্রির অনুমতি মিলবে না বলেও স্পষ্ট করেছে হাইকোর্ট। প্রতিটি ক্ষেত্রে বিক্রি হওয়া প্রাণী আইন মেনে কেনাবেচা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে পুলিশকে। হাটের ব্যবসায়ী সংগঠনের লিগাল অ্যাডভাইজার রাজেন্দ্র প্রসাদ রায় চৌধুরীর দাবি, হাটের সদস্য নন এমন বহু ব্যক্তি সেখানে এসে নিজেদের মতো করে মাছ ও অন্যান্য সামগ্রীর ব্যবসা করছিলেন। আজ কিছু মাছ, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং বেআইনি ভাবে আনা গাছ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

Scroll to Top