রানী রাসমনির জমায়েতে ছাত্রদের অনুপস্থিতি ঘিরে অসন্তোষ প্রকাশ ঋতব্রত শিবিরের

৩৬৫ দিন। রানী রাসমণি রোডে তৃণমূলের বি-টিম ঋতব্রত শিবিরের উদ্যোগে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রত্যেক কলেজে ছাত্র সংসদের ভোট অবিলম্বে শুরু করার দাবী জানানো হল। একইসঙ্গে ঋতব্রত শিবিরের প্রত্যেক নেতৃত্ব সোচ্চার হয়ে জানালেন, তারা বেইমান নন। রাজ্যের উন্নয়নের জন্য তারাই প্রকৃত তৃণমূল হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলছেন। বরং বিজেপির সঙ্গে কালীঘাট তৃণমূলের সেটিং নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন ঋতব্রত শিবিরের নেতৃত্বরা। শুক্রবার রানী রাসমণি এভিনিউতে ঋতব্রত শিবিরের উদ্যোগে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়। এই উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, আখরুজ্জামান, বিপ্লব মিত্র, স্নেহাশীষ চক্রবর্তী, দেবাশীষ কুমার সহ অন্যান্য নেতৃত্ববৃন্দ। পাশাপাশি এদিন এই মঞ্চ থেকে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করা হয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, যেভাবে ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে তৃণমূলের বি-টিম প্রত্যেক কলেজে ছাত্র সংসদের ভোট করানোর দাবি জানিয়েছেন, তার ফলে একটি বিষয় প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ছাত্র সংসদের নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে প্রত্যেক কলেজে বিজেপির ছাত্র সংগঠনকে প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই উদ্যোগ নিয়েছে তৃণমূলের বি-টিম ঋতব্রত শিবির। প্রত্যেক কলেজে যেন এবিভিপির সংগঠন তৈরি হতে পারে সেজন্য উঠেপড়ে লেগেছে ঋতব্রত শিবির।
জমায়েতে ছাত্রদের অনুপস্থিতি ঘিরে অসন্তোষ প্রকাশ ঋতব্রত শিবিরের নেতৃত্বের
ঋতব্রত শিবিরের উদ্যোগে রানী রাসমণি এভিনিউতে ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্র ছাত্রীদেরই দেখা গেল না। যে পরিমাণ বক্তা বা নেতৃত্ব এদিন মঞ্চে উঠে বক্তৃতা করলেন, তার থেকেও সংখ্যায় অনেক কম ছাত্র-ছাত্রীদের জমায়েত হয় রানী রাসমণি এভিনিউতে। অথচ, ঢিল ছোড়া দূরত্বে, ক্যাথিড্রাল রোডে কালীঘাট তৃণমূলের উদ্যোগে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জমায়েতে বিপুল পরিমাণ ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড় নজরে আসে। এদিন ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ রানী রাসমণি এভিনিউতে তৃণমূলের বি টিমের জমায়েতে প্রথম থেকেই দর্শক আসন ছিল শূন্য। এমনকি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঋতব্রত শিবিরের দুই নেতাও জমায়েতে ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন। এদিন অনুষ্ঠানের মাঝে মঞ্চের নিচে দক্ষিণ বঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের দুই নেতা এই বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তরবঙ্গের এক নেতা বলেন, “আমরা আশঙ্কা করেছিলাম ছাত্র-ছাত্রীদের জমায়েত কম হবে। কিন্তু এতটাও কম হবে তা আশা করিনি। নেতৃত্বের উচিত ছিল এই বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়ার। কিন্তু নেতৃত্ব এই বিষয়টি খেয়ালই করেনি বলে মনে হচ্ছে।” পাশাপাশি দক্ষিণ বঙ্গের আরেক নেতা বলেন, “এই বিষয়টি নিয়ে আমি নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলব। নেতৃত্বে উচিত এই প্রসঙ্গে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার।”
এদিন মঞ্চ থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের দাবি একটাই, ছাত্র সংসদের ভোট করতে হবে। না হলে গোটা দেশের ছাত্র সংসদের আন্দোলন ব্যাহত হবে। ডক্টর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনি নিজে ছাত্র সংসদের প্রোডাক্ট, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর ভোট বন্ধ করে দিলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও ছাত্র সংসদের প্রোডাক্ট। কিন্তু ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনের পরেও ভোট নিয়ে কিছু বলছেন না। রাজ্যের সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেস ভুল করেছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে কি হবে না সরকারকে বলতে হবে। বিজেপি অভিষেককে বাঘ বানানোর চেষ্টা করছে। বোঝাই যাচ্ছে সেটিং টা কত গভীরে।” পাশাপাশি ফিরহাদ হাকিম বলেন, “ছাত্র সংসদের নির্বাচন চালু করতে হবে। আজ ছাত্র লিডারশীপ নেই। তৃণমূল সরকারকে তার পাপ বহন করতে হবে, ছাত্র নির্বাচনকে নষ্ট করে দিয়েছে তারা। অনেকেই প্রশ্ন করেছে, আপনারা বেইমানি করে এদিকে এলেন কেন। আমরা বেইমানি করি নি। ঋতব্রত আমাদের লিডার। আমরা চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষে ছিলাম না। আজকে একটা সাম্প্রদায়িক দল মাথাচাড়া দিয়েছে। আমাদের কিছু সিদ্ধান্তের ভুলে বিজেপি তার ফায়দা তুলেছে। আমরা বিজেপিকে বাংলা থেকে দূর করব।” একইসঙ্গে অরূপ বিশ্বাস বলেন, “আমাদের দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে আমরা নাকি বেইমান। আজকে হাজার হাজার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী গ্রেপ্তার হচ্ছে। আমাদের লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে থাকবে। কিন্তু ভালো কাজকে ভালো বলব। আমরা কারুর বি-টিম নই। আমরা প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস।”

Scroll to Top