আপনারা কীসের আজাদি চান? হেরোইন খাওয়ার আজাদি?
যাদবপুরকে চরম হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

৩৬৫ দিন। আপনারা কীসের আজাদি চান? হেরোইন খাওয়ার আজাদি? গাঁজা খাওয়ার আজাদি? ড্রাগ নেওয়ার আজাদি? টুকরে টুকরে গ্যাং! এভাবেই আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে সহস্রকণ্ঠে বন্দেমাতরম গাওয়ার অনুষ্ঠান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে বামপন্থী এবং অতি বামপন্থী ছাত্র-ছাত্রীরা দেশ বিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকে বলে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজাদি! কীসের আজাদি? এই পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকে হাতে গীতা নিয়ে ক্ষুদিরাম বসুরাই আজাদি দিয়ে গিয়েছেন। এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে মাতঙ্গিনী হাজরা এক হাতে তেরঙ্গা, এক হাতে শঙ্খ নিয়ে তমলুকের বানপুকুরে ব্রিটিশের গুলি খেয়ে আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গিয়েছেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, আরও পিছিয়ে গেলে ঋষি অরবিন্দ, রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়, বিনয়-বাদল-দীনেশ, মাস্টারদা সূর্যসেন থেকে শুরু করে অসংখ্য বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলছে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে আজ কার্যত আলটিমেটাম দিয়ে শুভেন্দু বলেন, অপারেশন সিঁদুর হলে মিছিল বের করে এরা। যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই। অবিলম্বে পাকিস্তানে ভারতীয় হানা বন্ধ কর। এরা কারা! হিসেবের শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছে গিয়েছে। হয় এরা থাকবে, নয় আমরা থাকব। মাঝে আর কিছু হবে না। কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি! কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি! এই বেয়াদবরা শুনে রাখ, অপারেশন সিঁদুরে মাসুদ আজহারের বংশকে নির্বংশ করেছে আমাদের এয়ারফোর্স। আর আমরা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব। কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি!
যাদবপুরে কেন কিষেণজিকে রেড স্যালুট দেওয়া হয়, সেই প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সেন্টার ফর এক্সিলেন্স যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। গর্বের। সেখানে কলা বিভাগের দেওয়ালে লিখবেন রেড স্যালুট কিষেণজি। কী শেখাচ্ছেন নতুন প্রজন্মকে? এই কিষেণজি কে? যিনি বলেন ভারতকে ভাগ করব। খারাপ লাগে যখন কলকাতার রাস্তায় আজ়াদি স্লোগান ওঠে। কীসের আজ়াদি? কেন যাদবপুরে কিষেণজিকে রেড স্যালুট দেওয়া হয়? কী শেখাচ্ছেন আগামী প্রজন্মকে? ভারতমাতাকে শক্তিশালী করা খুব প্রয়োজন। আমার খুব কষ্ট লাগে যখন দেখি কলকাতার রাস্তায় আজ়াদি আজ়াদি। কীসের আজাদি? কাশ্মীরের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের এত লড়াই, সেখানে আপনি কলকাতার রাস্তায় কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি লিখবেন। এ খুব পীড়াদায়ক।
ড্রোন ওড়াবো যাদবপুরে
আজ যাদবপুরের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ড্রোন ওড়ানো হবে। কোথায় গাঁজা, ড্রাগ, হেরোইন খাওয়া হচ্ছে, সেইসব দেখা হবে। তিনি বলেন, কমিউনিস্টদের আমলে এই প্রতিষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র বা বিদ্যাসাগরের ছবি ঠাঁই পেত না। তারা নেতাজিকে তোজোর কমিউনিস্টরা এখানকার পরিবেশ নষ্ট করেছে। নকশাল আমলে উপাচার্য গোপাল সেনকে খুন করা হয়েছিল, তাও সকলের জানা। এখানকার ৯০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী রাষ্ট্রবাদী ও দেশপ্রেমিক। অথচ চে গুয়েভারার গেঞ্জি পরা কিছু গোষ্ঠী রানাঘাটের পড়ুয়ার মতো পরিণতি করার হুমকি দিয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের জোর করে মিছিলে নিয়ে যায়।
মমতার পাড়ায় খোল বাজিয়ে পদযাত্রা মুখ্যমন্ত্রীর
যাদবপুরের বামপন্থী এবং উগ্র বামপন্থী ছাত্র-ছাত্রী সংগঠন গুলির বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি দেওয়ার আগে আজ সকালেই নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে খোল করতাল নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ায় পদযাত্রা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পদযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে চলতে থাকে কীর্তন। সঙ্গে ছিলেন তাপস রায়, পাপিয়া অধিকারী-সহ অন্যান্যরা।
আজ নজরুল মঞ্চে রাজ্য সরকারের আয়োজিত রাখি বন্ধন উৎসবে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাখিবন্ধন শুধু ভাই-বোনের বন্ধন নয়, এই অনুষ্ঠানকে রাষ্ট্রবাদের বন্ধন হিসেবে পালন করতে হবে। প্রতিটি স্কুলে এনসিসি শুরু করার জন্য আমি রাজনাথ সিংহের সঙ্গে কথা বলেছি। পাশাপাশি নিজের স্কুল জীবনের স্মৃতি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্কুলে দু’বছর, একাদশ-দ্বাদশ এবং কলেজে তিন বছর আমি নিজে এনএসএস করেছি। আমি এনএসএসের ক্যাপ্টেন ছিলাম। দুর্গাপুজোর সময়ে যে ছুটি থাকত, সেই ছুটিতে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে ভাঙা রাস্তা সারানো থেকে শুরু করে পুকুর পরিষ্কার-সহ নানা উন্নয়নের কাজ করতাম।

Scroll to Top