৩৬৫ দিন। রাখিবন্ধনের একটি গয়নার বিজ্ঞাপন। সময় মাত্র ছত্রিশ সেকেন্ড। সেখানে কৃতি শ্যানন আধুনিক ভারতীয় পোশাকে ভাইকে রাখি বাঁধছেন, পোষ্য কুকুরকেও রাখি পরাচ্ছেন। পোশাকটি ছিল ভারতীয় ও পাশ্চাত্য ধারার মিশ্রণ—খাটো অন্তর্বাসসদৃশ উপরের পোশাক, তার সঙ্গে আবরণ এবং ঝুলন্ত স্কার্ট। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর পোশাক নিয়ে আপত্তি ওঠে। তারপর সেই বিতর্কে ঝাঁপিয়ে পড়লেন বিজেপির সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন—“ভাইকে বিকিনি পরে রাখি বাঁধবে কেন?” বিজ্ঞাপনটিকে তিনি বললেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অস্বস্তিকর। প্রশ্নটা এখানেই: একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী কী পোশাক পরবেন, সেই সিদ্ধান্তের বিচারক কে?কৃতি এবার চুপ থাকেননি। তাঁর বক্তব্য আরও সরাসরি। উৎসবের আসল অর্থ পোশাকে নয়, অনুভূতিতে। সংস্কৃতি শুধু পোশাকের গলার কাটায় মাপা যায় না। আর প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—কবে আমরা নারীদের কী পরতে হবে তা বলা বন্ধ করব? কঙ্গনার বক্তব্য শুনলে মনে হতে পারে, রাখিবন্ধনের মতো উৎসবে নির্দিষ্ট পোশাকবিধি থাকা উচিত। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, পোশাকের স্বাধীনতার প্রশ্নে তাঁর নিজের চলচ্চিত্রজীবনের ছবিগুলি যথেষ্ট বৈচিত্র্যময়। চলচ্চিত্রজীবনে কঙ্গনা নিজেও বিকিনি পরেছেন। পুরনো ছবিতে তাঁর বিকিনি-পর্বের উল্লেখ, অর্থাৎ নিজের শরীর, নিজের পোশাক, নিজের প্রকাশভঙ্গি নিয়ে স্বাধীনতার অধিকার একজন নারীর থাকতেই পারে—এটাই আধুনিকতার স্বাভাবিক ধারণা। কিন্তু সেই একই স্বাধীনতা অন্য নারী ব্যবহার করলে সেখানে হঠাৎ করে সংস্কৃতি, উৎসব, শালীনতা, পারিবারিক মূল্যবোধ—সব একসঙ্গে হাজির হয়ে যায় কেন?
কঙ্গনা যদিও বলেন, “আমি আমার পোশাকের স্বাধীনতা ভোগ করেছি, কৃতিও তাঁর পোশাকের স্বাধীনতা ভোগ করবেন”, তাহলে বিতর্ক শেষ। কিন্তু তিনি যখন অন্য নারীর পোশাককে উৎসবের উপযুক্ত-অনুপযুক্ত বলে বিচার করেন, তখন সেটিই হয়ে ওঠে নৈতিক পাহারাদারি।রাখিবন্ধন একটি পারিবারিক উৎসব। ভাই-বোনের সম্পর্ক, স্নেহ, শুভকামনা, পারস্পরিক রক্ষার প্রতিশ্রুতি—এই আবেগই তার কেন্দ্র। কৃতির বিজ্ঞাপনে পোষ্য কুকুরকেও রাখি পরানোর দৃশ্য নিয়েও আপত্তি উঠেছে। কিন্তু কৃতির বক্তব্য ছিল, পোষ্যও পরিবারের অংশ; তাই ভালোবাসার সেই পরিসরে তার স্থান থাকা অস্বাভাবিক নয়।





