উফ কি গরম!

৩৬৫ দিন। সব ছবি ও কপি । কথাকলি দত্ত। মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার রেইন ফরেস্ট বা বর্ষাবন হল বিলুপ্তপ্রায় ওরাংওটাং-এর একমাত্র প্রাকৃতিক আবাসস্থল। পাম অয়েল চাষের জন্য বন উজাড়, দাবানল এবং অবৈধ শিকারের কারণে ওরাংওটাংদের অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে । এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্ষাবন রক্ষা এবং ওরাংওটাংদের বাঁচাতে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া সরকার, বিশ্বব্যাপী পরিবেশবাদী সংস্থা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী।
যৌথভাবে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে 
সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা পাম অয়েল উৎপাদনের জন্য যাতে আর কোনও নতুন বর্ষাবন কাটা না হয়, সেজন্য মালয়েশিয়ায় এবং ইন্দোনেশিয়ায় এর মতো টেকসই সার্টিফিকেশন পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে শুধু সেই পাম অয়েলই বিক্রি হতে পারে, যা পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি না করে উৎপাদিত হয়েছে। নতুন বাগান সম্প্রসারণে নিষেধাজ্ঞা n মালয়েশিয়া সরকার পাম অয়েল চাষের মোট জমির ওপর একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যাতে কোনওভাবেই সংরক্ষিত বনের জমি কৃষিকাজে ব্যবহার করা না যায়। ওরাং ওটাং করিডোর n পাম অয়েল বাগান বা রাস্তার কারণে যখন একটি বড় বন ছোট ছোট খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়, তখন ওরাংওটাংরা এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে পারে না এবং তাদের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
এর সমাধানে বনের বিচ্ছিন্ন অংশগুলোকে পুনরায় যুক্ত করতে ‘বন্যপ্রাণী করিডোর’ বা গাছপালা দিয়ে ঘেরা সবুজ পথ তৈরি করা হচ্ছে। সাবাহ প্রদেশের কিনাবাতানগান নদীর অববাহিকায় কৃত্রিম ক্যানোপি বা ওরাংওটাং ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে, যাতে তারা নদী বা খালের ওপর দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে। সেপিলক কনজারভেশন এবং রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার  সেপিলক ওরাংওটাং পুনর্বাসন কেন্দ্রn মালয়েশিয়ার সাবাহ প্রদেশে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ওরাংওটাং সংরক্ষণাগার। এখানে এতিম, আহত বা পোষা প্রাণী হিসেবে আটকে রাখা ওরাংওটাংদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং বনে একা বেঁচে থাকার মতো দক্ষ করে পুনরায় রেইনফরেস্টে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভয়ারণ্য ঘোষণা বোর্নিও ও সুমাত্রার বিস্তীর্ণ বর্ষাবনকে কঠোরভাবে সংরক্ষিত এলাকা বা ন্যাশনাল পার্ক (যেমন দানুম ভ্যালি, গুনুং লেউসার) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নজরদারি স্মার্ট ফরেনস্ট্রি ও ড্রোন বিশাল রেইনফরেস্টে অবৈধ গাছ কাটা বা বনের ভেতরের আগুন দ্রুত শনাক্ত করতে স্যাটেলাইট ইমেজ এবং থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

Scroll to Top