বালাজি গোষ্ঠীর উদ্যোগে রাজ্যে ২০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

৩৬৫ দিন। পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে স্লোগান তুলেছিলেন, ইনভেস্ট ইন বেঙ্গল, গ্রো উইথ বেঙ্গল। মুখ্যমন্ত্রীর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করল জয় বালাজি গ্রুপ। যার ফলে রাজ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি তৈরি হবে আরো অন্তত ২০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান। গতকাল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বারে বারে জানিয়েছিলেন ম্যানুফ্যাকচারিং বা নির্মাণ শিল্পের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন শিল্পে অগ্রাধিকার দেবে রাজ্য সরকার।
রাজ্য সরকারের নয়া শিল্পনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জয় বালাজি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গে রেলের জন্য এলয় ও বিশেষ ধরনের স্টিলের নির্মাণ, প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের গবেষণার সহযোগী জিনিসপত্র তৈরির পাশাপাশি অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগ করতে চায় তারা। পাশাপাশি সূক্ষ্ম ও নির্ভুল মাপের ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, বিশেষ ধরনের তামার সামগ্রী এবং ইস্পাতের ঢালাই ও ফোর্জিং তৈরির ক্ষেত্রেও উপস্থিতি বাড়াতে চায় জয় বালাজি। উৎপাদনের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে জয় বালাজির। প্রায় চার প্রজন্ম ধরে বাংলা তথা কলকাতার সঙ্গে সম্পর্ক জয় বালাজি গ্রুপের কর্ণধার জাজোদিয়া পরিবারের। ওড়িশা ছত্রিশগড় এবং পশ্চিমবঙ্গে মোট ১০ ইউনিট থাকলেও পশ্চিমবঙ্গকে প্রাধান্য দিয়ে এখনো পর্যন্ত তাদের ৮ টি ইউনিট রয়েছে বাংলাতেই। স্পঞ্জ আয়রন, পিগ আয়রন, ফেরো অ্যালয়, বিভিন্ন ধরনের ইস্পাত, ডাকটাইল আয়রন পাইপ, টিএমটি বার এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য তৈরি করে গোষ্ঠীটি।
প্রসঙ্গত গতকাল রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করতে গিয়ে শিল্প সংস্থা গুলির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি শিল্পায়নের জোর দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বর্তমানে রাজ্যে ২ কোটিরও বেশি শিক্ষিত বেকার রয়েছেন। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ শ্রমিক কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছেন। আমরা নির্বাচনী সংকল্প পত্র-এ দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর না খাব, না খেতে দেব নীতিতেই আমরা বিশ্বাসী। কাটমানি, সিন্ডিকেট এবং তোলাবাজি পুরোপুরি বন্ধের কাজ শুরু হয়েছে।

Scroll to Top