নিউটাউনের দুর্গাঅঙ্গনের প্রস্তাবিত জায়গায় হবে বালাজি মন্দিরঃ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

৩৬৫ দিন। রাজ্য সরকারের কাজ নয় মন্দির তৈরি করা। নিউটাউনের প্রস্তাবিত দুর্গাঙ্গনের ১৭ একর জায়গায় তিরুপতি বালাজির মন্দির তৈরি করবে মুকেশ আম্বানি গোষ্ঠী। শুক্রবার রাজারহাটে পল্লীশ্রী সংঘের কালীপুজোর উদ্বোধনে এসে একথাই ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের কাজ মন্দির করা নয়। আগের সরকার বলেছিল প্রথমে একটা জায়গায় দুর্গাঙ্গন করবে। যারা জমি দিয়েছিল, তারা বলল আমরা সরকারকে এই জমি দিয়েছিলাম অন্য কাজের জন্য। বিগত সরকার চাপে পিছিয়ে গেল। একটি ১৭ একর জায়গায় ভূমিপুজ হল। আমি মুম্বাই গেছিলাম, গণপতি উৎসবে আমাকে আম্বানি পরিবার উপস্থিত থাকতে আহ্বান করেছিলেন। মুকেশ আম্বানি, অনন্ত আম্বানি, তাদেরকে আমি বলেছি তারা আশ্বস্ত হয়েছেন।
ওই ১৭ একার জায়গা তারা কিনে নেবেন। ওখানে তিরুপতি বালাজির একটি মন্দির তারা তৈরি করবেন। আমি তাদের বলেছি কমার্শিয়াল প্রাইজে নয়, রিজেনেবল প্রাইজে সরকার তাদের জমি দেবে। সবাইকে মন্দিরের প্রসাদ দিতে হবে।’ একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যেই রাজারহাটে ডাটা সেন্টারের উদ্বোধন হয়েছে, মহানায়ক উত্তমকুমারের নামে ফিল্ম সিটির ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন হয়েছে। এখানে আদানি গ্রুপের আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে। নিউটনের চিড়িয়াখানাকে আরো উন্নত করা হবে। গোটা এলাকা সাজিয়ে তোলা হবে। ভূমিপুত্র, আদি বাসিন্দাদের বাদ দিয়ে কিছু হবে না।’ রাজ্যের মঠ ও মন্দির সংস্কারে ১ হাজার কোটি বরাদ্দ, গড়ে উঠবে তীর্থক্ষেত্র সার্কিট রাজ্যের পুরোনো মঠ-মন্দিরের জরাজীর্ণ দশা। সংস্কারের অভাবে কোথাও সেগুলি ভেঙে পড়েছে, কোথাও ঢেকে গিয়েছে জঙ্গলে। এবার রাজ্যের মঠ মন্দির গুলির সংস্কার করবে রাজ্য সরকার। এর জন্য প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। এভাবেই রাজ্যজুড়ে গড়ে উঠবে তীর্থক্ষেত্র সার্কিট। এদিন দুপুরে নদিয়ার আড়ংঘাটায় কালীপুজোর উদ্বোধনে গিয়ে এ কথাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নদিয়া সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় কালীপুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলার প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপত্যগুলিকে অবহেলার মধ্যে ফেলে রাখা যাবে না। সেগুলিকে সংস্কার করে নতুন রূপ দেওয়া হবে।
কেদার ধাম, বদ্রীধামকে নতুন করে সাজিয়ে তুলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ঢেলে সাজানো হয়েছে কাশী-বেনারস ও উজ্জয়িনী মহাকাল মন্দিরও। বাংলার মঠ-মন্দিরগুলোকেও সাজিয়ে তোলা হবে। যত পুরোনো মঠ ও মন্দির রয়েছে, তার সংস্কার করার জন্য আগামী দুই বছর এক হাজার কোটি টাকা খরচ করা হবে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘তীর্থ ক্ষেত্র সার্কিট।’ ব্যক্তিগত জায়গা ছাড়া দেবোত্তর, ট্রাস্ট, সর্বজনীন প্রাচীন মন্দিরগুলোও সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই ঘোষণার পাশাপাশি রাজ্যের ধর্মীয় উৎসবের পরিসর বৃদ্ধি করা নিয়েও মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘বাংলায় দুর্গাপুজো ক্রমশ বড় আকার নিচ্ছে। এ বছর রাজ্যে পুজোর সংখ্যা ৫৮ হাজারে পৌঁছেছে, যা সর্বাধিক। পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।’ ধর্মীয় উৎসব পালনের ক্ষেত্রে আগের সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভাবাবেগ ও বিশ্বাসকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আগে দুর্গাপুজোর বিসর্জনে বাধা আসত, এখন সনাতনীদের আস্থা রক্ষাই আমাদের লক্ষ্য। এই বছর কোথাও পুজো করতে বাধা দেওয়া হয়নি।’ পালাবদলের পর রাজ্যজুড়ে দুর্গাপুজোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
জগদ্ধাত্রী পুজো ও রাস পূর্ণিমা নিয়ে পরিকল্পনা
আরংঘাটার শতদল ক্লাবের কালীপুজোর উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী জগদ্ধাত্রী পুজো, রাস পূর্ণিমা নিয়ে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা জগদ্ধাত্রী পুজোয় চন্দননগর ও কৃষ্ণনগরকে বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। রাস পূর্ণিমাতেও নবদ্বীপ, শান্তিপুর, কোচবিহারকে বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা এবারের গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মেলা হিসেবে ঘোষণা করেছি। ইতিমধ্যে তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জগদ্ধাত্রী পুজোয় চন্দননগরেও যাব, কৃষ্ণনগরেও আসব। রাস পূর্ণিমাতে আগামী ২২ তারিখ নবদ্বীপে আসব ও রাস পূর্ণিমা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করব। এবং সেদিন প্রভু চৈতন্যদেবের ধামে ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেব।’
প্রসঙ্গ সিএএ
এদিন অনুষ্ঠানে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ প্রসঙ্গ এনে প্রাক্তন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৯-এ সংসদে সিএএ পাশ হয়। আইন লাগু হয় ২০২৪-এর মার্চ মাসে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘আগের সরকার বাংলায় সিএএ লাগু করতে না দেওয়ায় প্রায় আড়াই লক্ষ দরখাস্ত পেন্ডিং পড়ে ছিল। শুধুমাত্র নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা—এই দুই জেলা মিলিয়ে প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমান রাজ্য সরকার এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জেলাশাসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের শুনানির দায়িত্ব মহকুমাশাসকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিটি আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তির কাজ শেষ করা হবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্বের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীরা নতুন করে আশার আলো দেখছেন।’

Scroll to Top