গান্ধী ময়দানে রক্তাক্ত যুবতী!
পেটে-হাতে কাঁচি চালালো যুবক

৩৬৫ দিন। শুভদ্বীপ দে। হুগলি।  শ্রীরামপুরে জনবহুল এলাকায় যুবতীর পেটে ও হাতে কাঁচি ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। শ্রীরামপুর স্টেশন সংলগ্ন আরএমএস মাঠ বা গান্ধী ময়দানে সাংঘাতিক ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রক্তাক্ত এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় যুবতীকে উদ্ধার করে শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত শ্রীরামপুর থানার পুলিশ আধিকারিকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য মাঠের ধারের কংক্রিটের গ্যালারিতে বসে কথা বলছিলেন ওই যুবক ও যুবতী। আচমকাই দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। সেই ঝগড়ার মধ্যেই যুবকটি কাঁচি বের করে যুবতীর পেটে ও হাতে ঢুকিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। মুহূর্তে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন যুবতী। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন। খবর পেয়ে দ্রুত পৌঁছয় শ্রীরামপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্নের মুখে মাঠের নিরাপত্তা। চারদিকে শ্রীরামপুর সুপার মার্কেটের দোকানপাট, অথচ সেখানেই প্রকাশ্যে এমন হামলার অভিযোগ! স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্যালারিতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বহিরাগতদের আড্ডা চলে। অনেকের দাবি, সেখানে নিয়মিত নেশার আসরও বসে। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলছে। শ্রীরামপুর স্টেশন সংলগ্ন জনবহুল এলাকায় এই হামলার ঘটনায় আতঙ্কিত ব্যবসায়ী ও এলাকার বাসিন্দারা।
আক্রান্ত যুবতী প্রিয়াঙ্কা পাঠক। অভিযুক্ত যুবক শাহবাজ় কুরেশি রিষড়ার চম্পা রোড এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশি হেফাজতে অভিযুক্ত বলে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্ত্রী। তাঁরা একসঙ্গে বসে কথা বলছিলেন। তবে কী কারণে এই হামলা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার নেপথ্যে কী রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (শ্রীরামপুর) অর্ণব বিশ্বাস জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যুবতীর শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাঁর বক্তব্য জানার পরই হামলার কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Scroll to Top