সিপিএম, তৃণমূল, কংগ্রেস কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বে

৩৬৫ দিন। বাংলার রাজনীতিতে তৈরি হলো নয়া সমীকরণ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অথবা 2026 সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ও বিজেপিকে ঠেকানোর জন্য সর্বভারতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক করে যে সমীকরণ বাস্তবায়িত হয়নি, তা মিলে গেল এবারের দুর্গাপুজোয়। বাংলার রাজনীতিতে প্রথমবারের জন্য একসঙ্গে এক ইস্যুতে এক জায়গায় মিলে গেল সিপিএম, তৃণমূল আর কংগ্রেসের পতাকা।
উত্তর কলকাতার চোর বাগান দূর্গা মন্ডপে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন দর্শনার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে দাবিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ময়দানে নামলো, মমতার তৃণমূল, সিপিএম আর কংগ্রেস। চোর বাগান দুর্গাপূজোয় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে প্রকৃত অপরাধী কারা তা খুঁজে বের করার জন্য ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বাংলার প্রতিটি রাজনৈতিক দল। তার মধ্যেই আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কলকাতা সম্পর্কে ঘিরে যখন রাজনৈতিক দলগুলির যাবতীয় কর্মসূচি কার্যত উত্তর কলকাতার বুকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার এবং কলকাতা পুলিশ, এই আবহে আজ গিরিশ পার্ক থানায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ডেপুটেশন দিতে যায় বাংলার তিন বিরোধী রাজনৈতিক দল। চোর বাগানের ঘটনায় যে সমস্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম উঠে এসেছে তাদেরকে যেন কোনভাবেই তদন্তের সময় আড়াল না করা হয় এই দাবি তোলেন সিপিএম, তৃণমূল ও কংগ্রেসের নেতারা। মমতা তৃণমূলের পক্ষ থেকে গিরিশ পার্ক থানায় ডেপুটেশন দিতে বেলেঘাটার তৃণমূলে বিধায়ক কুনাল ঘোষের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় পাল, শক্তিপ্রতাপ সিং, দেবিকা চক্রবর্তী, শ্বেতা ইন্দোরিয়া, মৌসুমী দে, উপাসনা চৌধুরীরা। আবার সিপিএমের পক্ষ থেকে যুব নেতা শতরূপ ঘোষের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন দলের উত্তর কলকাতার নেতা-নেত্রীরা। জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও সুমন রায়চৌধুরীর নেতৃত্বে মিছিল করে গিরিশ পার্ক থানা পর্যন্ত যায় উত্তর কলকাতা জেলা কংগ্রেস কর্মীরা।
ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমীকরণ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি সরকার গঠনের পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান থেকে রাজ্যের বিজেপি বিরোধী সমস্ত শক্তিকে আহ্বান জানিয়ে কংগ্রেস সিপিএম সহ যাবতীয় বাম দলগুলিকে এক ছাতার নিচে এসে আহ্বান জানিয়েছিলেন আজ তার যেন ট্রেলার দেখা গেল উত্তর কলকাতায়। তিন দলের পতাকা নিয়ে পাশাপাশি চির-বিবদমান তিন দলের নেতা কর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গিরিশ পার্ক থানার সামনে দাঁড়িয়ে স্লোগান তুললেন নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। কুনাল ঘোষ বলেন, চোরবাগানের ভয়ঙ্কর ঘটনায় সব প্রভাবশালীকে গ্রেপ্তার করতে হবে। বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি গিরিশ পার্ক থানায়। আমরা, মমতা ব্যানার্জির সৈনিকদের উত্তর কলকাতার যুব শাখার ডাকে। একই সময়ে বিক্ষোভ করেছে সিপিএম তথা বামফ্রন্ট, কংগ্রেসও। আজ যেভাবে তিন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে নামলো সেই প্রসঙ্গে আগামী দিনে বিজেপির বিরুদ্ধে সকলকে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে কুনাল ঘোষ বলেন, যখন গণতন্ত্রটাই লুঠ হয়ে যাচ্ছে, তখন ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল শক্তিগুলি যদি ইস্যু ভিত্তিতেও একসঙ্গেও থাকতে পারে, তাহলে ভালো।
সিপিএমের স্টলে কুনাল ঘোষ
সপ্তমীর সন্ধ্যায় একাধিক বুক স্টলে আক্রমণের অভিযোগ তুলেছে সিপিএম। এমনকী বইয়ের স্টল ভেঙে দিতে বুলডোজার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে। রাতে স্টল ঘিরে রাখেন সুজন চক্রবর্তী, সৃজন ভট্টাচার্যের মতো বাম নেতারা। ভোররাত পর্যন্ত চলে উত্তেজনা। যাদবপুরের সেই বুক স্টলেই যেতে দেখা গেল কুণাল ঘোষকে। সিপিএম এর স্টল ভাঙতে রাজ্যের বিজেপি সরকারের এই অতি সক্রিয়তাকে নিন্দা জানানোর জন্য প্রতিটি প্রতিবাদ জানাতে আজ যাদবপুরে সিপিএমের বইয়ের স্টলে হাজির হলেন মমতা তৃণমূলের বিধায়ক কুনাল ঘোষ। সিপিএমের রাজ্য কমিটির অন্যতম সদস্য সুদীপ সেনগুপ্তের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি শতরূপ ঘোষ কে পাশে নিয়ে কুনাল কিনলেন কয়েকদিন আগেই বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে নিয়ে প্রকাশিত বই আমাদের চেয়ারম্যান। এই প্রসঙ্গে কুনাল বলেন, বইটা আমি পাড়া থেকে কিনতে পারতাম। কলেজ স্ট্রিট থেকেও কিনতে পারতাম। কিন্তু এই স্টলে এসেছি, কারণ এই স্টলের উপর আক্রমণ করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলেছ। ভাঙার চেষ্টা চলেছে। কর্পোরেশনের বুলডোজার আসছে বুক স্টল ভাঙতে! ময়লার গাড়ি আসছে বই তুলতে! এই সংস্কৃতি চলতে পারে না। মমতা তৃণমূলের বিধায়ক তাদের স্টলে আসার ঘটনায় সিপিএমের যুব নেতা শতরূপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা স্বাগত জানাই। কুণাল দা আগেও এসেছেন। আমি নিজে দেখেছি, বইমেলায় গণশক্তির স্টলেও উনি যান।

Scroll to Top