সপ্তমীর রাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
চোরবাগান সার্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত একাধিক

৩৬৫ দিন। সপ্তমীর সন্ধ্যায় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটল উত্তর কলকাতার চোর বাগানের পুজো মণ্ডপে। বৃষ্টির কারণে দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় ‌। যাঁরা মণ্ডপের মধ্যে ছিলেন তাঁরা কোনোও মতে ভিতরে ঠাসাঠাসি করে থাকার চেষ্টা করেন। সেই সময় চোর বাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপের বাইরে ছিলেন তাঁরা ভিতরে ঢোকার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে পদপিষ্ট হয়ে বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী আহত হয়েছেন।অভিযোগ, পুজো কমিটির অব্যবস্থার জন্য এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দমকল ও অ্যাম্বুলেন্স ছিল না বলেও জানিয়েছেন দর্শনার্থীদের একাংশ।পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে,আহতদের বেশ কয়েক জনকে ভর্তি করা হয়েছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শ্বাসরোধ হয়ে অন্ততঃ ১৭জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ২৫ জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলন মুখ্যমন্ত্রী,ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং করে পদক্ষেপের আশ্বাস শুভেন্দু অধিকারীর —
চোর বাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাত সাড়ে ৯ টা নাগাদ আধিকারিকদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় আহতদের দেখতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে সবরকম সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী জানান,পুজো কমিটির একটা অ্যানাউন্সমেন্টের জন্য এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে।
অত্যন্ত বেদনাদায়ক, এই ঘটনায় আমরা মর্মাহত। আগামীকাল আমাদের যে সমস্ত কর্মসূচি ছিল,তা বাতিল করেছি। আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন, আমরা যা করার করব। ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থল থেকে সবকিছু নমূনা সংগ্রহ করছে।পুরো বিষয়টি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং করে দেখা হবে, আমরা যা করার করছি।যারা ডিউটিতে ছিলেন ও উদ্যোক্তাদের থানায় ডিটেন করে রাখা হয়েছে । প্রাথমিক রিপোর্ট আসার পর সরকার যা করার করবে, আমরা খোঁজ খবর রাখছি। এখনও পর্যন্ত পদপিষ্ট হয়ে ১৭ জনের
মৃত্যু হয়েছে। ১ জন আশঙ্কাজনক, ২৪ জন স্টেবেল । সকলেই ভর্তি রয়েছেন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কেন এর্মাজেন্সি গেট বন্ধ ছিল,আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কেন পুজো কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালান , সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই ‌।প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি দেখে ঘটনাস্থল থেকে অনেকেই পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের।প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, যখন প্রচুর প্রবল বৃষ্টির মধ্যে মানুষ মণ্ডপ চত্বরে ঢোকার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, তখন কোনোও পুলিশকে ঘটনাস্থলে দেখা যায় নি। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, পুজো আয়োজকদের তরফ থেকে ক্রাউড কন্ট্রোল করার জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ছিল না। কিভাবে একদল দর্শনার্থী বেরোনোর আগে অন্যরা ভিতরে ঢোকার সুযোগ পেলেন,তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এই বেনজির ঘটনা কেন ঘটল,কি করে হল, তার অনুসন্ধান করে দেখছে পুলিশ – প্রশাসন।দুর্ঘটনাগ্রস্ত মানুষের সুবিধার্থে রাজ্য সরকার চালু করেছে হেল্প লাইন।হেল্প লাইন নম্বর হল,১৮০০৩৪ ৫৫৬৭৮।
প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক প্রকাশ—
চোরবাগান পুজোমন্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘কলকাতায় পদপিষ্ট হয়ে মানুষের হতাহতের ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।পশ্চিমবঙ্গ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে।’ পাশাপাশি শোক প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, ‘চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে একাধিক মানুষের মৃত্যুর মর্মান্তিক খবর পেয়েছি। এই বিষয়ে আমি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলেছি। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা জানাই। আহতদের যাতে সর্বোত্তম চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া যায়, তার জন্য প্রশাসন সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।আগামীকাল পশ্চিমবঙ্গে আমার পূর্বনির্ধারিত সমস্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখছি, যাতে হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করতে পারি। মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, সমস্ত আহত ব্যক্তি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।’
মমতা, অভিষেকের শোক প্রকাশ—-
চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন শোক প্রকাশ করে মমতা জানান, ‘চোরবাগান পুজো মন্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার খবরে আমি গভীর ভাবে মর্মাহত হয়েছি। মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করছি আহতরা দ্রুত সুস্থ হোন। তাদের পরিবারের লোকেরা শক্তি সঞ্চয় করুন।’ শোক প্রকাশ করে এই ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, ‘চোরবাগান পুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন। পুজোয় বেরিয়ে সাধারণ মানুষকে কেন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হবে?জমিদারদের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বাংলার সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। মানুষের জীবনের চেয়ে বড় কোনও অগ্রাধিকার হতে পারে না। এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আহত প্রত্যেকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। এই কঠিন সময়ে তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের সকলের প্রতি রইল আমার আন্তরিক সমবেদনা ও প্রার্থনা। মা দুর্গা তাঁদের এই দুঃসময় কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও সাহস দিন।’

Scroll to Top