বেঙ্গল সাফারিতে মৃত্যুমিছিল

৩ মাসে মৃত্যু ৭ বিরল প্রাণীর
৩৬৫ দিন।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। অথচ সেখানেই পর পর মৃত্যু হচ্ছে বিরল বন্যপ্রাণীদের। শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কে চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরতিন মাসে সাতটি প্রাণীর মৃত্যু ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পার্কের চিকিৎসা ব্যবস্থা, নজরদারি এবং সামগ্রিক পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে। সিংহ থেকে স্যাঙ্গাই হরিণ, চশমা বাঁদর থেকে হিমালয়ান শকুন। মৃতদের তালিকায় রয়েছে একাধিক বিরল প্রজাতির প্রাণী। ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশপ্রেমী ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে যুক্ত ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবিধারাবাহিক মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং পার্কের পরিকাঠামো ও প্রাণীদের পরিচর্যার ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হোক। পার্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মোট সাতটি বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে জন্ম হয়েছে মাত্র একটি কৃষ্ণসার হরিণের ছানার। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যুর সংখ্যার তুলনা একা পার্কের সংরক্ষণ ব্যবস্থার সাফল্য বা ব্যর্থতার চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়। মৃত্যুর কারণ, প্রাণীদের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার নথি এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই প্রকৃত ছবি স্পষ্ট হতে পারে। পার্ক সূত্রে দাবি, মৃত প্রতিটি প্রাণীর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে । মৃত্যুর তালিকাটি উদ্বেগ বাড়ানোর মতোই। গত ১৬ জুলাই একটি স্ত্রী কৃষ্ণসার হরিণের মৃত্যু হয়। তার দু’দিন পর, ১৮ জুলাই একই দিনে মারা যায় একটি পুরুষ সিংহ এবং একটি স্ত্রী চশমা বাঁদর। ২২ জুলাই মৃত্যু হয় একটি পুরুষ বন্য কুকুরের । ২৭ জুলাই প্রাণ হারায় একটি পুরুষ আর্গাস ফিজ্যান্ট পাখি। আগস্টেও থামেনি মৃত্যুর ঘটনা।
৬ আগস্ট মারা যায় একটি পুরুষ হিমালয়ান শকুন। এর পর ১৫ আগস্ট মৃত্যু হয় অত্যন্ত বিরল স্যাঙ্গাই হরিণের একটি স্ত্রী সদস্যের। অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর মৃত্যু হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষত সিংহ, চশমা বাঁদর এবং স্যাঙ্গাই হরিণের মতো প্রাণীর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রজাতির সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সময়ে একাধিক প্রজাতির প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে বলেই সবক’টি ঘটনার কারণ এক, এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছনো যায় না। বয়স, পূর্ববর্তী অসুস্থতা, সংক্রমণ, খাদ্যাভ্যাস, আবাসস্থলের পরিবেশ এবং সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ার মতো একাধিক বিষয় মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই প্রতিটি ঘটনার ময়নাতদন্তের ফল এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসা জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশপ্রেমীরা। উদ্বেগের আর একটি কারণ রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন, বছরের প্রথম ছ’মাসেই বেঙ্গল সাফারি পার্কে ২০টি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তার পর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও সাতটি প্রাণীর মৃত্যু হওয়ায় পার্কের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। ‘সলিটারি নেচার অ্যান্ড অ্যানিম্যাল প্রোটেকশন’-এর সম্পাদক কৌস্তভ চৌধুরী এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বেঙ্গল সাফারি পার্কে বন্যপ্রাণীর ধারাবাহিক মৃত্যু অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

Scroll to Top