৩৬৫ দিন। নয়াদিল্লি। সুপ্রিম কোর্ট নির্দিষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিল শান্তিপূর্ণ আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য রেল পরিষেবা ও মেট্রো স্টেশন বন্ধ করা যাবে না। তারপরেও কি এমন জরুরী পরিস্থিতি তৈরি হলো যে ৪৫ মেট্রো স্টেশন দিল্লিতে বন্ধ থাকলো প্রায় সারা দিন ধরে? দিল্লি জামি সমস্ত ট্রেন বাতিল করা হলো কোন যুক্তিতে? কেন অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হবে না? গতকাল অর্থাৎ শনিবার দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে দিল্লিকে কার্যত শাটডাউন ঘোষণা করেছিল তার প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া মামলায় আজ রবিবার বিশেষ শুনানিতে এই সমস্ত প্রশ্ন তুলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে লিখিত জবাবদিহি চাইল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ।
তিনি বলেন, ৫৭ টা মেট্রো স্টেশন বন্ধ করার পর আমরা নির্দেশ দিয়েছিলাম মেট্রো পরিষেবা যেন বন্ধ না হয়। এরপর আপনারা ৪৫টা স্টেশন বন্ধ করেছেন। কি কারণে এই ৪৫টা স্টেশন বন্ধ করতে হল? বন্ধ করা স্টেশনের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী গুরুত্ব কি? তা ম্যাপ আকারে মঙ্গলবারের মধ্যে জমা দিন। সলিসিটর জেনারেলকে নির্দেশ দিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। বিচারপতির নির্দেশের পরে দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, আজ সব মেট্রো চলছে। তবে সলিসিটর জেনারেলের জবাবে সন্তুষ্ট না হয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি অবনতি না হলে সব মেট্রো স্টেশন চালু রাখতে হবে। আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি অবনতি হলে তখন আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। একইসঙ্গে ইন্টারনেট পরিষেবা অবিলম্বে চালু করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।রেলওয়ে সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়ার পরও সরকার কি পদক্ষেপ করেছেন মঙ্গলবারের মধ্যে তার স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
গুরুস্বামীর হেবিয়াস কর্পাস মামলা
গতকাল দিল্লিতে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আগেই যেভাবে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, সিজেপি নেতা অভিজিত দীপাকে সহ প্রথম সারির নেতাদের বিভিন্ন জায়গা থেকে পুলিশ বলপূর্বক আটক করে বিভিন্ন গোপন জায়গায় রেখে দিয়েছিল তার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে হেবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করেছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিশিষ্ট আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী। সেই সঙ্গে তিনি জানান গতকাল এক দিনে দিল্লিতে সাত হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যার মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকেও টেনে নিয়ে গিয়ে আইনজীবীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কোন পরিস্থিতিতে এত সংখ্যক মানুষকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আগেই গ্রেফতার করা হল অথবা আটক করে অজানা জায়গায় আটক করে রাখা হলো তার জবাবদিহি তলবের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা, আইনজীবীদের পেশাদারী দায়িত্ব পালনে কোনভাবে বাধা দেওয়া যাবে না।
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত
সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার অবশ্যই সংবিধান স্বীকৃত।
অঘোষিত এমার্জেন্সি চলছে
আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী অভিযোগ করেন, সাংসদদের বাড়ির সামনে ব্যারিকেড করে আটকে দেওয়া হয়েছে। তাদের আটক করে সারা শহর প্রিজন ভ্যানে ঘোরানো হয়েছে। অঘোষিত এমার্জেন্সি চলছে। ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। আমরা জানতে পারিনি কত মানুষকে অবৈধভাবে আটক করে সারা শহরে ঘোরানো হয়েছে। চারজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং সাংসদদের আটক করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী দেশের এমার্জেন্সি পরিস্থিতি ছাড়া কখনও সংবিধান স্বীকৃত প্রতিবাদ করা, শান্তিপূর্ণ মার্চ করার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। সুপ্রিম কোর্ট ইমার্জেন্সি সময় হস্তক্ষেপ করেছিল। আমরা আবার আপনার দ্বারস্থ হয়েছি।
পুলিশ স্টেট তৈরি হয়েছে – কপিল সিব্বল
সরকারবিরোধী যে কোন আন্দোলনকে টুঁটি টিপে হত্যা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনায় পুলিশ স্টেট তৈরি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন দেশের প্রাক্তন আইনমন্ত্রী তথা বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি বলেন, ট্রেন থেকে মানুষজনকে নামিয়ে নেওয়া হচ্ছে, চার কিলোমিটার দূর থেকেও লোকজনকে আটকে দেওয়া হচ্ছে। চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নিষেধাজ্ঞা চলছে। শুধু তাই নয়, ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। এটি সরাসরি আদালতের নির্দেশ অমান্য করার শামিল। রাজ্য জুড়ে যেন পুলিশ রাজ চলছে। সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার সুপ্রিম কোর্টকেই রক্ষা করতে হবে।
বিক্ষোভ ঠেকাতে ট্রেন, মেট্রো নেট, দোকান বন্ধ করা যাবে না
- khabar365din
- October 11, 2026
- 7:57 pm
- No Comments



