দিল্লিতে বাড়ির সামনে ধরনা থেকে মমতাকে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ

৩৬৫ দিন। প্রথমে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ককরোচদের ডাকা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চেয়ে বাধা ,তার পরে দিল্লিতে সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাড়ির সামনেই শনিবার সকালে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। তুলে নিয়ে যাওয়া হয় প্রিজ়ন ভ্যানে। সঙ্গে আটক করা হয় দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম, সাকেত গোখলেকে। প্রিজ়ন ভ্যানে বসেই নেত্রী বার্তা দেন, ‘‘দেশ বাঁচান, গণতন্ত্র বাঁচান।’’ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তার পরে মমতা জানান, তাঁদের ‘কিডন্যাপ’ করা হয়েছিল।দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের পদত্যাগ চেয়ে শনিবার কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি। সেই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের আইন পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছে তারা। এই সমস্ত দাবি সামনে রেখে শনিবার ‘যন্তর মন্তর ২.০’-র ডাক দেওয়া হয়। কিন্তু সেই যন্তর মন্তর পর্যন্ত আর পৌঁছোনো হয়নি আন্দোলনকারীদের। দিল্লি পুলিশ সেই আন্দোলনস্থলকে ‘দুর্ভেদ্য দুর্গে’ পরিণত করেছে বলে অভিযোগ। গোটা রাজধানী জুড়ে চলে ধরপাকড়। আটক করা হয় সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসকে।
তৃণমূলের অভিযোগ, নেত্রী মমতা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চাইলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। তাই দিল্লিতে বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে ধর্নায় বসেন তিনি। সেই প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’। কুণাল ঘোষ এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে লেখেন, ‘‘দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ আটকে দিয়েছে। কোনও রকম প্রতিবাদও করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি সাংসদদের নিয়ে বাড়ির সামনেই বসে পড়েছেন।’’ তার পরেই মমতাকে আটক করা হয় বলে খবর।
সাকেত এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে তাঁদের আটক হওয়ার খবর দেন। একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, মমতা প্রিজ়ন ভ্যানে বসে ‘অ্যায় মেরে ওয়াতন কে লোগোঁ’, ‘জাগো দুর্গা’ গাইছেন। সাংসদ মহুয়া মৈত্র সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন, মমতাদের সঙ্গে তাঁকে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, জানা যায়নি।
আটক হওয়ার আগে দিল্লিতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসে মমতা বলেন, ‘‘আমরা এখানে এসেছি, কারণ, সিজেপির ছাত্রছাত্রী ও যুবক-যুবতীরা আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই অনেক নেতাকে আটক করা হয়েছে। কাউকেই যন্তর মন্তরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, আমাদেরও নয়। তাই আমরা মনে করেছি, এখানে থেকেই ছাত্রছাত্রী, তরুণ প্রজন্ম, ইন্ডিয়া জোট, অন্যান্য সংগঠন এবং দেশের যে সমস্ত মানুষ এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই ভাল।’’ পিনারাই বিজয়নকে আটক করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তিনি জানান, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে আগামী ২ নভেম্বর বৈঠক রয়েছে। সেই দায়িত্ব পালন করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে ভ্যানে বসে জানান, দিল্লির পথে পথে দু’ঘণ্টা ধরে তাঁদের ঘোরানো হয়েছে। মুক্তির পরে দ্বারকা নর্থ থানার সামনে দাঁড়িয়ে মমতা অভিযোগ করেন, তাঁদের জলও দেওয়া হয়নি। সংবাদমাধ্যম কর্মীদেরও মারধর করা হয়েছে। ডায়বেটিকে আক্রান্ত এক জনকে টয়লেটেও যেতে দেওয়া হয়নি।

Scroll to Top