৩৬৫ দিন। শুভদীপ দে। হুগলি। হাতে লেখা পোস্টার—‘সাইকেল দাও, নইলে ক্লাস বয়কট! সিনিয়রদের বঞ্চনা কেন, জবাব চাই।’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিক্ষোভে শামিল হল স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। হুগলির বৈদ্যবাটিতে ট্রেনচিং গ্রাউন্ডে ‘সারথি’ সাইকেল বিতরণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন চাঁপদানি বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক দিলীপ সিং।
বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের অভিযোগ ও ক্ষোভের কেন্দ্র ছিল সাইকেল বিতরণ নিয়ে অসন্তোষ। হাতে পোস্টার নিয়ে নিজেদের দাবির কথা জানায় তারা। সাইকেল বিতরণ কর্মসূচিতে এসে ছাত্রছাত্রীদের এই বিক্ষোভের মুখে পড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, সাইকেল থাকলেও ফিটিংয়ের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় সেগুলি পড়ুয়াদের হাতে তুলে দিতে কিছুটা সময় লাগছিল।
দিলীপ সিং বলেন, “বাচ্চা তো, সাইকেল তো আছে, তবে ফিটিং নেই। তারা তো বুঝতে পারেনি। আমি বললাম, একটু ওয়েট করো, রেডি করে দিয়ে দিচ্ছি।” ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবেই দেখছেন বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, “বিক্ষোভ দেখালে আমি খারাপ ভাবি না। বিক্ষোভ দেখাতেই পারে। বিক্ষোভ দেখালে তা পূরণ করার দায়িত্ব আমার, তাকে ফেস করার দায়িত্বও আমার।”
পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য আগেভাগেই কাজ সম্পূর্ণ করার আশ্বাস দেন বিধায়ক। তিনি বলেন, “প্রতিবাদ হবে, সেই সুযোগ ভারতীয় জনতা পার্টি আর দেবে না। আগেই সেই কাজটা আমরা কমপ্লিট করব।”
রাজ্যের বিগত সরকারগুলিকে নিশানা বিধায়কের
সাইকেল বিতরণ ঘিরে বিক্ষোভের প্রসঙ্গ থেকে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন দিলীপ সিং। বিগত সরকারগুলির ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ৫০ বছরে একাধিক সরকার এলেও রাজ্যের উন্নয়নের পরিবর্তে লুটপাট চলেছে। তাঁর অভিযোগ, “প্রতিবাদ হয়নি বলে পশ্চিমবঙ্গ শেষ হয়ে গেছে। সরকার তো বহু এসেছে-গেছে ৫০ বছর ধরে, শুধু লুটেপুটে খেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গকে বরবাদ করে দিয়েছে, ডেস্ট্রয় করে দিয়েছে।”
রাজ্য সরকারের প্রকল্প ‘সারথি’ সাইকেল বিতরণ কর্মসূচিকে ঘিরে পড়ুয়াদের এই বিক্ষোভ এবং বিধায়কের প্রতিক্রিয়া—দুই মিলিয়ে বৈদ্যবাটির এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে।





