৩৬৫ দিন। আগামী লোকসভা নির্বাচনে মোদিজির নেতৃত্বে বাংলার সব আসন তাঁকে উপহার দেওয়ার কাজ আমরা করব। এভাবেই আজ গুজরাতের ভাডনগরে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আগামী লোকসভায় অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দেওয়ার অঙ্গীকার করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২ লোকসভা আসনের মধ্যে সবকটি আসনে জিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করলেও ইতিহাস বলে আজ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে কোন রাজনৈতিক দল নিরঙ্কুশ ভাবে ৪২ আসনে জয় পায়নি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি ১২ আসন পেয়েছে বিজেপি, ২৯ আসনে জিতেছিল তৃণমূল ও ১টি আসন ছিল কংগ্রেসের। তার আগে ২০১৯ সালে ১৮ লোকসভা আসন জিতেছিল বিজেপি।
প্রশাসক হিসেবে আজ ২৫ বছর পূর্ণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বার শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। পরবর্তীতে ২০১৯ ও ২০২৪ সালেও প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। টানা ২৫ বছর রাজ্য ও দেশের প্রশাসনের শীর্ষ পদে থাকার পর এই দিনটি সেবা সংকল্প অভিযান এবং সেবা জ্যোতি যাত্রা-র মতো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালন করছে বিজেপি। এই উপলক্ষে বিজেপির সেবা সংকল্প কর্মসূচির সমাপ্তিকে ঘিরে আজ ভাডনগরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের। আজ সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দুও। যদিও পূর্বনির্ধারিত সুচি অনুযায়ী গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুংয়ের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে গোর্খা জন মুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আজ দার্জিলিং এ যাওয়ার কথা ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দার্জিলিং সফর বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন শুভেন্দু। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জীবন এবং রাজনৈতিক আদর্শ কিভাবে তাকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে প্রতিমুহূর্তে, সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গুজরাতের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলেন, স্বামীজি, নেতাজি, ঋষি অরিবিন্দের মাটিতে আমি সেবা জ্যোতি জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রীজির বক্তব্য শুনেছি। বিকশিত ভারতের জন্য কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। উনি আজ বললেন, উই উইল ডু ইট। যা সারা ভারতবর্ষে প্রতিধ্বনিত হল।
সবাই ওঁর সঙ্গে বললেন, রাষ্ট্র সর্বোপরি। ভারত মাতার প্রতি ভালবাসার এই মন্ত্র শিখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গরীব কল্যাণের জন্য কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। পহেলগাঁও থেকে প্রত্যেকটা ঘটনায়, মুখের উপর জবাব দেওয়া, ঘরে ঢুকে মারার পাল্টা দেওয়ার শক্তি দেখিয়েছেন মোদিজি। এর আগের সরকার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষতি শুধু করেনি, দেশের সুরক্ষায় আঘাত করেছে। গুজরাত থেকে যে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়েছিলেন, তারা এসে জুটেছিল মমতার আশ্রয়ে। সঙ্কল্পপত্রে ছিল সরকারে এলে ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে সীমান্তে জমি দেওয়া হবে, হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলায় তুষ্টিকরণের সরকার ছিল। দুর্গাপূজা করতে গেলে কোর্টে যেতে হত। রামনবমীর মিছিলে বাধা দেওয়া হত। মোদিজি না থাকলে বাংলাকে বাঁচানো মুশকিল হত। পশ্চিমবঙ্গের সনাতনী জনতাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আগামী লোকসভায় বাংলার ৪২ আসন জিতে মোদিজি-কে উপহার দেব – গুজরাতে দাঁড়িয়ে অঙ্গীকার শুভেন্দুর
- khabar365din
- October 8, 2026
- 1:58 pm
- No Comments




