হিমেন্দ্রকিশোর দাশগুপ্তের সৃষ্টি অবলম্বনে আসছে ‘জাদুকর সত্যচরণ’

৩৬৫ দিন। হেমেন্দ্রকিশোর দাশগুপ্তের লেখা ‘জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনী’ বইয়ের অনুপ্রেরণায় বাংলা ছবিতে তৈরি হতে চলেছে ম্যাজিক, অ্যাডভেঞ্চার এবং রহস্যে মোড়া এক নতুন জগৎ। স্টারমার্ক এবং সিমাস এন্টারটেইনমেন্টের যৌথ প্রযোজনায় সায়ন্তন ঘোষাল পরিচালিত আসন্ন বাংলা ছবি ‘জাদুকর সত্যচরণ’-এর মহরত অনুষ্ঠিত হলো। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋত্বিক চক্রবর্তী, সব্যসাচী চৌধুরী, ঈশা সাহা, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ গুহ সহ ছবির কলাকুশলীরা। এই মহরতের মধ্যে দিয়েই ছবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রযোজনার পথে যাত্রা শুরু করল।
পার্থসারথি মজুমদার এবং পল্লবী প্রসাদ প্রযোজিত এই ছবিকে ম্যাজিক্যাল রিয়ালিজমের প্রেক্ষাপটে নির্মিত একটি বিগ বাজেট ফিচার ফিল্ম হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ছবির কেন্দ্রে রয়েছেন একজন জাদুকর এবং তাঁকে ঘিরে এমন এক পৃথিবী, যেখানে জাদু, রোমাঞ্চ ও আবেগ একসূত্রে গাঁথা। ছবিতে সত্যচরণের ভূমিকায় দেখা যাবে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। তাঁর চরিত্রটি ক্যারিশম্যাটিক, পর্যবেক্ষণশীল এবং কৌতুকপ্রিয়, যার বিস্ময়বোধের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে সত্য উদঘাটনের তীক্ষ্ণ প্রবৃত্তি। মহরত অনুষ্ঠানেই প্রকাশ করা হয় ছবির টিজার পোস্টার। পোস্টারে লাল কেপ পরিহিত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে দেখা গিয়েছে মন্দির, নদীর ঘাট, নৌকা এবং অগ্নিকুণ্ডে ঘেরা এক রহস্যময় আবহে। পোস্টারটি ছবির ভিজ্যুয়াল টোনকে স্পষ্ট করে দেয়, যা বিশাল, কল্পনাপ্রবণ এবং রহস্যে আবৃত, যদিও মূল আখ্যানকে ইচ্ছাকৃতভাবেই গোপন রাখা হয়েছে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন কালভৈরবের ভূমিকায় ঋত্বিক চক্রবর্তী, কঙ্কাবতীর চরিত্রে ঈশা সাহা এবং চন্দনের ভূমিকায় সব্যসাচী চৌধুরী। উল্লেখ্য, ছবির চিত্রনাট্যও লিখেছেন সব্যসাচী চৌধুরী। বই থেকে সিনেমার জন্য কাহিনী রূপান্তর করেছেন সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বইয়ের আটটি ছোট গল্প থেকে ছয়টি গল্পকে বেছে নিয়ে সংমিশ্রণের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসের আকার দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে কিছু নতুন চরিত্রও সৃষ্টি করা হয়েছে। দেড় বছরের ভাবনার পর ছবিটি বাস্তবায়নের পথে। বাংলায় জাদু নির্ভর কাজ কম হয়েছে, এই ছবিতে শুভ-অশুভ শক্তির লড়াই ও নিখুঁত ভিজ্যুয়াল এফেক্টস দর্শককে ওড়িশা-বেনারসের এক রোমাঞ্চকর অভিযানে সামিল করবে।  পরিচালক সায়ন্তন ঘোষাল বক্তব্যনুযায়ী, “জাদুকর সত্যচরণ এমন একটি জগৎ, যা পর্দায় নিয়ে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। মহরত পুরো টিমের জন্য এক বিশেষ যাত্রার সূচনা। আমরা এমন একটি পৃথিবী তৈরি করেছি যেখানে জাদু, অ্যাডভেঞ্চার ও আবেগ একসঙ্গে মিশেছে।”
অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “মহরত সবসময়ই একটি বিশেষ মাইলফলক। জাদুকর সত্যচরণের হৃদয়ে রয়েছে এক আকর্ষণীয় জগৎ এবং সত্যচরণ এমন একটি চরিত্র যা নিয়ে আমি বিশেষভাবে আগ্রহী। দুর্দান্ত টিমের সঙ্গে এই যাত্রা শুরু করতে পেরে আমি অত্যন্ত খুশি।” ঋত্বিক চক্রবর্তী বলেন, “এই জগৎ অত্যন্ত স্বতন্ত্র এবং কালভৈরবের এখানে একটি শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।” ঈশা সাহা বলেন, “কঙ্কাবতী একটি আকর্ষণীয় চরিত্র। ছবির ভিজ্যুয়াল ওয়ার্ল্ড অবিশ্বাস্যরকম স্বতন্ত্র।সব্যসাচী চৌধুরী বলেন, “জাদুকর সত্যচরণ আমাদের একেবারে অন্যরকম এক পৃথিবী তৈরির সুযোগ করে দিয়েছে।” ৩০শে সেপ্টেম্বর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনের আগে এই মহরত সন্ধ্যা তাঁর জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত হয়ে ওঠে। উদযাপনের অংশ হিসেবে মঞ্চে তাঁর প্রাক-জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার আয়োজন করা হয়। টিজার পোস্টার প্রকাশের পর খুব শীঘ্রই শুরু হবে শুটিং। ছবিটি ২০২৭ সালের বড়দিনে মুক্তির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

Scroll to Top