৩৬৫ দিন। এস আই আর নিয়ে এবার জ্ঞানেশ কুমারের ভুমিকার তীব্র সমালোচনা করলেন প্রাক্তন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর প্রশ্ন, শুধু দুই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মতভেদ বা কে কার কথা শুনলো না এর মধ্যে বিষয়টিকে গুলিয়ে দিলে চলবে না আসল প্রশ্ন হল জ্ঞানেশ কুমারকে এস আই আর করে কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার পরামর্শ বা নির্দেশ কে দিল? কার কথায় তিনি এত জেদ করে দুই কমিশনারের আপত্তি উড়িয়ে এস আই আর করতে মরিয়া উঠলেন।
প্রসঙ্গ পশ্চিমবঙ্গ
SIR-এর সময় ২৭.১৬ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২২.২১ লক্ষ ভোটার নাম পুনর্বহালের আবেদন করেন। বিস্ময়কর হল এর মধ্যে আবার ১৬.১০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা হয়। কুরেশির প্রশ্ন, কারা সেই আবেদন করল? কেন ও কিসের ভিত্তিতে সেই সব আবেদন গ্রহণ করা হল। নির্বাচন কমিশনার সান্ধু ও জোশী বলছেন তারা এই ভাবে নাম বাদের আবেদনে আপত্তি জানান। এমনকি ক্যাবিনেট সেক্রেটারি স্তরে জানান যে বিষয়টি আইন মেনে হচ্ছে না। তারপরেও জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জেদ করে নাম বাদের আবেদন গ্রহণ করলেন। কেন? কার নির্দেশে?
প্রসঙ্গ ফর্ম ৬
কুরেশি বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম ফর্ম ৬ পরিবর্তন করা যায় না বা তাকে প্রকাশ করা যায় না। তারপরেও ফর্ম ৬ কেন বিধির বাইরে গিয়ে পরিবর্তন করা হল ? কার নির্দেশে? কোন দুরভিসন্ধিতে?’ তাঁর কথায় ২০২৩ সালের আইনের ধারা ১৮ অনুযায়ী, যতদূর সম্ভব কমিশনের কাজকর্ম সর্বসম্মতভাবে পরিচালিত হওয়ার কথা। সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। সান্ধু ও জোশী বলছেন তারা অননুমোদিত ও বেআইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বার বার প্রশ্ন তুলেছিলেন তারপরেও জাতীয় নির্বাচন কমিশন এতো লাগামছাড়া হতে গেলেন কেন?
প্রসঙ্গ প্রযুক্তি ব্যবহার
কুরেশির প্রশ্ন, প্রযুক্তির ব্যবহার ভালো কিন্তু অন ফিল্ড নির্বাচনী আধিকারিকদের বিকল্প কী প্রযুক্তি হতে পারে? নির্বাচনী আধিকারিক বা ERO-রা আইন অনুযায়ী ভোটারদের নাম সংযোজন, সংশোধন বা বাদ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু কমিশনারদের অভিযোগ অনুযায়ী, ডেটাবেস নিয়ন্ত্রণ দিল্লিকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছিল। গোয়ায় ৯৭ জন এমন ব্যক্তির নাম, যাঁদের ERO-রা ভোটার হিসেবে যোগ্য বলে মনে করেছিলেন, সফটওয়্যার কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নথিভুক্ত করার অনুমতি না দেওয়ায় পুনর্বহাল করা যায়নি—এমন অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে। এটাও তো বিরাট সন্দেহজনক। নির্বাচন কমিশন হঠাৎ এত প্রযুক্তিনির্ভর কার পরামর্শে হল? কুরেশি প্রশ্ন তোলেন নির্বাচন কমিশনের ভুমিকা নিয়ে যখন সমালোচনা হচ্ছে বিতর্ক হচ্ছে তখন কমিশনের উচিৎ ছিল নির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ সামনে এনে সাংবাদিক সন্মেলন করা বা বিবৃতি দেওয়া তা না করে তারই যেভাবে দুর্বল যুক্তি দিচ্ছে তাতে সন্দেহ বাড়ছে। মনে হচ্ছে কারোর কথায় জাতীয় নির্বাচন কমিশন এস আই আর করেছেন।
এস আই আরের নেপথ্যে কে? জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র আক্রমণ করে প্রশ্ন কুরেশির




