৩৬৫ দিন। নামকরা এক বেকারি। জলপাইগুড়ি শহরে তো বটেই আশপাশের জেলাতেও প্যারিস বেকারির নাম বেশ পরিচিত। সেই বেকারিতেই হত্যাকান্ড! সাটার বন্ধ, তার তলা থেকে চুঁইয়ে বেরিয়ে আসছে রক্ত! সাত সকালে এই দৃশ্য দেখে পুলিশে ফোন করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ এসে সাটার তুলতেই হাড় হিম দৃশ্য। নৃশংস ভাবে কেউ কুপিয়ে খুন করে দিয়ে গিয়েছে বেকারির ম্যানেজারকে। নিহত ব্যক্তির নাম হাজিজুর রহমান। জানা গিয়েছে, হুগলির পুরশুড়া থানা এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কর্মসূত্রে জলপাইগুড়িতে থাকেন। নয়াবস্তি এলাকার প্যারিস বেকারিতে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। অন্যান্যদিনের মতোই বৃহস্পতিবার রাতে বেকারিতেই ছিলেন হাফিজুর। শুক্রবার সকালে বেকারিতে রক্তাক্ত অবস্থায় মেলে তাঁর দেহ। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় কোতোয়ালি থানায়। ইতিমধ্যেই পুলিশ গিয়ে দেহ উদ্ধার করে পাঠিয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। খবর দেওয়া হয়েছে মৃতের বাড়িতেও। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, হাফিজুর মোটের ওপর নির্বিবাদী মানুষ ছিলেন। কাজ নিয়েই থাকতেন। রাতে বেশীরভাগ সময় বেকারিতেই থাকতেন। কে থাকে বেকারির মধ্যে এমন নৃশংস ভাবে খুন করে দিয়ে গেল তা ভেবেই পাচ্ছেন না তারা। পুলিশ-ও শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত যা খবর তাতে এই খুনের ঘটনার তেমন কোনো সূত্র উদ্ধার করতে পারেনি। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক যা তদন্ত হয়েছে তাতে তারা মনে করছেন খুনি একাধিক এবং তারা নিহত ম্যানেজারের পরিচিত। তারা কেন খুন করল ম্যানেজারকে তার অনেক কারণ থাকতে পারে হতে পারে আততায়ী বা আততায়ীরা ওই বেকারিতে আগে কাজ করতো বা এখনো কাজ করে সেই সূত্রেই তাদের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির কোনো শত্রুতা তৈরী হয়। আবার ব্যক্তিগত কোনো কারণেও খুন হতে পারে। আপাতত সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বেকারি ও তার সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সধগ্রহ করা হচ্ছে সেখান থেকে আততায়ীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তবে নামী বেকারিতে এই খুনের ঘটনায় জলপাইগুড়ি জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়দের একাংশ।
প্যারিস বেকারিতে খুন, ম্যানেজারের গলা কাটা দেহ উদ্ধার




