অস্ট্রেলিয়া – ১
ব্রাজিল – ১
৩৬৫ দিন।রোহন রায় চৌধুরী।ব্রাজিল ফুটবল দল এখন কি শুধু নামেই কাটে? না হলে যে দলটা বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি (৫) বিশ্বকাপ জিতেছে তাদের পারফরমেন্স গত ২৪ বছর ধরে এরকম কেন হবে? ব্রাজিল কি তাদের স্বর্ণযুগ বহু আগেই পেছনে ফেলে এসেছে? নতুন প্রজন্মের নেইমার বাদ দিলে সেভাবে বলার মতো মহতারকা নেই দলটায়। নেইমার নিজে অর্ধেকের বেশি সময় চোটে বাইরে থাকেন। ভারত সফরেও তিনি আসবেন না। কিন্তু ব্রাজিলের পারফরমেন্স দিন দিন ক্রমশ যেন তলানিতে ঠেকেছে। বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় থেমে গিয়েছিল ব্রাজিলের সফর। আমেরিকার মাটিকে হল্যান্ডের নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল সাম্বা বাহিনী। বিশ্বের বিভিন্ন অংশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ব্রাজিল সমর্থকদের হৃদয় ভেঙ্গে গিয়েছিল সেই রাতে। হাজার হোক ব্রাজিল এখনও বহু ফুটবলপ্রেমীদের ভালোবাসার দল। ফুটবলের কুলিন দল বলে যদি কিছু হয় সেটার এক নম্বর নিদর্শন হলুদ সবুজ জার্সিধারীরা। বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর নতুন করে দলগঠনের কাজ করছেন কোচ আন্সেলোত্তি। অবসর নিয়েছেন নেইমার। নতুন মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন এস্তেভাও, এনড্রিকরা। অস্ট্রেলিয়ায় প্রীতি ম্যাচ থেকে শুরু হচ্ছে সেলেকাওদের নতুন অভিযান। সেখানে প্রথম একাদশে ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহা, মারকিউনহোস, ব্রুনো গুইমারেসের মতো তারকারা ছিলেন। কিন্তু কোথায় নতুন যুগ? হারিয়ে গিয়েছে পুরনো সাম্বার ঝলকও। অস্ট্রেলিয়া নিঃসন্দেহে শক্তিশালী দল। বিশ্বকাপে শেষ বত্রিশে উঠেছিল। কিন্তু জ্যাকসন আর্ভিং, হ্যারি সৌত্তাররা যেভাবে ব্রাজিলকে আটকে দিলেন, তা প্রশংসাযোগ্য।অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে একাধিক চেষ্টায় কোনও দল গোলের দেখা পায়নি। এস্তেভাওয়ের গোল ভার দেখে বাতিল করা হয়। গোলমুখী আক্রমণ বা বল পজেশনে ব্রাজিল এগিয়েছিল ঠিকই। তবে সার্বিকভাবে সংঘবদ্ধ দেখায়নি আন্সেলোত্তির ছাত্রদের। উলটে দ্বিতীয়ার্ধে গোল হজম করে বসে। ৬৮ মিনিটে অনবদ্য ফ্রিকিকে ব্রাজিলের জালে বল পাঠান অস্ট্রেলিয়ার নেস্তোরি ইরানকুন্ডা। এরপর ব্রাজিলের লাগাতার আক্রমণেও হাল ফেরেনি। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে রাফিনহার কর্নার থেকে হেডে গোল করে রায়ান। সমতা ফেরানোর পর আর বিশেষ কিছু করার ছিল না।এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের আরেকটি ম্যাচ আছে। তারপর ৩ অক্টোবর কলকাতায় ঐতিহাসিক ব্রাজিল-ভারত যুদ্ধ। ফলাফলের ঊর্ধ্বে আনোয়ার আলি, মনবীর সিংদের থেকে লড়াকু ফুটবল আশা করছেন ভক্তরা। অস্ট্রেলিয়ায় ব্রাজিল যেভাবে খেলল, তাতে জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করলে কি অঘটন সম্ভব? এমনিতেই ব্রাজিলের কোচ একদিন আগেই জানিয়েছিলেন ভারতের তেমন ফুটবল সংস্কৃতি নেই। কথাটা সত্যি। ভারতীয়দের রাগ হতে পারে। কিন্তু কার্লো যেটা বলেছেন যুক্তি দিয়ে বলেছেন। তার এই উক্তি অবশ্য ভারতীয় ফুটবলারদের ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রমাণ করতে কতটা সাহায্য করবে তার উত্তর দেবে সময়। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ব্রাজিলের এমন জঘন্য পারফরমেন্স ভারতকে কিছুটা অক্সিজেন দেবেই। তবে ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য তাদের প্রিয় দলের এমন খেলা সত্যি
বিরক্তিকর এবং লজ্জার। এই ব্রাজিল শুধু নামেই ব্রাজিল। জার্সির রং দেখে চিনতে হয়। বাকিটা শুধুই অতীত।




