মোহনবাগানের তিন নম্বর গোল নাকি অফসাইড! প্রতিবাদে শিল্ড না খেলার হুমকি মহমেডানের

৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। একটা দল হেরে যাওয়ার পর ফুটবল ম্যাচে কিছু না কিছু অজুহাত থাকে। এটা সব দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এখন মোহামেডান করছে। এর আগেও মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলকেও করতে দেখা গিয়েছে। আগামী মঙ্গলবার আইএফএ শিল্ডের উদ্বোধন। সূচি অনুযায়ী প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হওয়ার কথা ইস্টবেঙ্গল ও মহমেডান স্পোর্টিংয়ের। কিন্তু ম্যাচের আগেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কলকাতা লিগের রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিল্ড বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে মহমেডান।
এই পরিস্থিতিতে কী ভাবছে আইএফএ? এগিয়ে গিয়েও মোহনবাগানের কাছে হেরে কলকাতা লিগ হাতছাড়া হয়েছে সাদা-কালো ব্রিগেডের। তবে ৭৩ মিনিটে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেকেই ওই গোলকে অফসাইড বলে দাগিয়েছেন। শনিবার ম্যাচ শেষে মহমেডান সচিব ওয়াসিম আক্রম বলেন, “রেফারিং জঘন্য। আমরা শিল্ড খেলব না।” এবার ক্লাবের সভাপতি গজল উজ জাফরের গলায় একই সুর। তিনি বলেন, “আমরা আইএফএ শিল্ডে অংশ নেব না। এমন ঘটনা বারবার ঘটেছে। এটা সহ্য করা সম্ভব নয়। আমরা সব সময় নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে পারি না।”তাঁর দাবি, এ বিষয়ে আইএফএ-কে সরকারি ভাবে ইমেল করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। গজলের সংযোজন, “অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে আমরা শিল্ড খেলব না। এটাই আমাদের প্রতিবাদ। দলের সঙ্গে তো বটেই, সমর্থকদের সঙ্গেও অবিচার হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আইএফএ-কে সরকারি ভাবে ইমেল করে জানিয়েছি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা শিল্ডে খেলব না। এটাই আমাদের প্রতিবাদ। অনেক সমস্যার মধ্যে দিয়ে দলটা এই জায়গায় এসেছে।
আইএফএ যদি নিশ্চিত করে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে, তাহলে আমরা অবশ্যই শিল্ড খেলব। কিন্তু এমন ঘটনা বারবার মেনে নেওয়া কঠিন।”তবে আইএফএ-র সচিব অনির্বাণ দত্ত জানিয়েছেন, মহমেডান ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে সরকারি ভাবে কোনও চিঠি বা ইমেল এখনও তাঁদের হাতে আসেনি। তিনি বলেন, “মহমেডান ম্যানেজমেন্ট সরকারি ভাবে আইএফএ-কে কিছু জানায়নি।” পাশাপাশি সূত্রের খবর, শিল্ড না খেলার ব্যাপারে মহামেডানের উষ্মার কথা আইএফএ কর্তারা জানতে পেরে ইতিমধ্যেই বিকল্প ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন। কলকাতা লিগে ভালো খেলা দু’টি টিমের কাছে শিল্ড খেলার প্রস্তাব চলে গিয়েছে। মহামেডান যদি সত্যিই সরকারিভাবে না খেলে তাহলে দুই দলের মধ্যে থেকে একটি দলকে শিল্ড খেলতে দেখা যেতে পারে। গ্রুপে ইস্টবেঙ্গল ও মহমেডানের সঙ্গে রয়েছে পাঞ্জাব এফসি।
প্রতিটি গ্রুপ থেকে দু’টি দল সেমিফাইনালে উঠবে।এ দিকে শিল্ডে সিনিয়র দল খেলানোর ব্যাপারে আগ্রহী নন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসও। এমনটাই জানা গিয়েছে। তবে কয়েকজন ফুটবলারকে শিল্ডে খেলার জন্য ছাড়ার বিষয়ে কোচের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন কর্তারা। লাল-হলুদ শিবিরে অবশ্য নতুন বিদেশিদের নিয়েও তৎপরতা চলছে। নাইজেরিয়ান ফুটবলার এফিয়ংয়ের ভিসা সমস্যা মেটার পথে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাঁকে কলকাতায় আনার চেষ্টা চলছে। পোল্যান্ডের স্ট্রাইকার লুকাসেরও আগামী সপ্তাহে শহরে আসার কথা। ইস্টবেঙ্গলের মূল লক্ষ্য অবশ্য এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ। পরের ম্যাচ ইস্টবেঙ্গলের ১৩ ই অক্টোবর ইরাকের দলের বিপক্ষে কলকাতায়। কলকাতা লিগ ভালো খেলে হাতছাড়া হওয়ার পর ইস্টবেঙ্গল চেষ্টা করবে আইএফএ শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। তার জন্য ফুটবলারদের আলাদা করে উদ্বুদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন নেই অবশ্য। ইস্টবেঙ্গল বিশ্বাস করছে কলকাতা লিগ সুপার সিক্সের অদ্ভুত নিয়ম না হলে তারাই যোগ্য চ্যাম্পিয়ন হত। তাই শিল্ড জিতে সেই আক্ষেপ মেটাতে চায় তারা।

Scroll to Top