৩৬৫ দিন। জয়দীপ সরকার। শিলিগুড়ি। শিলিগুড়িতে বদলাবে বিশ্ব বাংলা শিল্পী হাটের নাম।শহর থেকে মেলা সরানোর ঘোষণা, শিলিগুড়ির বইমেলা ঘিরে দানা বাঁধছে বিতর্ক। কাওয়াখালী ময়দানে অন্যতম শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গ বইমেলা শিলিগুড়ি শহরের আয়োজিত সমস্ত মেলা শহরের বাইরে স্থানান্তরের ঘোষণা পর্যটন মন্ত্ৰী শঙ্কর ঘোষের। বইমেলা ঘিরে দানা বাঁধছে বিতর্ক! শহর থেকে দূরে কাওয়াখালীতে বই মেলা সম্ভব নয় বলেই মত উত্তরবঙ্গ বইমেলা কমিটির।শিলিগুড়ি কাঞ্চনজঙ্গা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গনে ফসিন গেট সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মেলার আয়োজন হত এতদিন। তারমধ্যে অন্যতম উত্তরবঙ্গ বইমেলা। এছাড়াও পুষ্প প্রদর্শনী থেকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের নানার মেলা চলে। তবে পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ বুধবার সাফ নির্দেশ দেন কোনোরকম মেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে করা যাবে না।
স্টেডিয়ামের ওই অংশে পার্কিং জোন তৈরি করা হয়েছে। ফলে শিলিগুড়ি শহরের যানজট সমস্যা সমাধানে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের পর্যাপ্ত পার্কিং লটের প্রয়োজনীয়তা বিষয়টি উঠে আসে। শহরে পর্যাপ্ত পার্কিং এর ব্যবস্থা না থাকার কারণে শিলিগুড়ি যানজট সমস্যার পেছনের অন্যতম কারণ হিসেবে সাধারণ মানুষ থেকে পুলিশ প্রশাসনের তরফে দিকনির্দেশ করা হয়। নতুন সরকার গঠনের পরই কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের ওই নির্দিষ্ট অংশকে পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এক কোটি ৬৫লক্ষ টাকা ব্যয়ে আধুনিক পার্কিং লট তৈরি করা হচ্ছে। এই পার্কিং লটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে পর্যটন মন্ত্রীর শংকর ঘোষ শিলিগুড়ি শহর থেকে সমস্ত মেলা শহর থেকে সরিয়ে শহরের বাইরের ঠিকানায় করার ঘোষণা করেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন শহরে যানজট সমস্যা সমাধানে পার্কিং লট তৈরি করা প্রয়োজন ছিল। এই জায়গায় বিভিন্ন মেলা করা হতো বছরের বিভিন্ন সময়তে।
তবে শহরের ভেতরে মেলা হতে পারে না মেলাগুলিকে সরিয়ে নিতে হবে শহরের বাইরের কোন বিকল্প ঠিকানায়।পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন- শহরে বাড়ছে, একই সঙ্গে যান চলাচলের চাপ আছে। শহরের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে বিভিন্ন মেলাগুলিকে শহরাঞ্চলের দিকে বিকল্প জায়গায় স্থানান্তর করতে হবে। মেলা কমিটি আর উদ্যোক্তাদের বিকল্প জায়গা বেছে নিতে হবে। শহরে কেন্দ্রে মেলা করা যাবে না পরিষ্কার ঘোষণা মন্ত্রীর। অন্যদিকে তিনি জানান মেলার উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প জায়গা নিয়ে আলোচনা হবে। তবে মেলা উদ্যোক্তাদের বিকল্প জায়গায় সরে যেতে হবে। এই বিষয়ে পুষ্প প্রদর্শনী সহ বিভিন্ন মেলাগুলির শহর থেকে দূরে শহরাঞ্চলের স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়ে কানাঘুষো হলেও বইমেলা স্থানান্তর নিয়ে শহর জুড়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। শিলিগুড়ি বইমেলার উদ্যোক্তা উত্তরবঙ্গ বই মেলা কমিটির অন্যতম মধুসূদন সেন বলেন- আমরা এই বিষয় নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় যাব। উনার সঙ্গে দেখা করার জন্য আমরা যোগাযোগ করেছি, ব্যস্ত কর্মসূচির কারণে তিনি সময় দিতে পারেননি। বইমেলা শহর থেকে দূরে স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। কারন স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া খুদে ছাত্রছাত্রীরা বইমেলায় আসে। উত্তরবঙ্গের মধ্যে বৃহৎ মেলা হওয়ার কারণে পাশাপাশি জেলাগুলি থেকেও পড়ুয়ারা আসে এই মেলায় বইয়ের টানে। ক্রেতাদের মধ্যে বড় অংশের প্রবীন মানুষ যারা বইমেলায় আসেন। তিনি বলেন- বইমেলার মূল ভিড় ও ক্রেতারা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। ফলে শহরের বাইরে হলে ক্রেতাদের বই মেলা মুখি করা সম্ভব হবে না। বিকল্প জায়গা হিসেবে শহরের এয়ার ভিউ মোর সংলগ্ন সূর্যসেন পার্কের পাশের মেলাগ রাউন্ড কে আমরা প্রস্তাব হিসেবে মন্ত্রীর কাছে পেশ করবো। সেখানে যানজটের আশঙ্কা নেই, তবে কোনোভাবেই বইমেলা মেলার শহরের বাইরে স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। একি দাবি তুলছে বইপ্রেমী মহলও। কারন শহরের বাইরে হলে খুদে স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রবীনদের পক্ষে এই দূরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব হবেনা। পড়ুয়ারা কিছুটা সাশ্রয় খুঁজে নিয়ে বইমেলায় বই কেনাকাটা করতে ছুটে আসে। তাওয়াখালী হলে শহর থেকে এতটা দূর পড়ুয়াদের পক্ষে যাতায়াত ব্যয় সাপেক্ষ তো বটেই সময়েরও সমস্যা আছে। প্রবীণ মানুষেরা বয়সজনিত শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে শহরের বাইরে যাতায়াত করতে পারবেনা।
শিলিগুড়িতে বদলাবে বিশ্ব বাংলা শিল্পী হাটের
ঘোষণা পর্যটন মন্ত্ৰী শঙ্কর ঘোষের




