৩৬৫দিন। রোহন রায় চৌধুরী। যেভাবে আমানের মাঠে জর্ডানের অন্যতম সেরা ক্লাব দলের বিরুদ্ধে শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল সেই ম্যাচ জিতে শেষ করতে না পারা অবশ্যই তাদের মন খারাপ হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। মনে রাখতে হবে জর্ডান এই বিশ্বকাপেও খেলেছে। ছিল আর্জেন্টিনার গ্রুপে। আর যে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে প্রথম গোলটা করেছে আল মরদান সেই ফুটবলার আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও যথেষ্ট ভালো খেলেছিলেন। তাই এরকম একটা ম্যাচে এরকম একটা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এরকম পারফরমেন্স শুধু ইস্টবেঙ্গল নয়, গোটা ভারতবর্ষের ফুটবলের পক্ষেই একটা বিরাট ব্যাপার।
জর্ডনের মাটিতে দু’গোলের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট নিয়েই ফিরেছে ইস্টবেঙ্গল। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র গ্রুপ ডি-র প্রথম ম্যাচে আম্মান ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আল হুসেইনের সঙ্গে ২-২ ড্র করেছে লাল-হলুদ। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ দুইয়ে প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসাবে বিদেশের মাঠে পয়েন্ট পাওয়ার নজিরও গড়েছে মশাল বাহিনী।শুরুটা অবশ্য স্বপ্নের মতোই হয়েছিল। ৯ মিনিটে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দানি রামিরেজ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে তাঁর নেওয়া কর্নার থেকেই আনোয়ার আলি গোল করে ব্যবধান বাড়ান। বিরতির আগে ২ গোলে এগিয়ে যাওয়া ইস্টবেঙ্গল দ্বিতীয়ার্ধে সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি। মুহূর্তের দু’টি ভুল। তার মাশুল দিয়ে ২ গোল হজম করতে হয় হাবাসের দলকে। প্রথমটা বক্সের উপর থেকে চলতি বলে শটে গোল করলেন আলমার্দি। দ্বিতীয়টা পরিবর্ত আসাফ। দ্বিতীয় গোলের সময় ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্ডার সন্দীপ মান্ডি জায়গায় ছিলেন না। ম্যাচের পরে ইস্টবেঙ্গল মিডিয়া টিমকে রামিরেজ বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, আমরা ১ পয়েন্ট পেয়েছি। অবশ্যই ৩ পয়েন্ট পাওয়াই আমাদের লক্ষ্য ছিল। তবে এই রেজাল্টকেও সম্মান করতে হবে। জর্ডনের মাটিতে কোনও অ্যাওয়ে দলের পক্ষে ১ পয়েন্ট পাওয়াও সহজ নয়।” নিজের গোল এবং আনোয়ারের গোলের ক্ষেত্রে অবদান রাখার প্রসঙ্গে স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের মন্তব্য, “ইস্টবেঙ্গলের হয়ে এটা আমার দ্বিতীয় গোল।
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র মতো বড় মঞ্চে গোল করতে পেরে আরও ভালো লাগছে। আনোয়ারও আমার কর্নার থেকে দুর্দান্ত গোল করেছে।”ড্র করেই সন্তুষ্ট হয়ে থাকতে চাইছেন না রামিরেজ। তাঁর চোখ এখন কলকাতায় পরের ম্যাচের দিকে। আগামী ১৩ অক্টোবর ঘরের মাঠে ইরাকের আল-শর্তার বিরুদ্ধে খেলবে ইস্টবেঙ্গল। রামিরেজের কথায়, “আশা করছি, আল শর্তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচটি আমরা জিতে সমর্থকদের গর্বিত করতে পারব। কিছু জায়গায় এখনও উন্নতি প্রয়োজন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ড্রেসিংরুমেই আমরা সেই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি।” তবে জর্ডনের ক্লাবের বিরুদ্ধে ড্র দলকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলেই মনে করছেন তিনি।
রামিরেজের কথায়, “এই পারফরম্যান্স আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়াবে। তবে এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের ম্যাচে কাজে লাগাব। আমরা দল হিসাবে ভালো খেলেছি। ১৩ অক্টোবর ঘরের মাঠে সমর্থকদের পাশে পেলে আশা করি ইতিবাচক ফল করতে পারব।” দানি যা বলেছেন নিজের কথা। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা নতুন ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্ডার দিয়েগো জিভুলিচকে নিয়ে দারুন উৎসাহিত। তিনি যেভাবে দায়িত্ব নিয়ে লাল হলুদ ডিফেন্সের নেতৃত্ব দিয়েছেন সেটা প্রশংসা করার মতোই। যেমন অনুমান ক্ষমতা, সেরকম লিডারশিপ আছে। তাড়াহুড়ো করেন না। শেষ মিনিট পর্যন্ত বল দেখেন। একজন বড় ডিফেন্ডার এর যে কটা গুন থাকা দরকার সব আছে। সময় যত যাবে এই ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার চোট না পেলে আরও ভাল সার্ভিস দেবে। হাবাস পরিষ্কার জানিয়েছে তিনি কখনোই চান না তার ছেলেরা হীনমন্যতায় ভুগুক। তাই জর্ডানের বিরুদ্ধে জিততে না পারলেও যুবভারতীতে ইরাকের দলের বিরুদ্ধে তিনটি পয়েন্ট টার্গেট করবে লাল হলুদ।
জর্ডানের মাঠের লড়াকু পারফরমেন্স অনুপ্রেরণা, কলকাতায় ইরাকের দলকে হারাতে মরিয়া ইস্টবেঙ্গল




