৩৬৫ দিন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে রেল মেট্রো ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব ও দিল্লির পুলিশ কমিশনার। ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে রাজধানী দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঠেকানোর জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ যেভাবে মেট্রো স্টেশন বন্ধ করার পাশাপাশি দিল্লিগামী সমস্ত ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছিল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করেছিল তার জন্য সুপ্রিম কোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব ও দিল্লির পুলিশ কমিশনার। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে সিজেপির আন্দোলন ঘিরে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, শহরের এক প্রান্ত থেকে মানুষজন অন্য প্রান্তে যাতায়াত করেন। তাঁদের কথাও ভাবতে হবে। যাত্রীদের প্রাথমিক পরিষেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সেই সুবিধা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা যায় না।
শনিবার মেট্রো, ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না বলে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই কর্মসূচির আগেই দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আন্দোলনকারীরা যাতে জমায়েতে যোগ দিতে না-পারেন, তার জন্য দিল্লিমুখী ২৪০টি ট্রেন বাতিল করা হয়। বন্ধ করা হয় দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়। তাতে কেন্দ্রকে জবাব দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।’ নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে সিজেপির শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলের আহ্বান জানানোর পরে সুপ্রিম কোর্ট ট্রেন মেট্রো ও ইন্টারনেট বন্ধ না করার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে দিল্লিকে কার্যত জেলখানা বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে একাধিক মামলা। যার মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট অবমাননার মামলাও। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন সেদিনের ঘটনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। স্বরাষ্ট্রসচিবের দাবি, গত ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা ইচ্ছাকৃত ভাবে লঙ্ঘন করা হয়নি। বরং শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং অশান্তি এড়াতেই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সচিব সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দেন, ৯ অক্টোবর শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত কেবল রাইসিনা হিলের ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ওই সময় সেলুলার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হলেও ওয়াইফাই এবং ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালু রাখা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থিত হয়ে আজ নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন দিল্লির পুলিশ কমিশনার।
ককরোচ আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লির ট্রেন, মেট্রো, ইন্টারনেট বন্ধ
- khabar365din
- October 16, 2026
- 3:00 pm
- No Comments




