৩৬৫ দিন। মমতা তৃণমূলের নাম-নিশান মুছে গেছে। নতুনভাবে বিরাজ করছে সিপিএমের সঙ্গে। মহাশূন্যে থাকা সিপিএমের হাত ধরছে মমতা তৃণমূল। সিপিএমের অত্যাচারের বিরুদ্ধে মমতা তৃণমূলকে ভোট দেয় মানুষ। এখন সেই সিপিএমের হাত ধরেছে মমতা তৃণমূল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে বিতর্কের আবহে যেভাবে সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে প্রাথমিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি চালাচালি এবং ফোনালাপ হয়েছে তারপরে এভাবেই দুই দলকে এক বন্ধনীতে এনে তীব্র আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, এসআইআর ইস্যুতে সংবাদমাধ্যমের খবরকে সামনে রেখে মাঠে নামলেন। ক্ষয়িষ্ণু মহাশূন্যে বিচরণ করা সিপিআইএম, আর সিপিআইমের বিরুদ্ধে লড়াই করা মমতা তৃণমূল কংগ্রেস একে অপরের হাত ধরে গত কয়েকদিন ধরে সাংবাদিক সম্মেলন, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছে। নাম বদলেছে, ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীকও বদলেছে এবং দলও একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কাছে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। মানুষের দেওয়া বিপুল ম্যান্ডেটকে অস্বীকার করার চেষ্টা আসলে গণতান্ত্রিক রায়কে অসম্মান করার শামিল। তিনি নিজেও তৃণমূলে থাকাকালীন তৃণমূল নেতাকর্মীদের উপর সিপিএমের অত্যাচারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, যে সিপিএম-এর বিরুদ্ধে লড়াই করে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল, আজ মমতা তৃণমূল তাঁদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব করছে। বিধানসভাতেও তৃণমূল ও সিপিআইএমের বন্ধুত্ব দেখেছি, আর এখনও দেখছি। সিপিএম এখন তৃণমূলের বন্ধু। নতুন পার্টির নেত্রীর মুখেও আজাদি স্লোগান। ফাঁকা মাঠে দাঁড়িয়ে যেভাবে আজাদি আজাদি স্লোগান দিচ্ছেন, তার মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত হয়, আপনারা মানুষের জনাদেশ মানতে রাজি নন। নিজেরা আতঙ্কিত, ভীত, সন্ত্রস্ত।
শ্রীরামপুরে মমতার সভায় ১৫০ লোক
কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে শনিবার শ্রীরামপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 26 এর বিধানসভা পরবর্তী সময়ে প্রথম জেলা সফরে যে জনসভা হয়েছে তাতে টেনেটুনে ১৫০ দলীয় কর্মী সমর্থক ছিলেন বলে দাবি করে তীব্র ব্যঙ্গের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কার্যত জনশূন্য শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানের সভাতে ১৫০ জন লোক ছিল। প্রায় ২০০ জন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি ছিলেন। ১৭০ পুলিশ ছিল। সবমিলিয়ে সংখ্যাটা পাঁচশো হবে না। তার মধ্যেই উনি ঘণ্টা চারেক যে ভাষায় কথা বলে গিয়েছেন, ঠিক একই ভাষায় রেজিনগরে গিয়ে কথা বলেছেন একাধিক নির্বাচনে হারা সেলিম সাহেব। বারবার হেরেছেন। এবারের নির্বাচনে লড়ার রিস্ক নেননি।
২৭ লক্ষ নাম বাদের দায় মমতার
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে যে ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে তার দায় সম্পূর্ণভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কোনভাবেই এর দায় বিজেপি বা নির্বাচন কমিশনের নয়। আজ এমন দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, মমতার মামলাতেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জুডিসিয়াল অফিসাররা কাজ করেছেন। তাঁরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যে বিষয় নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেরাই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল, আদালতের নির্দেশে যে প্রক্রিয়া হয়েছে। আজ সেই বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়াকেই প্রশ্ন করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। কেরলে এসআইআর ভালো। পশ্চিমবঙ্গে খারাপ। আমরা ২০৮ আসন পেয়েছি। ওরা দু’পক্ষ ৮০। জনতার রায় মানতে পারছেন না মমতা। নাম ও প্রতীক নেই। দলটাই সাফ হয়ে গিয়েছে।
তিন নির্বাচন কমিশনারের ছবি দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী
মুখনির্বাচন কমিশনের জ্ঞানেশ কুমার বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য না শুনে স্বেচ্ছাচারীভাবে কমিশনের যাবতীয় সিদ্ধান্ত গত কয়েক মাস ধরে নিয়েছেন বলে বিরোধীদের যে দাবীকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা দেশে তার সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। গতকাল অর্থাৎ শনিবার জ্ঞানেশ কুমার সহ তিন নির্বাচন কমিশনার একসঙ্গে বসে যেভাবে প্রেস কনফারেন্স করেছেন আজ সেই ছবির প্রিন্ট আউট হাতে তুলে ধরে সল্টলেকের দলীয় সদর দপ্তর থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এসআইআর কারও একার সিদ্ধান্তে হয়নি। তিন নির্বাচন কমিশনারের সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিন কমিশনারের সম্মিলিত বৈঠকের ছবিই প্রমাণ করে এসআইআরের সিদ্ধান্ত একতরফা ছিল না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অযথা আক্রমণ করা হয়েছে। কেরলমে এসআইআর হলে ভালো, আর পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে তা খুব খারাপ। কংগ্রেসের কথা হল, কেরলে এসআইআর না হলে সিপিএম থেকে যেত। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তো এসআইআর তিতো। কারণ বহু কষ্টে কংগ্রেস ভোট কাটাকাটির সুযোগে ঢুকে পড়েছেন, কত দিন থাকবে জানি না। সিপিএম তো সোশ্যাল মিডিয়াতে আছে, টক শোতে আছে।
মমতা তৃণমূলের নাম নিশান মুছে গিয়েছে, তাই মহাশূন্যে থাকা সিপিএম-এর হাত ধরছে মমতা তৃণমূল – তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর




