২৪ ঘন্টা কারাবাসের পর মুক্ত নেহা, দীপকের

৩৬৫ দিন। শুক্রবার গ্রেফতার হয়েছিলেন শনিবার পিস বন্ডে সই করে ছাড়া পেলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে। দিল্লি পুলিশ দীপকে-কে শনিবার স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কোর্টে পেশ করে। সেখানেই তিনি ৫০ হাজার টাকার বন্ডে ছাড়া পান। মুচলেকা দিতে হয় এই মর্মে যে তিনি শান্তিপূর্ণ ভাবে চলবেন ও শান্তি বজায় রাখবেন। শুক্রবার দীপকের গ্রেফতারির পর ককরোচদের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল দিল্লি পুলিশের এই গ্রেফতারি সম্পূর্ণ বেআইনি। গ্রেফতার করার যে নিয়ম তাও পালন করা হচ্ছে না বলে দাবি করা হয়। শনিবার সকালেও ককরোচদের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয় অভিজিৎ কোথায় তা তারা জানেন না। দিল্লি পুলিশ তাকে গোপন আস্তানায় আটকে রেখেছে।‌ তার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আইনজীবীরাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। সৌরভ-রাঙ্কাদের মত তাকেও তিহাড় পাঠানো হবে কি না সেই নিয়ে যখন জল্পনা চলছে তখন বিকেলের দিকে দীপকে-কে আদালতে পেশ করে পুলিশ।‌ আদালতে জানানো হয় তার বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ এবং ১৭০ ধারায় নতুন মামলা দায়ের করে অভিজিৎ দীপকেকে প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট করা হয়। দীপকের তরফে জামিনের আবেদন জানানো হলে তা মেনে নেন বিচারক। তবে শর্ত দেন দীপকে-কে শান্তি বজায় রাখতে হবে। এদিকে মুক্তি পেয়ে শাহরুখ খানের ‘বীর জারা’ সিনেমার পোস্টার শেয়ার করেন অভিজিৎ। ছবির কাহিনি হল, শাহরুখ খান ২০ বছর কারাবাসের পর পাকিস্তানের জেল থেকে বেরিয়ে আসেন। সিজেপি নেতা পাকিস্তানের জেলকে তাঁর একদিনের কারাবাসের সাজার প্রসঙ্গে টেনে আনায় বিষয়টি সমাজ মাধ্যমে চর্চার বিষয় হয়েছে। ক্যাপসনে দীপকে লিখেছেন, ‘২৪ ঘন্টা ফোন ইন্টারনেট ছাড়া কেমন কাটলো…?’
মুক্ত আইসা নেত্রী নেহা-ও
দীপকের আগেই শুক্রবার আটক হওয়া আইসা নেত্রী নেহাকে মুক্তি দেয় দিল্লি পুলিশ। শনিবার সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। থানা থেকে বেরিয়েই দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে সুর চড়ান নেহা। তিনি বলেন, বেআইনিভাবে আন্দোলনকারীদের আটক করা হচ্ছে। ভোটার তালিকার বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাঁকে জেলে পাঠানোর দাবিও তুলেছেন। একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারী ছাত্র যুবদের আন্দোলনকে দমন করা যাবে না পুলিশ দিয়ে। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, দেশের ছাত্র যুবরা যন্তরমন্তর যাবে বললো মোদি সরকার সেখানে দুর্গ করে ফেলল যেই আমরা বললাম কনট প্লেস যাব সেখানেও ২০ হাজার আধা সেনা নামিয়ে দেওয়া হল! তাঁর প্রশ্ন ছাত্র যুবদের এত ভয় কেন?
রাঠীর নামে পরোয়ানা
ককরোচদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার শাস্তি! এবার ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে জারি হল গ্রেফতারি পরোয়ানা। প্রায় মাটি খুঁড়ে তুলে আনা হল সাত বছরের পুরনো মামলা। ২০১৮ সালে ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন বিজেপি সমর্থক বিকাশ পাণ্ডে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেছিলেন তিনি। ওই মামলায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। কিন্তু ধ্রুব দীর্ঘদিন জার্মানিতে থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে পারেনি আদালত। তিনি ভারতে ফিরতেই তাঁকে সমন পাঠিয়েছিল সাকেত আদালত। এবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হল। তবে রাঠীর স্বস্তির জায়গা হল, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও তা জামিন অযোগ্য নয় অর্থাৎ রাঠীকে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে হবে। পুলিশ গ্রেফতার করলেও তার জামিন আটকাবে না। এর আগে ১০ অক্টোবর ককরোচদের যন্তরমন্তর ২.০ কর্মসূচীতে যোগদানের আগে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও আটক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাঠি। পুলিশ তার মাকে নিগ্রহ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার আগে বেঙ্গালুরুতেও ককরোচদের কর্মসূচীতে যোগ দিয়েছিলেন রাঠী।

Scroll to Top