আজ আইএসএল শুরু ইস্টবেঙ্গলের, গোয়ার মাঠে প্রতিপক্ষ চার্চিল ব্রাদার্স

৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী । একটা সময় ছিল ভারতীয় ফুটবলে যখন বাংলা থেকে ফুটবলের পতাকাটা নিয়ে গিয়েছিল গোয়া। কিছুটা ডেমপো, আর কিছুটা চার্চিল ব্রাদার্স। ভারতীয় ফুটবলে প্রচুর দুর্দান্ত কোয়ালিটির ফুটবলার উপহার দিয়েছে চার্চিল।
ওডাফার মতো ভয়ংকর স্ট্রাইকার নাম করেছিলেন এই ক্লাবের হয়ে খেলে। সময় অনেক বয়ে গেছে। অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু চার্চিলের ফুটবলের প্রতি কমিটমেন্ট এবং লড়াই একই রকম রয়ে গেছে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই নিজেদের শক্তির পরিচয় দিয়েছে চার্চিল ব্রাদার্স। মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে প্রথমে গৌরব বোরার গোলে এগিয়ে যায় গোয়ার দল। পরে ম্যাচের শেষ দিকে কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড সেবাস্তিয়ান গুতিয়েরেসের নিখুঁত ফিনিশে জয় নিশ্চিত করে তারা।
একদিকে যেখানে ষষ্ঠী আনন্দে মাতোয়ারা বাংলা সেই সময়ে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ-এ নিজেদের অভিযান শুরু করছে ইস্টবেঙ্গল। আগামী রবিবার, ১৮ অক্টোবর অর্থাৎ, দ্বিতীয় সপ্তমীর দিনে গোয়ার ফতোরদা স্টেডিয়ামে চার্চিল ব্রাদার্সের মুখোমুখি হবে লাল-হলুদ ব্রিগেড। মহাষষ্ঠীর সকালে আয়োজিত প্রাক-ম্যাচ ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে এসে দলের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মুখ খুললেন প্রধান কোচ আন্তোনিও লোপেজ় হাবাস এবং ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি। আইএসএলের সফলতম কোচ আন্তোনিও লোপেজ় হাবাস শুরুতেই স্পষ্ট করে দেন যে, টুর্নামেন্টের শুরুটা ইতিবাচক হওয়া দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষ চার্চিল ব্রাদার্স সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চার্চিলকে আই-লিগের সময় থেকেই আমি খুব ভালো ভাবে জানি। আইএসএল-এ নিজেদের ওরা নিজেদের প্রমাণ করতে সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপাবে। ফলে ম্যাচটি আমাদের জন্য কঠিন হতে চলেছে। তবে প্রতিপক্ষকে পূর্ণ সম্মান জানিয়েও আমাদের লক্ষ্য থাকবে ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়া।’ দলের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে হাবাস জানান, প্রায় দুই-তিন মাসের দীর্ঘ প্রাক-মরশুম প্রস্তুতির পাশাপাশি ডুরান্ড কাপ, আই এফএ শিল্ড ও এএফসির-র বড় বড় ম্যাচ খেলে তাঁর দল পুরোপুরি প্রস্তুত। টানা ম্যাচ খেলার ক্লান্তি নিয়ে ভাবতে নারাজ কোচ; তাঁর মতে, বড় স্কোয়াডের শক্তিতে ভর করেই দল সব প্রতিযোগিতায় সেরা পারফরম্যান্স দিতে তৈরি।সাম্প্রতিক এএফসি ম্যাচে আল শোর্তার বিরুদ্ধে এগিয়ে গিয়ে হার এবং নতুন বিদেশি ডিফেন্ডার দিয়েগো জ়িভুলিচের পারফরম্যান্স নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দেন কোচ। তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘আল শোর্তা কোনও সাধারণ দল নয়, ওদের স্কোয়াডে ইরাক জাতীয় দলের ৮ জন নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন। ইরাকের ফিফা র‍্যাঙ্কিং ৫৮, সেখানে ভারতের অবস্থান ১৩৮। পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল খাওয়া দুর্ভাগ্যজনক হলেও দল পুরো লড়াই করেছে।’
দিয়েগোর পাশে দাঁড়িয়ে হাবাস বলেন, ‘দিয়েগো দলে নতুন এসেছে। ভারতীয় ফুটবলের আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ওর কিছুটা সময় লাগবেই। ও উঁচু মানের ফুটবলার এবং ওর ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’ব্যাকলাইনে দিয়েগোর সঙ্গে বোঝাপড়া নিয়ে আত্মবিশ্বাসী জাতীয় দলের ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি। আনোয়ার বলেন, ‘ম্যাচ যত এগোচ্ছে, মাঠে আমাদের বোঝাপড়া ততই বাড়ছে। কিছু ছোটখাটো ভুলত্রুটি হয়েছে ঠিকই, তবে অনুশীলনে আমরা সেই ফাঁকফোকর মেরামত করতে কঠোর পরিশ্রম করছি। দিয়েগো দ্রুতই ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নেবে।’ সব মিলিয়ে আজ বিকেল পাঁচটা থেকে গোয়ার মাঠে অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষার সামনে ইস্টবেঙ্গল এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বর্তমান ফর্মের বিচারে কিছুটা হলেও এগিয়ে কলকাতার ক্লাব। কিন্তু ঘরের মাঠে চার্চিল সব সময় কঠিন চ্যালেঞ্জ।

Scroll to Top