৩৬৫ দিন। ফুটবল, শিক্ষা ও বিজ্ঞানকে কি কখনো এক সুতোয় গাঁথা সম্ভব? কখনো কখনো কারও জন্য সেটা সম্ভব হয়। এই যেমন ধরুন, চলতি মাসেই জাতীয় দল থেকে অবসর নেন লিওনেল মেসি। তখন তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেয় বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়। এবার পেরুর দক্ষিণ-মধ্য অঞ্চলে সমতলভূমি থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিটার উঁচুতে জন্ম নেওয়া একটি সুগন্ধি গাছের ফুলের নাম মেসির নামে রেখেছেন দেশটির একদল বিজ্ঞানী। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, আন্দিজ পর্বতমালায় জন্ম নেওয়া এই উদ্ভিদ বিজ্ঞানের কাছে এত দিন অচেনা ছিল। মেসির সম্মানে উদ্ভিদটির নামকরণ করা হয়েছে ‘সালভিয়া মেসি’।
আন্দিজ পর্বতমালার যে অংশ পেরুতে অবস্থিত, সেখানে পাথুরে ঢালে জন্ম নেওয়া এই উদ্ভিদের পাপড়িগুলো নীল ও সাদা রঙের। একদল উদ্ভিদ গবেষক এই ফুল গাছটির অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেন। এটি ল্যামিয়াসি পরিবারের একটি গুল্মজাতীয় সুগন্ধি উদ্ভিদ। এই একই পরিবারে তুলসী, পুদিনা, রোজমেরি এবং সাধারণ সেজের মতো গাছগুলো রয়েছে। পেরুর সান মার্কোস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের পল গঞ্জালেস, আর্জেন্টিনার স্বাধীন গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং পেরুর হুরারাঙ্গো নেচারের জ্যঁ কাপচা-রামোস এই প্রজাতির উদ্ভিদটি আবিষ্কার ও বর্ণনা করেন। তাঁরা বৈজ্ঞানিক জার্নাল ফাইটোতাক্সায় তাঁদের গবেষণা প্রকাশ করেছেন। মায়মোনাইডস ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ন্যাচারাল, এনভায়রমেন্টাল অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সায়েন্সেস এবং আজারা ফাউন্ডেশনের গবেষক ক্লদিও বের্তোনাত্তি বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক গবেষণা মানুষেরই সৃষ্টি, তাই কোনো প্রকৃতিবিদ বা বিজ্ঞানী লিওনেল মেসি ব্যক্তিত্বের মতো গুণাবলি ও আবেগের পরিমণ্ডলের বাইরে গিয়ে কাজ করেন না। এটিই ব্যাখ্যা করে, কেন বিভিন্ন অঞ্চলের এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রাণী বা উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এই শ্রদ্ধাঞ্জলিতে এক হয়েছেন, যা তাঁর নামকে অমর করে রাখবে।’ তবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতার নামে কোনো প্রজাতির নাম রাখার ঘটনা এই প্রথম নয়। আর্জেন্টিনার সালতায় বারিতু জাতীয় পার্কে একটি ছত্রাকের নাম রাখা হয় ‘সেরকোপেমসেস মেসি’। সেখানে পাতাগোনিয়ান প্রজাতির মাকড়সার নাম ‘আকান্থোগোনাটাস মেসি’।
মেসির নামে আন্দিজের বিরল ফুলের নামকরণ ‘সালভিয়া মেসি’
- khabar365din
- October 17, 2026
- 1:56 pm
- No Comments






