তন্ত্রসাধনায় সিদ্ধিলাভ করতে শিশু বলি!

৩৬৫ দিন। ঘুমন্ত নাতিকে তুলে নিয়ে গিয়ে কুয়োয় ফেলে খুন করল দাদু! পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডিতে নৃশংস হত্যাকান্ড। পুলিশের অনুমান ঘটনার পেছনে তন্ত্রসাধনার যোগ থাকতে পারে। সন্দেহের বাইরে রাখা হচ্ছে না শিশুর মাকেও। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত দাদু রাজেন প্রামাণিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, কয়েকদিন আগে একটি কুয়ো থেকে এক শিশুর দেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। ওই শিশুর মা স্থানীয় একটি ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাকে আটক করে। যদিও ওই ছেলেটির অ্যালিবাই রয়েছে। অর্থাৎ ঘটনার দিন ও আনুমানিক যখন শিশুটিকে কুয়োয় ফেলা হয় তখন সে অন্যত্র ছিল এবং তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে ফলে পুলিশ কোনো ভাবেই ওই ছেলেটির সঙ্গে শিশু খুনের যোগসূত্র তৈরী করতে পারছিল না। তখন অন্য পথে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
বেশ কিছু সূত্র ধরে তদন্ত এগোতেই পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে শিশুটির দাদু রাজেনের ওপর। তাকে থানায় ডাকা হলে সে হাজিরা না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল বলে অভিযোগ। শেষে তাকে আটক করে পুলিশ টানা জেরায় তার বক্তব্যে নানা রকম অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পুলিশ‌ সূত্রে খবর, রাজেন নিজে খুনের কথা স্বীকার না করলেও পুলিশ নিশ্চিত এই ঘটনায় সে যুক্ত। এ ব্যাপারে অকাট্য তথ্য প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। তবে ঘটনা অন্য মোড় নিয়েছে খুনের মোটিভ সামনে আসতে। পুলিশের সূত্র বলছে, রাজেনের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তন্ত্রসাধনার সঙ্গে যুক্ত। তাদের পরিবারে একাধিক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। যে কুয়ো থেকে এবারের শিশুটির দেহ পাওয়া যায় সেখানে আগেও শিশুর দেহ উদ্ধার হয়েছে। তাই অসম্ভব নয় যে তন্ত্র সাধনায় সিদ্ধি লাভের জন্য নিজের নাতিকেই বলি দিয়েছে রাজেন। তবে এখন-ই এটি নিশ্চিত করে বলতে চাইছে না পুলিশ।‌ তাছাড়া মৃত শিশুর মাকেও সন্দেহের বাইরে রাখা হচ্ছে না। কেন সে পাড়ার একটি ছেলের ঘাড়ে খুনের মত মারাত্মক অভিযোগ করল তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের সন্দেহ, এমন হতেই পারে আসল ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই মহিলা ইচ্ছাকৃত অন্য একটি ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যাতে পুলিশ‌ ‌বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এই সব দিক এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Scroll to Top