৩৬৫ দিন। যতদিন মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারী থাকবেন, ততদিন আমি আর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পা রাখব না। প্রয়োজনে নওদার মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসর নেব। এভাবেই মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণের পরের দিন জেল থেকে ছাড়াবে কাঁদতে কাঁদতে ঘোষণা করলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। হুমায়ুন স্পষ্ট ঘোষণা করেন, বিধায়ক হিসেবে নওদাবাসীর কাজ করে গেলেও বিধানসভার অধিবেশন সম্পূর্ণ বয়কট করবেন তিনি। বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি, হাউস কমিটি কিংবা স্পিকারের ডাকা কোনও সর্বদলীয় বৈঠকেও তাঁর সংরক্ষিত ৮৮ নম্বর আসনে তিনি বসবেন না। পুলিশ দিয়ে ভোট লুট করানোর মারাত্মক অভিযোগ এনে হুমায়ুন জানান, আগামী দিনে এলাকার মানুষের অনুমতি নিয়ে তিনি বিধায়ক পদ ত্যাগ করার পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতি থেকে চিরতরে সরে দাঁড়াতে পারেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর, দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরবর্তীতে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দিয়ে নিজের ছেলেকে সেখানে প্রার্থী করেন। তবে গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার রেজিনগরের ভোটগ্রহণের দিন সকালে উসকানিমূলক মন্তব্য, বিশৃঙ্খলা তৈরি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অশালীন আক্রমণের অভিযোগে তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করে। দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টা আটক থাকার পর আজ বুধবার সকালে ছাড়া পান তিনি।
আগামী ৯ তারিখ ফল ঘোষণার আগে আজ চোখে জল নিয়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর একরাশ ক্ষোভ ও অভিমান উগরে দিয়ে দাবি করেন, রেজিনগর উপনির্বাচনে বিপুল জয় পেতে চলেছে বিজেপি। সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনেই কেঁদে ফেলে তিনি বলেন, যে দেশে গণতান্ত্রিক নিয়ম উপেক্ষা করে একজন সাব-ইন্সপেক্টর রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যানকে নিজস্ব পার্টি অফিস থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর দয়ায় আমি রাজনীতি করতে আসিনি।
‘আমি রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসর নেব, শুভেন্দু অধিকারী যতদিন মুখ্যমন্ত্রী আছেন বিধানসভায় পা রাখবো না’ কাঁদতে কাঁদতে ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের
- khabar365din
- October 7, 2026
- 8:25 pm
- No Comments




