৩৬৫ দিন। নয়াদিল্লি। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ বৈধ ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা আইন রাতারাতি বদলে ফেলে যেভাবে কেন্দ্রের মোদি সরকার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ প্যানেল থেকে ছেঁটে ফেলেছিল সেই আইনের বৈধতাও খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট। আজ নতুন করে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে এমন নির্দেশ দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং বাকি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইনকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলাটির শুনানি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চে চলছিল৷ এই মামলা সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানো হবে কি না, তা নিয়েও গত ২৩ সেপ্টেম্বর দু রকম নির্দেশ দিয়েছিলেন দুই বিচারপতি৷ দুই বিচারপতির এই পরস্পর বিরোধী নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করার আর্জি জানিয়ে রিকল অ্যাপ্লিকেশন জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ৷
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের জন্য ২০২৩ সালে যে আইন পাশ করানো হয়, সেই আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলা দায়ের হয় সুপ্রিম কোর্টে৷ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগকারী প্যানেল থেকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়ার হয় ২০২৩ সালের আইনে৷ মূলত এই বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের হয়েছিল৷ এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার এই মামলাগুলি বৃহত্তর সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানোর আর্জি জানায়৷ এর পরই বিষয়টি সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানো নিয়ে দুই বিচারপতির মতবিরোধ দেখা দেয়৷
দ্বিধাবিভক্ত রায়ের পর্যালোচনা হবে
কয়েকদিন আগেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি ভিন্নমত পোষণ করেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত যেখানে রাতারাতি বদলে ফেলা এই নতুন আইনের শর্তগুলি দেখে রীতিমত বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের প্যানেল টাও হওয়া উচিত নিরপেক্ষ। কিন্তু যদি কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত আরেকজন মন্ত্রী থাকেন তাহলে কোন যুক্তিতে কী এমনটা স্বপ্নেও ভাবা সম্ভব যে প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত ক্যাবিনেট পর্যায়ের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করবেন? সেক্ষেত্রে এই কমিটিকে নিরপেক্ষ বলা সম্ভব নয়। যদিও বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বিরুদ্ধ মত পোষণ করেছিলেন আর এক বিচারপতি সতীশ শর্মা। তবে পরবর্তীকালে দেখা যায় বিচারপতি সতীশ শর্মার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়ে গিয়েছে। কারণ বিচারপতি সতীশ শর্মার ছেলে নির্বাচন কমিশনের প্যানেল ভুক্ত বেতনভুক আইনজীবী। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরে দেশ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয় এবং তা আজ আরও একবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে উপস্থাপিত হলে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের আইন কতখানি বৈধতা খতিয়ে দেখার জন্য বৃহত্তর বেঞ্চের শুনানির আশ্বাস দেন।




