৩৬৫ দিন।শুভায়ন বন্দোপাধ্যায় ও উত্তরবঙ্গ ব্যুরো।দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বক্সার জঙ্গলে বাঘিনী আনা নিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বনদফতর। ইতিমধ্যেই বিহারের বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভে বাঘিনী চিহ্নিতকরণ করেছে র্যাপিড রেসপন্স টিমের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যরা। এদিন বিকেলে বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভে একটি তিন বছরের বাঘিনী ধরা পড়েছে, জানিয়েছেন বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও। ট্র্যাপ ক্যামেরা এবং ড্রোনের সাহায্যে বাঘিনীর গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল বনকর্মীরা। অবশেষে বাঘিনীকে ঘুমপাড়ানি গুলি করে আয়ত্তে আনা হয়েছে। আগামীকাল বক্সার জঙ্গলে বাঘিনী নিয়ে আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
বিহারের জঙ্গলে মাচান তৈরি করে তার ওপর থেকে বাঘিনীর গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। বায়ু সেনার বিমানে বিহারের বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভ থেকে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর এয়ারবেস হয়ে এয়ারলিফটের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারা এয়ারবেসে নিয়ে আসা হবে বাঘিনীকে। সেখান থেকে অ্যানিমাল অ্যাম্বুলেন্সে করে বক্সার টাইগার রিজার্ভে বাঘিনীটিকে আনা হবে। বক্সয় বাঘিনী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জঙ্গলে পর্যটকদের গতিবিধির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজ্য বন দফতর।
খারাপ আবহাওয়া
খারাপ আবহাওয়ার কারণে এতদিন বিহারের বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভে বাঘিনীকে সম্ভব হচ্ছিল না। জঙ্গলে একনাগাড়ে বৃষ্টি হয়ে চলছিল। রবিবার থেকে আবহাওয়ার খানিকটা উন্নতি হওয়ার কারণে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত র্যাপিড রেসপন্স টিম নতুন করে বাঘিনী ধরার কাজ শুরু করে। বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভের ভিতরে ৭টি মাচান তৈরি করা হয়। সেখান থেকেই বাঘিনীর গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল বিশেষ প্রশিক্ষণ দলের সদস্যরা। এই অভিযানে রাজ্য বনদপ্তর এর পাশাপাশি জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ, ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া এবং বিহারের আধিকারিকেরাও যুক্ত রয়েছেন।
বায়ু সেনার বিমানে করে বাঘিনী আনা হবে
বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাঘিনীকে বিহার থেকে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর বিমানবন্দর পর্যন্ত নিয়ে আসা হবে। সেখান থেকে বায়ুসেনার বিমানে করে বাঘিনীকে হাসিমারা এয়ারফোর্স স্টেশনে নিয়ে আসা হবে। সেখান থেকে সড়কপথে বক্সার জঙ্গলে আনা হবে বাঘিনীকে। বাঘিনীকে নিয়ে আসার বিষয়ে ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তাদের সম্মতি দিয়েছে। সূত্রের খবর, হেলিকপ্টারে করে আগে বাঘিনী আনার কথা থাকলেও শেষমেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বায়ু সেনার বিমানে করেই বক্সার জঙ্গলে বাঘিনী আনা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হেলিকপ্টারের পাখার আওয়াজে বাঘিনী আনার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে, তাই বায়ু সেনার বিমানে করে বাঘিনী আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বক্সার জঙ্গলে পর্যটকদের নিষেধাজ্ঞা
রাজ্য বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২ অক্টোবর বক্সায় আনুষ্ঠানিক ভাবে বাঘিনী ছাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে ইতিমধ্যেই প্যান্ডেল তৈরির কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে, সেখান থেকে জঙ্গলে বাঘ ছাড়ার দৃশ্য সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে রাজ্য বন দফতর। বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার আগে বাঘিনীটিকে রেডিও কলার পরিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ারের বক্সা টাইগার রিজার্ভে পর্যটকদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বক্সা টাইগার রিজার্ভে সাধারণ পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধ বলে জানিয়েছে রাজ্য বন দফতর। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, বিহার থেকে বাঘিনী বক্সার জঙ্গলে নিয়ে এসে পুনর্বাসনের জন্যই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভ থেকে বাঘিনী এনে আনুষ্ঠানিক ভাবে আগামী ২ অক্টোবর বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ বিশিষ্ট জনেরা। বক্সার জঙ্গলে বাঘের প্রজনন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বক্সায় বাঘিনী এনে নির্দিষ্ট এনক্লোজারের এর মধ্যে তাকে রাখা হবে। ইতিমধ্যেই জঙ্গলের ভেতরে চার ধারে বেষ্টনী দিয়ে উন্নতমানের এনক্লোজার তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে বাঘ পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি জোর কদমে চলছে। জঙ্গলের ভেতরে কোর এরিয়ার মধ্যে থাকা মানুষদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাঘিনী আনার জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিহারের বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভে পৌঁছায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দল।
বিহারের বাল্মিকী অভয়ারণ্য থেকে বাংলার বক্সায় নতুন ঠিকানায়





