৩৬৫ দিন। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’ এস আই আর নিয়ে বিস্ফোরক দাবি সম্বলিত প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের জ্ঞানেশ কুমার প্রকাশ্যে আসেননি। তার কর্মসূচিও বাতিল হয়। শনিবার আচমকা দুই কমিশনার সান্ধু ও জোশী, যে দুজন এস আই আর প্রক্রিয়া নিয়ে জ্ঞানেশের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সরব হয়েছিলেন বলে খবরে প্রকাশ তাদের দু’পাশে বসিয়ে ছবি পোস্ট করে জ্ঞানেশ জানান দুই কমিশনারকে নিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন সেই বৈঠকে আবার ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারপর এক দুই তিন করে সেই সব সিদ্ধান্ত লিখিত আকারে জানানো হয়। এবার জ্ঞানেশ কুমারের শনিবারের বৈঠকের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুললো কংগ্রেস। ককরোচ জনতা পার্টি বলছে, দাবি তো একটাই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। বৈঠক করে কী হবে! আপনাকে পদ ছাড়তেই হবে না হলে ‘যন্তর মন্তর পার্ট ২’ রেডি আছে।
কংগ্রেসের প্রশ্ন
শনিবারের বৈঠক প্রসঙ্গে কংগ্রেসের তরফে বেশ কিছু প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যেমন – ১ জ্ঞানেশ কুমার এস আই আর দুর্নীতিতে অভিযুক্ত। এই অভিযোগ বিরোধী সব দল আগে বহু বার করেছে এবার অভিযোগ করেছেন তাঁর সহকর্মী সমমর্যাদার দুই নির্বাচন কমিশনার। একজন অভিযুক্ত নীতি নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে বেআইনি ভাবে বৈঠক করেন কী করে?
২ আশ্চর্যের বিষয় হল যে দুই কমিশনারের অভিযোগে তোল পাড় পড়ে গিয়েছে তারাই বা জ্ঞানেশের ডাকা বৈঠকে গেলেন কেন? কংগ্রেসের প্রশ্ন তাহলে যেভাবে গান পয়েন্টে রেখে এস আই আর করতে বাধ্য করা হয়েছিল স এরকম ভাবেই কী চাপে ফেলে দুই কমিশনারকে বাধ্য করা হল জ্ঞানেশের সঙ্গে বৈঠকে বসতে এবং এক সঙ্গে ছবি তুলতে?
৩ এস আই আর মামলা এখনো সুপ্রিমকোর্টে বিচারাধীন।শীর্ষ আদালতের সম্মতি না নিয়ে কী ভাবে কমিশন এস আই আর সংক্রান্ত নানা বিষয়ে পরিবর্তন করে ফেলল? এই নিয়ে তো মামলাকারীদের বক্তব্য থাকতে পারে। কেন সুপ্রিমকোর্টকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে?
৪ কংগ্রেসের অভিযোগ, শনিবারের বৈঠক আসলে মোদি-শাহের নির্দেশে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা। এই বৈঠক থেকে এটা প্রমাণ হয়ে গেল কমিশন ঘরের অশান্তি ধামাচাপা দিতে কতোটা মরিয়া। কিন্তু প্রশ্ন তো থেকেই যাচ্ছে জ্ঞানেশ কুমার এক রোখা হয়ে কারোর কথা না শুনে দড়ি ছেঁড়া হয়ে কেন এস আই আর করতে গেলেন? কার নির্দেশে? কমিশন যে এত লম্বা বিবৃতি দিল সেখানে সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের নাম নেই কেন?
ককরোচদের বক্তব্য
ককরোচ জনতা পার্টি শনিবারের বৈঠককে গুরুত্ব-ই দিতে নারাজ। অভিজিৎ দীপকে, রাঙ্কা, সৌরভ দাসরা বলছেন, তির এখন হাতের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে। এস আই আরে যে ভয়াবহ গোলমাল পাকানো হয়েছে কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে অন্যায় ভাবে তা এখন দিনের আলোর মত পরিষ্কার। এখন আর দুই কমিশনারকে পাশে বসিয়ে ছবি তুলে হাম সাথ সাথ হ্যায় বললেও কিছু হবে না। দাবি এখন একটাই জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে হবে। হয় উনি পদত্যাগ করুন না হলে তাকে সরানো হোক। শুধু সরালেই হবে না যে অন্যায় বেআইনি কাজ তিনি করেছেন তার জন্য তাকে শাস্তিও পেতে হবে। সব রকম রক্ষাকবজ তুলে নিয়ে জ্ঞানেশকে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। দেশের সঙ্গে গদ্দারির শাস্তি জেল যাত্রা, সেটাই ওর প্রাপ্য। ককরোচদের হুঁশিয়ারি, দাবি পূরণ না হলে ফের তারা আন্দোলনে নামছেন। ২ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু হচ্ছে। যন্তর মন্তর সিজন ২ তৈরী আছে। এবার কেন্দ্রের সরকার ভেবে দেখুক তারা কি করবে। কোনো ভাবেই এখন আর চিঁড়ে ভিজবে না।




